বসন্ত উৎসব ঘিরে বিতর্কের শিরোনামে রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়। অনুষ্ঠানের একাধিক ছবিতে রবীন্দ্রনাথের গানকে অশ্লীলভাবে তুলে ধরার ছবি নিমেশেই ভাইরাল হয়ে যায়। মেয়েদের খোলা পিঠে অশ্লীল ছবি। এই ছবি দেখে রীতিমতো সুর চড়িয়েছেন নেটিজেনরাও। তীব্র ধিক্কার ছড়াচ্ছে চারিদিকে। ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ইস্তফা দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সব্যসাচী বসু রায় চৌধুরী।
বৃহস্পতিবার রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে বসন্ত উৎসব সেলিব্রেশনের বেশকিছু বিতর্কিত ছবি বিটি রোড ক্যাম্পাস থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। উৎসব শেষ হতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয় বিতর্কিত ছবি।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল ছবি প্রসঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, “বাংলার লজ্জা, বাংলার সংস্কৃতির লজ্জা। এমন বিকৃতি বর্তমান সময়ে চলা পরিস্থিতিরই প্রতিফলন”। এমনটা জানিয়ে লজ্জায় মাথা হেঁট হয়ে যাচ্ছে।
আজ শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য জানিয়েছেন, আচার্য এবং রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রীকে তিনি ইস্তফাপ্ত্র পাঠিয়েছেন। তবে শিক্ষামন্ত্রীর তরফে জানা গিয়েছে, কোনও ইস্তফাপত্র এখনও এসে পৌঁছয়নি।
রবীন্দ্রনাথের গানকে অশ্লীলভাবে উপস্থাপনায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন শিল্পীমহলের একাংশ। নিন্দার ঝড় তুলেছেন রবীন্দ্রসংগীত শিল্পীরা। গায়িকা শ্রাবণী সেনও এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন। তিনি এক সংবাদমাধ্যমের কাছে বলছেন, আমি ভাবতে পারছি না যে এমন হতে পারে। ওরা যে বিশ্ববিদ্যালয়ের নামই ছোট করল তা বুঝতে পারল না! আমার মনে হয় পরের বার থেকে এইসব বন্ধ করে দেওয়া উচিত। এটি খুবই দুঃখজনক। আমি ধিক্কার জানাই।
অন্যদিকে, গায়িকা ইমন চক্রবর্তী তীব্র নিন্দা করে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্টের মাধ্যমে বিরক্তি প্রকাশ করেছেন। তিনি এই বিশ্ববিদ্যালয়েরই প্রাক্তনী। এক সংবাদমাধ্যমের কাছে ইমন চক্রবর্তী বলছেন, আমরা যখন ছিলাম নিজেরাই বসন্ত উৎসব পালন করতাম। আর আজ ৯ বছর পরে যা হচ্ছে তাকে লজ্জায় মাথা হেঁট হয়ে যাচ্ছে। বাংলার সংস্কৃতি কোন জায়গায় পৌঁছেছে এর থেকেই বোঝা যায়। যিনি বাংলাকে সারা বিশ্বের কাছে গর্বিত করেছেন তাঁকে নিয়ে এই সব বন্ধ হওয়া উচিত। আমি ঘটনাটিতে খুবই বিরক্ত হয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষের শীঘ্রই এর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।




