কাফির-মুশরিকদের অনুকরণে পোশাক পরিধান ইসলামে হারাম

কাফির-মুশরিকদের অনুকরণে পোশাক পরিধান ইসলামে হারাম

ইসলামে কাফির, মুশরিক ও পাপাচারীদের অনুকরণে পোশাক পরিধান করা হারাম।  গ্রহণ করা বৈধ কিন্তু পরিধান নিষিদ্ধ। পুরুষের জন্য স্বর্ণখচিত ও রেশমি কাপড় পরিধান করাও নিষিদ্ধ।

এছাড়াও ইসলামে খোদ কাপড় গ্রহণ করা নিষিদ্ধ ও নাজায়েজ। যেমন—অবৈধ অর্থে কেনা কাপড়, এমন পাতলা কাপড়, যার ফলে লজ্জাস্থান প্রকাশ পায়, আঁটসাঁট পোশাক, যার ফলে বিভিন্ন অঙ্গের অবস্থান ও দৈহিক গঠন স্পষ্ট বোঝা যায়।

পুরুষের জন্য টাখনুর নিচে কাপড় পরিধান করা হারাম। নারীদের জন্য হাতের কবজি, পায়ের টাখনু ছাড়া অন্য অঙ্গ প্রদর্শন করা ও মাথার চুল খোলা রাখা নিষিদ্ধ। খোদ কাপড়টি গ্রহণ এবং এর পরিধানের পদ্ধতিও সঠিক। কিন্তু এই কাপড় পরিধানের উদ্দেশ্য ও নিয়ত বিশুদ্ধ নয়। যেমন—খ্যাতি কিংবা লোক দেখানোর জন্য পোশাক পরিধান করা।

যেসব পোশাক দিয়ে লজ্জাস্থান আবৃত হয় না, ইসলামে সেগুলোকে পোশাকই বলা হয় না—অর্থমূল্য ও সৌন্দর্য প্রকাশে তা যতই অভিজাত হোক না কেন। কেননা এর মাধ্যমে পোশাকের আসল উদ্দেশ্যই অর্জিত হয় না। (তাকমেলায়ে ফতহুল মুলহিম : ৪/৭৭)

যে ব্যক্তি কোনো নারীর পোশাক নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করে, অতঃপর তার দৈহিক গঠন দেখতে থাকে, সে জান্নাতের ঘ্রাণও পাবে না। তাই এমন কাপড় পরিহিত কাউকে দেখাও নিষিদ্ধ। কেননা এটি নিছকই কাপড় দেখা নয়; বরং সতরের অঙ্গগুলো দেখার শামিল। (রদ্দুল মুহতার : ৬/৩৬৬)

আল্লামা ইউসুফ লুদয়ানভি (রহ.) লিখেছেন, যদি শাড়ি এভাবে পরিধান করা হয় যে তাতে পুরো দেহ ঢেকে ফেলা যায়, তাহলে শাড়ি পরিধানে কোনো অসুবিধা নেই। কিন্তু আজকাল হাজারো নারীর মধ্যে হাতে গোনা কয়েকজন পুরো শরীর ঢেকে শাড়ি পরে থাকেন। তাই শাড়ি পরে যেহেতু শরয়ি পর্দা রক্ষা করা যায় না। সুতরাং শুধু শাড়ি পরিধান করে নারীদের জন্য বাইরে বের হওয়া বৈধ নয়। তবে পুরো শরীর ঢেকে রাখার শর্তে বৈধ। (আপ কে মাসায়েল আওর উনকা হল : ৮/৩৬৬)

নারী-পুরুষের সতর কতটুকু?

পুরুষের সতর নাভি থেকে হাঁটুর নিচ পর্যন্ত। নারীদের চেহারা, পা ও দুই হাতের কবজি ছাড়া পুরো শরীর সতর। (যদিও এই তিনটি অঙ্গ পর্দার বিধানের অন্তর্ভুক্ত)

সতর ঢাকার জন্য তিনটি বিষয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এক. পোশাক দ্বারা সতরের অঙ্গগুলো ভালোভাবে ঢেকে ফেলতে হবে। দুই. পোশাকটি মাত্রাতিরিক্ত পাতলা হতে পারবে না। তিন. আঁটসাঁট পোশাক হতে পারবে না।

লেখক : শিক্ষক, মাদরাসাতুল মদিনা, নবাবপুর, ঢাকা

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Kishori
সংবাদ প্রতিনিধি

Kishori

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।