একজন ফুলির রোমাঞ্চ

এইচ ডি বর্মনঃ  ওফুলি, তুই কাঁপতিছিস ক্যা? আমিতো তোর কাছেই। কিসির ভয় পিিচ্ছস তুই? চোখ মেলে তাকা । দেখ, আমারে দেখ। এই জাগাডা কত সুন্দর দেখ। আমরা কনে আইচি জানিস? হ্যত এরাম কল্লি আমি হ্যানতে চলে যাবানে কলাম।

কথাটা বলে উঠতে যাচ্ছিল দাসু। ফুলি তখন হাতটা চেপে ধরল দাসুর । সে দেখল ফুলি চোখ খুলেছে । কিন্তু তার চোখে মুখে কি যেন আতংক। এমনিতেই শরীরটা দুর্বল। সেই দহ্মিন পশ্চিম বঙ্গ থেকে এসেছে ঢাকার গাজীপুরে। তাও আবার ট্রেনে। সেই উত্তর বঙ্গ । জীবনে এর চার ভাগের এক ভাগ পথ ও একটানা ভ্রমন করেনি ফুলি। এই দীর্ঘপথ ভ্রমনে ক্লান্ত হতেই পারে। কিন্তু ভয় কিসের? এসব ভেবে দাসু আবার বলে-

তোর কি হইচেরে ফুলি? বাড়ির কতা মনে পড়িচে?  না আমার সাথে আসা ভুল হইচে ভাবতিছিস? এট্টু খুলে কদিন।

দাসু ভাই তুমি আমার ধর্মেও ভাই । এট্টা কতা কওদিন, তুমি আমারে অপহরন করনিতো? আমাওে তুমি-থাম শালা হারামী। এই কোটে উকিল ম্যসটেটের সামনে দাঁড়ায়ে তোওে বিয়ে কওে আনলাম। আর আমাওে ধর্মেও ভাই বানাচ্ছিস। তোর মতলব কি? তুই কি আর কারুর-

ও কতা তুমি কইয়েনা দাসু ভাই।

ঘুঁস শালা, আবার ভাই মারাচ্ছিস?

তু রাগ করেনা দা॥ সত্যি আমার খুব ভয় হচ্ছে। এই যে খবরের কাগজে, টিবির খবরে কই এরাম ভাবেই নাকি অপহরন করে। তারপর খারাপ জায়গাই বেচে দেয়। আবার মাইরেও ফেলে। আরও মারার আগে নাকি, ছিঃ মানুষ এমন কুত্তা হয়ে গেছে।

শোন ফুলি, এহন তুই বাতরুমি যায়ে ফেরেশ হয়ে নে। তারপর কিছু সময় চোখ বন্দ করে শুয়ে থাক। পরে সব ঠিক হয়ে যাবেনে।

বাতরুমি আমি একা যাবনানে। যদি কেউ-

আরে না। এই ঘর এহন থেকে আমাগের। আমরা যে কদিন থাকপ, আমাগের অনুমতি ছাড়া বাড়ির মালিক ওঢুকতি পারবে না।

তুমি থোও দিন। যারা যারা অকামের গুসাই তাগের আবার অনুমতি লাগে নাকি? ভালো মানসির চাইতে ওরা বেশি বুদ্ধি রাহে।

তোর মাথাতো ঠিকই আছে দেহি। তা তুই আমার সাথে ওরাম কতা কলি ক্যা?
ঋয় পাইচি, এহনও সারিনি।
কিসির ভয়?

তুই কলি ঢাকায় থাহিস। এহন কোন বনবাদাড়ের মদ্যি আইসে উঠলাম। এসব দেহে তোওে আমার অপহরন কারিই মনে হইচে। পরানে বাচার জন্যি মানুষ কত কি কয়।থুড়ি আগের অব্যেসটা যায়নি। তুমাওে তুই কইচি। যদি অপহরন কারি না হও মাপ করে দিও।

আজ আমাগের নতুন জীবন শুরু। আজকেত মাপ করবই। তয় শোন। এইডে হলো ঢাকারসাতে লাগোয়া গাজীপুর। এই বনডা দেখতিছিস, গজারি বন। শহরের দুষিত হাওয়ার চাইতে বনের খোলা হাওয়া বাতাসে থাকা অনেক ভালো। তাই আমি এই জায়গাই থাহি। তয় মানুষ নিজির এলাকায় গেলি এই জাগার কতাও কই ঢাকা। আমি ও সেই ভাবে কইচি। এজাগা থাকলি শরীর মন সব ভালো থাকপে।

কিন্তু ভয়? এজাগা অপহরনের ভয় নেই? তুমি নিশ্চিন্তে কাজে কামে যাতি পারবা তো?
ফুলিওে পরকিতির বাতাসে শরীর মন ভালো থাহে।

কিন্তু দুর কত্তি পাওে না। এই ভয় জন্ম দেয় রাজনিতীর দুষিত বাতাসে। নেতারা যতদিন দুষ্ট রাজনিতীতে ডুবে থাকবে, ততদিন রাজনিতীর বাতাস হবে না।আর আমাগেরও ভয়ের মধ্যেই থাকতে হবে।যেখানেই থাকি। এই দেখ,এই বনে ভয়ংকর কোন জত্তু জানোয়ারের আতংক নেই। অথচ সেই জঙ্গলে তোর ভয়। কিন্তু দেখ সারা দেশে আজ গুম খুন অপহরনের কি আতংক। মানুশের চোখে ঘুম নেই। দেশটাই এখন হিংস্র জন্তুতে ভরা জঙ্গলে পরিনত  হয়ে গেছে। তুই কনে যায়ে শান্তি পাবি।

তুমার কতা মতো কত কষ্ট করলাম। সেই চৌদ্দ বছরের সময়তুমি কইচ ফুলিওে, আঠারো বছরের আগে তোওে বিয়ে করে জেল খাটতি পারবনানে। সেই চৌদ্দত্বে আঠারো। নিরিক ধওে বসে আছি তুমার দিকে। রাত্তিরি একা একা শুয়ে ভাবি, আগে আঠারো পুরুক। তারপর দেখপ দাসু কত পলাই আকাত পারে। বিয়ে বাড়ির সব মানষির চোখ ফাকি দিয়ে তুমাওে টানতি টানতি নিয়ে যাব কোন আবডালে। তুমাওে উপহার দেব আঠারো বসন্তে ফোটা আমার আমার আচলে বাধা সব ফুল গুলো। আর শোনাব অন্তওে জমানো সব মান অবিমানের কতা গুলো। াকন্তু দেহ বিয়ে অনুষ্ঠান করে হলো না। কোটেত্তে বিয়ে কওে পলাই আসলাম। আমি এহন পুরো অষ্টাদশী। বাবা মা কেচ দিলি একবাওে খালাস। গেরামেত্তে কত দুর। এট্টা চেনা জানা কেউ নেই।তাছাড়াও এই ঘওে আমরা দুজন।তবু যেন সেই কতা গুলো কনে হারায় ফেলিছি দাসু।আশা ছিল তুমার মনডা আমি ভওে দেব। কিন্তু-

 উুলি, আমি জানি, তোর মনের মদ্যি কি হচ্ছে। দেখ আমরা এমন এট্টা সময়ের মদ্যি আছি,এডা বড় অসময়।চারিদিক খালি ধরধর মারমার কাটকাট। আমাগের জীবনের কোন মূল্য নেই।ভালোবাসা পড়ে মরুকগে।আমার বন্ধু অপু প্রায়ই একতা কয়। তুমি নাকি কইছিলে অপু আমাগের ভালোবাসা নিয়ে গল্প বানাবে। তা কি হলো।

তার কতাডা তুমিই আজ সত্যি কওে দিলে। প্রেম নিয়ে লেখা গল্পের ভাষা সে খুঁজে পায় না। যহনতে সে তার গল্পের নায়ক নায়িকার সাক্খাতে রোমান্টিক দৃশ্য কল্পনা করে। তখই আর সামনে গুম খুন অপহরনের ছবিটা ভেসে উঠে লন্ড ভন্ড কওে দেয়।দৌড়ে পালায় সব রোমান্টিক ভাষা। ঠিক এই সময় আমাগের মদ্যি যা হচ্ছে।

 তুমার কবিওে কও এইডাই যেন গল্প হয়। এইডাই যেন কবিতা হয়। আজগের দিনে এর চইতে বড় রোমাঞ্চ আর নেই। আর এই রোমাঞ্চ দিয়েই দুষিত বাতাস বিশুদ্ধ হতে কবির কলমই শেষ ভরসা।
এইতো তুমার মাথা পুরো ঠিক। আসো তাড়াতাড়ি ফেরেশ হও। কবিরা সময় নষ্ট কওে না। সে

এখনি আসবে।

হ চলো। আমার আর ভয় নেই। জঙ্গলে বাস করে বয় থাকতি নেই।চলো , মনে সাহস থাকলি সমস্ত ভয় দুর করা সম্ভব।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
admin
সংবাদ প্রতিনিধি

admin

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।