বরিশালে একই কবরে রাখতে অনুরোধ করে প্রেমিকা পূজা বৈরাগী (১৪) প্রেমিক প্রকাশ (১৭) আত্মহত্যার জন্য একসাথে বিষপান করে।
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় পরিবার থেকে বিয়ের অনুমতি না পাওয়ায় পরিবারের প্রতি চিরকুট লিখে বিষপান করে। প্রেমিক যুগল হাসাপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রেমিকার মৃত্যুর খবরে মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়ল প্রেমিক। বিষপানের চারদিন পর বৃহস্পতিবার গভীর রাতে শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় প্রেমিকা পূজা বৈরাগী (১৪)।
প্রেমিকার মৃত্যু সংবাদ শুনে শনিবার বেলা ১১টায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন প্রেমিক প্রকাশও মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। পূজা উপজেলার রত্নপুর ইউনিয়নের মোহনকাঠী গ্রামের হীরা লাল বৈরাগীর মেয়ে ও মোহনকাঠী স্কুল এ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্রী। একই মেডিকেলে চিকিৎসাধীন ছিল প্রেমিক প্রকশের। প্রকাশ উপজেলার রত্নপুর ইউনিয়নের বারপাইকা গ্রামের ছেলে।
এ দু’জনকে বৃহস্পতিবার রাতে শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মেডিকেলের মেডিসিন ইউনিট-৩ এর চিকিৎসাধীন প্রকাশ বৃহস্পতিবার রাতে জানায়, পূজার সাথে তার দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক। পূজা তাকে বিয়ের জন্য চাপ দিচ্ছিল। কিন্তু পূজা ও তার পরিবার তাদের দু’জনের বয়সের কারনে বিয়েতে রাজী হয়নি। কিন্তু পূজা আমাকে বিয়ের জন্য পিড়াপিড়ি করতে থাকে। সর্বশেষ গত ৯ মার্চ পূজা স্কুল থেকে উপবৃত্তির টাকা উত্তোলন করে। এরপর আমাকে বিয়ে করতে বলে। কিন্তু পূজার বয়স কম হাওয়ায় আমি রাজী হইনি। এরপর পূজা উপবৃত্তির টাকা দিয়ে বিষ কেনে। এরপর আমরা দুজন উজিরপুর উপজেলার ভাউধর গ্রামে আমার মামা নিহার বাড়ৈর বাড়িতে যাই। সেখানে বেলা দেড়টার দিকে প্রথমে বিষপান করে পূজা। এরপর আমিও বিষপান করি। ওই পরিবারের সদস্যরা আমাদের উদ্ধার করে আগৈলঝাড়া হাসপাতালে ভর্তি করে।
মেডিকেলে দায়িত্বে থাকা এসআই নাজমুল হুদা বলেন, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় পূজা। অবস্থার অবনতি হলে প্রেমিক প্রকাশকে রাহাত আনোয়ার হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। রাহাত আনোয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রেমিকার মৃত্যু সংবাদ শুনে শনিবার সকাল ১১টার দিকে মৃত্যুর কোলে ঢলে পরে প্রেমিক প্রকাশ। প্রকাশ ও পূজার মরদেহ লাশ ঘরে রাখা হয়েছে। আগৈলঝাড়া হাসপাতালের চিকিৎসক ও হাসপাতাল প্রধান ডা. বখতিয়ার আল মামুন জানান, চারদিন চিকিৎসাধীন প্রকাশ ও পূজার অবস্থার অবনতি হওয়ায় বৃহস্পতিবার তাদেরকে বরিশাল মেডিকেলে প্রেরন করেছিলেন তিনি।




