ইনজুরি নিয়েই গোল করার পাশাপাশি গোল করালেনও-নেইমার

ইনজুরি নিয়েই গোল করার পাশাপাশি গোল করালেনও-নেইমার

ইনজুরি নিয়েই গোল করার পাশাপাশি গোল করালেনও নেইমার। সান্তোসের চিকিৎসক দলের নিষেধ সত্ত্বেও ইনজুরি নিয়েই মাঠে নামলেন নেইমার জুনিয়র। খেলেছেন পুরো ৯০ মিনিট। গোল করার পাশাপাশি গোল করিয়ে দলকে অবনমন অঞ্চল থেকে উপরে তুলে আনলেন।

ব্রাজিলিয়ান লিগে আজ শনিবার (২৯ নভেম্বর ২০২৫) ভোরে ঘরের মাঠে নেইমারের গোল ও অ্যাসিস্টের কল্যাণে স্পোর্তকে ৩-০ ব্যবধানে হারালো সান্তোস।

 গত ২০ নভেম্বর মিরাসোলের বিপক্ষে ১-১ ব্যবধানে ড্রয়ের ম্যাচে অস্বস্তি নিয়ে মাঠ ছেড়েছিলেন নেইমার। সেই পুরনো চোট, বাঁ পায়ের হাঁটুতে মেনিস্কাস ইনজুরি। অস্ত্রোপচার শেষে সুস্থ হয়ে মাঠে ফিরতে শেষ হয়ে যেত মৌসুম। অথচ সে পথে হাঁটলেন না ৩৩ বছর বয়সী এ উইঙ্গার। একের পর এক ইনজুরিতে ক্যারিয়ারের দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকা নেইমার এবার ইনজুরি নিয়েই খেলার সিদ্ধান্ত নিলেন।

ইএসপিএন ব্রাজিলকে একটি সূত্র নিশ্চিত করেছিল, সান্তোসের মেডিকেল দল নেইমারের খেলার একেবারে বিপক্ষে ছিল। কিন্তু তিনি শুনলেন না নিষেধ। গত ২৫ নভেম্বর বেঞ্চে বসে থেকে টেবিলের নিচের দিকে থাকা ইন্টারন্যাসিওনালের বিপক্ষে দলকে পয়েন্ট খোয়াতে দেখেছেন। তাতে সান্তোস নেমে গিয়েছিল অবনমন অঞ্চলে। দলকে বিপদমুক্ত করতে স্পোর্তের বিপক্ষে ঝুঁকি নিয়েই মাঠে নামলেন। অবশ্য ব্রাজিলের বিশ্বকাপ দলে জায়গা করে নিতেও মাঠে থাকাটা এখন জরুরি নেইমারের জন্য।

শেষমেশ এ তারকা মাঠে নামলেন। শুরু থেকেই আক্রমণে স্পোর্ত শিবিরে ভীতি ছড়ালেন। ১২তম মিনিটেই লিড এনে দেওয়ার ভূমিকায় ছিলেন তিনি। তবে বক্সে তার পাস পেয়েও লক্ষ্যে শট নিতে পারেননি তার সতীর্থ। পাঁচ মিনিট পর স্পোর্তকে গোল হজম থেকে রক্ষা করেন গোলরক্ষক। শেষমেশ ২৫তম মিনিটে দলকে লিড এনে দেন নেইমার। বক্সে গিলহের্মের পাস পেয়ে চার ডিফেন্ডারের বাধা অতিক্রম করে গোল আদায় করে নেন তিনি।

৩৪তম মিনিটে আরও একটি গোল আদায় করে নেয়ার পথে ছিলেন নেইমার। কিন্তু বক্সের বাইরে থেকে নেয়া তার কোণাকুণির শটটি ঝাঁপিয়ে ঠেকিয়ে দেন স্পোর্ত গোলরক্ষক। সান্তোসের একের পর এক আক্রমণে দিশেহারা স্পোর্ত ৩৬তম মিনিটে নিজেদেরই ভুলে দ্বিতীয় গোলটি হজম করে বসে। গোলমুখে বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিজেদেরই জালে বল জড়ান লুকাস কাল। বিরতির ঠিক আগে ফের নেইমারের শট রুখে দেন স্পোর্ত গোলরক্ষক গ্যাব্রিয়েল। দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণে আধিপত্য বজায় রাখে সান্তোস। ৬৭তম মিনিটে গিয়ে সাফল্যের দেখা পায় তারা। বাঁ কর্নার থেকে নেইমারের ক্রস ছয় গজ দূরত্বে পেয়ে হেডের সাহায্যে জালে জড়ান জোয়াও শমিদ।

৯০তম মিনিটে মাঠ ছাড়েন নেইমার। ততক্ষণে অবশ্য ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে জয় নিশ্চিত করে নেয় সান্তোস। যোগ করা ৬ মিনিটে কোনো ব্যবধান গড়তে পারেনি স্পোর্ত। সান্তোসও আর কোনো গোলের দেখা পায়নি।

এ জয়ে ৩৬ ম্যাচে ৪১ পয়েন্ট নিয়ে অবনমন অঞ্চল থেকে উঠে ১৫তম স্থানে অবস্থান করছে সান্তোস। মৌসুমে তাদের শেষ দুই ম্যাচ জুভেনতুদে ও ক্রুইজেরোর বিপক্ষে। রেলিগেশন এড়াতে এ দুই ম্যাচেও লড়তে হবে তাদের।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Kishori
লেখক / প্রতিবেদক

Kishori

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।