“আম্বানিরা দেখিয়ে দিল, ভারতের কাছে সমগ্র বিশ্ব মাথা নত করেছে”। বলেছেন, দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের চিফ এডিটর প্রতাপ ভানু মেহতা।
প্রতাপ ভানু মেহতা লিখেছেন, “এক নম্বর হওয়া মানে বিরাট কিছু, এমনটাই বোঝানো হলো মুকেশ আম্বানি পুত্রের প্রাক-বিবাহ অনুষ্ঠানে। কোনো দ্বিধাদ্বন্দ্ব ছাড়াই দেখানো হলো ভারতের ক্ষমতা কত। আরেকটি দিক হলো, ভারতীয় পুঁজির সঙ্গে হিন্দু জাতীয়তাবাদের যোগ। কথায় বলে, টাকা যার ক্ষমতা তার। আম্বানি বা আদানিরা যা করতে পারে, তা করার সাধ্য পৃথিবীর আর কারও নেই।”
অ্যাডাম স্মিথ উদ্ধৃত করে প্রতাপ ভানু মেহতা আরও লিখেছেন, “ধনীদের প্রতি আমজনতার গভীর শ্রদ্ধা বোধ কাজ করে। ধনীদের অভিলাষ, আকাঙ্ক্ষা—সবকিছুর প্রতিই তাদের সহানুভূতি থাকে, তাদের সাফল্যে আমজনতার মনে হিংসা জন্মায় না। কারণ, ধনীরাই মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিচ্ছবি; সুখ বলতে কী বোঝায়, তার প্রতিভূ ধনীরাই। …”
প্রতাপ ভানু মেহতার ভাষায়, “ধনীরাই ভারত শাসন করে। ধনীরা যদি সুখ ভোগ করতে না পারে, তাহলে ধনীদের চেয়ে কম মর্যাদাকর জীবনযাপন যারা করেন, তাদের আর আশা থাকে না। … আপনি একটি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হতে পারেন অথবা বিশ্বের সবচেয়ে বড় তারকা, আম্বানিরা ডাক পাঠালেই আপনাকে ছুটে আসতে হবে। এ থেকে বোঝা যায়, কেন মানুষ ক্ষমতাকে এত ভালোবাসে।”
ডেইলি মেইলের তথ্য অনুসারে, অনন্ত আম্বানি এবং রাধিকা মার্চেন্টের প্রাক-বিবাহ অনুষ্ঠানে আম্বানিরা ১ হাজার ২৫৯ কোটি রুপি খরচ করেছেন। যেখানে আম্বানি পরিবার সামাজিক কর্মকাণ্ডে দান করেছেন মাত্র ৩৭৬ কোটি টাকা। মুকেশ আম্বানির তুলনায় অনেক কম সম্পদের মালিক হওয়া সত্ত্বেও শিব নাদার দান করেছেন, ২০৪২ কোটি টাকা। আর আজিম প্রেমজি দান করেছেন ১৭৭৪ কোটি টাকা। তবুও আম্বানি-আদানিদের অধিষ্ঠিত করা হয়েছে সর্বোচ্চ প্রশংসিত স্থানে।





