রতি কান্ত রায়, (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: “ফাগুনের ছোঁয়ায়, পলাশ-শিমুলের বনে লেগেছে আগুন, রাঙ্গা ফুলের মেলা”। শীতের জড়তা কাটিয়ে কোকিলের সেই সু-মধুর কুহুতানে মাতাল করতে আবারও ফিরে এলো প্রকৃতির বুকে ঋতুরাজ বসন্ত।
ফুলের সমারহে বাংলা সেজেছে বর্ণিল সাজে। তেমনি নতুন সাজে যেন সেজেছে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার আম গাছগুলো। আমের মুকুলে ভরপুর আর গদ্ধে মুখরিত এ জেলার ৯টি উপজেলার। শোভা পাচ্ছে নিজস্ব মহিমায়। মুকুলে মুকুলে ভরে গেছে গাছ গুলো। প্রায় ৬০ শতাংশ গাছেই এসেছে মুকুল। বাগান মালিক ও আম চাষীরা আশা করছেন বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দূর্যোগ না হলে এবং আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে আমের বাম্পার ফলন হবে।
আম দুধ দিয়ে এ অঞ্চলের মেয়ে জামাইকে আদর করে খাওয়ানো হয়ে থাকে। শুধু মেয়ে জামাইকে নয় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অথিতিকে অন্যান্য ফলের চেয়ে আম খাওয়ার ধুম পড়ে যায় পল্লী অঞ্চলের বাড়ীতে। তাই আমের প্রতি এ অঞ্চলের মানুষের গুরুত্ব অনেক বেশি। এ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে জানা যায়, অন্যান্য ফলের চেয়ে আম ফলটি এখানে অনেক সু স্বাদু ফল হিসাবে বিখ্যাত। এ অঞ্চলের বিভিন্ন জাতের আম পাওয়া যায় তাদের মধ্যে কালুয়া, হাড়িভাঙ্গা, ল্যাংড়া, ফজলি, আম্রোফালী, মল্লিকা, সুর্বণ্য রেখা,মিসরা ভোগ উলে¬খযোগ্য। আম ফলটি খাওয়া ছাড়াও এটি বাণিজ্যিক ভাবে হাট-বাজারে বিক্রি করে সংসারের স্বচ্ছলতা ফিরে আসে। তাই আম গাছ বেশি বেশি করে লাগানো হয়ে থাকে। ভাল ফলন পাওয়ার জন্য আম চাষী ও বাগান মালিকরা বাগানের পরিচর্যা করে আসছেন । যাতে করে গাছে মুকুল বা গুটি বাঁধার সময় কোন সমস্যা সৃষ্টি না হয়।
অধুনালুপ্ত ছিটমহল দাশিয়ার ছড়ার আমচাষী আশরাফুল হকের সাথে কথা হলে তিনি জানান,আমার বাগানে প্রায় ৫০ আম গাছ আছে । এবার সব গুলোরই প্রচুর ফুল দেখা দিয়েছে । নিয়মিত যতœ পরিচর্যা করছি। আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে আশা রাখি ভাল ফলন পাব।
ফুলবাড়ী উপজেলার পানিমাছকুটি এলাকার আম চাষী েেখাদা বকস ও খাজা বকস জানান, আমাদের আম বাগানে ২০ জাতের প্রায় ৪০ টি আম আমগাছ আছে সবগুলো গাছের মুকুল বেশি দেখা যাচ্ছে। কোন ধরনের প্রাকৃতিক দূর্যোগ না হলে আমের ভাল ফলন হবে আর যাতে মুকুল ঝরে না যায় সে জন্য ছত্রানাশক ঔষধ দেয়ারও চিন্তা করছেন। ছত্রাক থেকে আমের মুকুল রক্ষা পেলে আমের বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করছেন।
কৃষি অফিসার মোঃ মাহবুবুর রশিদ জানান,গতবারের চেয়ে এবছর আমের মুকুল বেশি। আমের মুকুল না ঝরার জন্য ছত্রানাশক ঔষক প্রয়োগ করার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে যাতে আমের মুকুল ঝরে না যায়। তিনি আশা করছেন কোন ধরণের প্রাকৃতিক দূর্যোগ না হলে আম চাষিরা লাভের মুখ দেখবেন।





