অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনে নারীদের সরাসরি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রদান করবে সরকার: সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনে নারীদের সরাসরি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রদান করবে সরকার: সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

কাউকে পেছনে ফেলে নয়, বরং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করাই বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে এবং পরিবারে নারীর অবদান ও ক্ষমতায়নকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে নারীদের সরাসরি নিজ নামে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ইস্যু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আজ রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘Centre for Women and Children Studies (CWCS)’ আয়োজিত ‘National Seminar on Advocacy for Change in Women’s Economic Empowerment in Bangladesh’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী প্রফেসর ডা. আবু জাফর মোঃ জাহিদ হোসেন।

নারী উন্নয়নে পূর্ববর্তী অর্জন ও বর্তমান পরিকল্পনা

বক্তব্যে মন্ত্রী নারীর অগ্রগতিতে সরকারের ধারাবাহিক দূরদর্শী পদক্ষেপগুলো স্মরণ করেন। তিনি বলেন, “সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া নারী শিক্ষার গুরুত্ব অনুধাবন করে মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষা অবৈতনিক করেছিলেন এবং উপবৃত্তি প্রথা চালু করেছিলেন। এর ফলে দেশে নারী শিক্ষার হার বৃদ্ধির পাশাপাশি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নারীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ অভূতপূর্ব গতি পেয়েছে।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, কর্মজীবী নারীরা যেন নিরাপদে সন্তান প্রতিপালন ও পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে পারেন, সেজন্য দেশে প্রথম সরকারি উদ্যোগে ডে-কেয়ার সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। বর্তমান সরকার সেই সুবিধাকে সময়োপযোগী, আধুনিক এবং তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত করার কাজ করছে।

কেয়ার ও ক্রিয়েটিভ ইকোনমিতে গুরুত্বারোপ

দক্ষতা উন্নয়নকে কর্মসংস্থানের মূল ভিত্তি উল্লেখ করে ডা. জাহিদ হোসেন জানান:

* দক্ষতা বৃদ্ধি: সঠিক শিক্ষা ও আধুনিক কর্মমুখী প্রশিক্ষণ পেলে নারীরা কেবল নিজেদের আত্মনির্ভরশীল করবেন না, বরং অন্যদের জন্যও কর্মসংস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবেন।

* নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা: ঐতিহ্যগত খাতের পাশাপাশি কেয়ার ইকোনমি (Care Economy) এবং ক্রিয়েটিভ ইকোনমিতে (Creative Economy) নারীদের যুক্ত করার সুযোগ ও অবকাঠামো তৈরি করা হচ্ছে।

* সামাজিক নিরাপত্তা: বাল্যবিবাহ, যৌতুক প্রথা ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

সেমিনারের অন্যান্য সুপারিশ ও বিষয়াবলী

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (DCCI)-এর সভাপতি নাজ ফারহানার সভাপতিত্বে সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক ইসরাত শারমিন। সেমিনারে বক্তারা নিম্নলিখিত দাবি ও প্রস্তাবনা তুলে ধরেন:

১. বিনা জামানতে ঋণ: নারী উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে ও বিনা জামানতে ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা করা।

২. বাজার প্রবেশের বাধা দূরীকরণে সহায়তা: ব্যবসায়িক আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিরসন ও হস্তশিল্প/উৎপাদিত পণ্যের সুনির্দিষ্ট বাজার তৈরি।

৩. সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশীদারিত্ব: জাতীয় ও প্রাতিষ্ঠানিক পলিসি তৈরিতে নারীর অংশীদারিত্ব বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা।

অনুষ্ঠানে Agence Française de Développement (AFD), সাউথ এশিয়ান উইমেন ডেভেলপমেন্ট ফোরাম, বাংলাদেশ উইমেন্স চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (BWCCI), সিলন চেম্বার অব উইমেন এন্ট্রাপ্রেনিউরস, পূর্ণিমা, GERES, বিভিন্ন এনজিও, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, সুশীল সমাজ, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক এবং গণমাধ্যম প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।