ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। একই সঙ্গে নতুন ধরনের নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
সোমবার নয়াদিল্লিতে দুই দিনব্যাপী নবম ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্ট্র্যাটেজিজ (NSS) কনফারেন্স ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব নির্দেশনা দেন অমিত শাহ। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে অনুপ্রবেশ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যাবে না।
নিরাপত্তায় AI ব্যবহারে গুরুত্ব
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাল্টি এজেন্সি সেন্টার (MAC)-এ থাকা বিপুল পরিমাণ তথ্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে বিশ্লেষণ করতে হবে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে নিরাপত্তা সংক্রান্ত কার্যকর স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর (SOP) তৈরি করার ওপরও জোর দেন তিনি।
AI-নির্ভর তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে অনুপ্রবেশসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধ শনাক্ত ও প্রতিরোধে আরও দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ মাগুরার শিশু আছিয়া ধর্ষণ-হত্যা: হিটু শেখের ডেথ রেফারেন্সের রায় আজ
সন্ত্রাস ও মৌলবাদ দমনে ‘প্রহার’ প্রকল্প
সন্ত্রাসবাদ ও মৌলবাদ মোকাবিলায় আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন অমিত শাহ। এ ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের ‘প্রহার’ (PRAHAAR) প্রকল্প দ্রুত ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
পাশাপাশি, সন্ত্রাসবাদ ও আন্তঃদেশীয় অপরাধ মোকাবিলায় বিভিন্ন নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থার মধ্যে তথ্য আদানপ্রদান আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়।
পলাতক আসামিদের দ্রুত বিচার
পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে এনে দ্রুত বিচার শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, কোনো অভিযুক্ত দেশ থেকে পালিয়ে গেলে মামলা বছরের পর বছর ঝুলে থাকা উচিত নয়। আইন অনুযায়ী প্রয়োজন হলে অভিযুক্তের অনুপস্থিতিতেও বিচারপ্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
আরও পড়ুনঃ পাকিস্তানি বিশ্ববিদ্যালয়ে ফি বৃদ্ধির প্রতিবাদ, শিক্ষার্থীদের ওপর সেনা কর্মকর্তার গুলি
আলোচনায় নতুন নিরাপত্তা হুমকি
সম্মেলনের প্রথম দিনে সন্ত্রাস দমন, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ, মাদক পাচার প্রতিরোধ, অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্ত করে ফেরত পাঠানো, সাইবার অপরাধ এবং পাকিস্তানপন্থী জঙ্গি কার্যকলাপসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
দ্বিতীয় দিনে জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে উদ্ভূত নতুন ধরনের হুমকি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে সাব-অ্যারিয়াল সিস্টেম, তথ্যযুদ্ধ, ব্লু ইকোনমির নিরাপত্তা এবং বায়ো-সিকিউরিটি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
বিশেষ করে ড্রোন ও অন্যান্য সাব-অ্যারিয়াল প্রযুক্তি থেকে সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং তা মোকাবিলার কৌশল নিয়ে আলোচনা হবে। একই সঙ্গে তথ্যযুদ্ধের প্রভাব মোকাবিলা এবং দেশের জন্য শক্তিশালী বায়ো-সিকিউরিটি কাঠামো গড়ে তোলার বিষয়েও মতবিনিময় হবে।
৮৫০-এর বেশি প্রতিনিধি অংশ নেন
দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ৮৫০-এর বেশি প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন। নয়াদিল্লিতে উপস্থিত রয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব, ডেপুটি ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাডভাইজার, কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী এবং কেন্দ্রীয় পুলিশ সংস্থার প্রতিনিধিরা।
এ ছাড়া বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের পুলিশ প্রধানরা ভার্চুয়ালি সম্মেলনে যুক্ত হয়েছেন।
জাতীয় নিরাপত্তার প্রচলিত চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ, সাইবার হামলা, সীমান্ত নিরাপত্তা ও নতুন ধরনের হুমকি মোকাবিলায় সমন্বিত কৌশল তৈরিই এবারের সম্মেলনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।


