অনিক-হৃদয়সহ সাতজনকে আর্থিক সহায়তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী

ববিশেষ প্রতিবেদক : বিএনপি-জামায়াতের হরতাল ও অবরোধের মধ্যে আগুন ও বোমা হামলার শিকার সাতজনকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।এর মধ্যে হামলায় গুরুতর আহত ফেনীর এসএসসি পরীক্ষার্থী মিনহাজুল ইসলাম অনিক ও শাহরিয়ার হৃদয় রয়েছে।

আজ বুধবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনিকের মা আমেনা আকতার জেসমীন ও হৃদয়ের বাবা আবুল খায়েরের হাতে প্রত্যেককে ১০ লাখ টাকার চেক তুলেদেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম এ কথা জানান।

প্রেস সচিব বলেন, এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীঢাকার তেজগাঁও সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবদুল কাদের মিয়া, গাজীপুরের শেরপুরের গিয়াস উদ্দিন আহমেদ ও ঝিনাইদহের শৈলকুপার মো. লিটন মিয়ার প্রত্যেককে ১০ লাখ করে টাকা এবং ঢাকার মিরপুরের মধ্য পাইকপাড়ার সৈয়দ মো. আবদুল মতিন ও ঢাকার বংশালের মো. সেলিম হোসেন সেলিমের প্রত্যেককে পাঁচ লাখ টাকার চেক দেন।

চেক প্রদানকালে শেখ হাসিনা আগুন ও বোমাহামলায় আক্রান্তদের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং তাদের সান্ত্বনা দেন। এ সময় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়।

বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাস ও হামলার শিকার ব্যক্তিরা আর্থিক সহায়তার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী অনিক, হৃদয় ও আবদুল কাদের মিয়ার চিকিৎসার দায়িত্ব নেন।অনিক ও হৃদয় দুজন ছিল ফেনী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী। উভয়ে ২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারি মুখোশধারী সন্ত্রাসীদের বোমা হামলায় গুরুতর আহত হয়।এ সময় তারা প্রাইভেট টিউটরের বাসা থেকেরিকশায় নিজ বাসায় ফিরছিল।

বোমা বিস্ফোরণে অনিকের শরীরের বিভিন্ন অংশ ভয়ঙ্করভাবে পুড়ে যায়। তার দুটি চোখই মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।অনিককে প্রথমে ফেনী আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তাকে ঢাকামেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটেস্থানান্তর করা হয়। তার চোখের চিকিৎসার জন্য জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং আরো উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতের চেন্নাই পাঠানো হয়।

অপরদিকে ফেনীর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল কাদের মিয়া ২০১৫ সালের ৯ জানুয়ারি জেলা শহরে দুষ্কৃতকারীদের নৃশংস বোমা হামলায় গুরুতর আহত হন।সকাল ৯টা ৫ মিনিটে পুলিশ কোয়ার্টারের কাছ দিয়ে যাওয়ার সময় শহীদ শহীদুল্লাহ কায়সার সড়কে দুষ্কৃতকারীরা তাঁকে বহনকারী মাইক্রোবাসে পেট্রলবোমা ছুড়ে দেয়।বিজিবি সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে তাঁর দায়িত্ব পালনে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কেযাওয়ার পথে ওই হামলা চালানো হয়।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, মুখ্য সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সিনিয়র সচিব সুরাইয়া বেগম এবং এলজিআরডি সচিব আবদুল মালেক এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।