দেশের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) অর্জন এবং পরিবেশসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বায়োমেডিক্যাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে সরকার। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সিরাজগঞ্জ জেলার সব স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের জন্য নির্মিত একটি আধুনিক বায়োমেডিক্যাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র (Biomedical Waste Management Facility) উদ্বোধন করা হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু বলেন, স্বাস্থ্যসেবা খাতে উৎপন্ন ঝুঁকিপূর্ণ বর্জ্য সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা করা জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ সুরক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকারের লক্ষ্য হলো পরিবেশবান্ধব বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দেশের টেকসই উন্নয়ন এজেন্ডাকে আরও এগিয়ে নেওয়া।
মন্ত্রী জানান, এই প্রকল্পের মাধ্যমে শুধু হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানই উপকৃত হবে না; বরং সিরাজগঞ্জ জেলার ৩০ লাখেরও বেশি মানুষের জন্য নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ফলে সংক্রামক রোগের ঝুঁকি কমবে, পরিবেশ দূষণ হ্রাস পাবে এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা নিশ্চিত করতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এমপি বলেন, নতুন কেন্দ্রটি প্রতিবছর প্রায় ১৩০ টন পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপকরণ পুনরুদ্ধারে সক্ষম হবে। এর মাধ্যমে সার্কুলার ইকোনমির নীতিমালা বাস্তবায়নের পাশাপাশি চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তিযোগ্য বর্জ্যের পরিমাণ কমবে, সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত হবে এবং পরিবেশবান্ধব শিল্পচর্চা আরও উৎসাহিত হবে।
তিনি আরও বলেন, সিরাজগঞ্জের এই উদ্যোগ দেশের অন্যান্য জেলায় পরিবেশসম্মত স্বাস্থ্যসেবা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়নের জন্য একটি কার্যকর মডেল হিসেবে কাজ করতে পারে।
অনুষ্ঠানে জাতিসংঘ শিল্প উন্নয়ন সংস্থা (ইউনিডো)-এর সার্কুলার ইকোনমি অ্যান্ড রিসোর্স এফিসিয়েন্সি ইউনিটের প্রধান জেরোম স্টুকি বলেন, বাংলাদেশ সরকার ও উন্নয়ন অংশীদারদের সমন্বিত প্রচেষ্টার ফলে পরিবেশসম্মত স্বাস্থ্যসেবা বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি প্রাতিষ্ঠানিক অঙ্গীকার এবং কার্যকর অংশীদারিত্বের মাধ্যমে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য টেকসই সুফল নিশ্চিত করা সম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী গীতাঞ্জলি সিং বলেন, পরিবেশগত টেকসই উন্নয়ন এবং নিরাপদ স্বাস্থ্যসেবা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা জোরদারে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে জাতিসংঘের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। তিনি সিরাজগঞ্জের উদ্যোগকে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং এসডিজি বাস্তবায়নের একটি সফল উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
ইউনিডোর প্রকল্প ব্যবস্থাপক ড. রানা প্রতাপ সিং আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সিরাজগঞ্জের এই বায়োমেডিক্যাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র ভবিষ্যতে দেশের সমন্বিত স্বাস্থ্যসেবা বর্জ্য ব্যবস্থাপনার একটি জাতীয় মডেলে পরিণত হতে পারে।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জুবায়ের বিন আরাফাত। তিনি বলেন, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের মাধ্যমে বাস্তবায়িত এ ধরনের উদ্যোগ পরিবেশ, জনস্বাস্থ্য এবং সামাজিক-অর্থনৈতিক উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। পাশাপাশি দেশের অন্যান্য জেলাতেও একই ধরনের প্রকল্প সম্প্রসারণের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম, সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আমিনুল ইসলাম, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. লুৎফর রহমান, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, উন্নয়ন সহযোগী, স্থানীয় সরকার প্রতিনিধি, সুশীল সমাজ, বেসরকারি খাতের অংশীজন এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।