সৈকত দত্ত, শরীয়তপুর থেকে: শরীয়তপুর সদর উপজেলার রুদ্রকর ইউনিয়নের হোগলা মাকশাহার এলাকায় প্রভাব খাটিয়ে প্রতিবেশী বিল্লাল খা’দের জমিতে জোরপূর্বক পাঁকা স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ প্রভাবশালী আনছের খা’দের বিরুদ্ধে। স্থানীয় ভাবে মীমাংসার আশ্বাস দিয়ে রাতের আঁধারে স্থাপনা নির্মাণ করারও অভিযোগ রয়েছে। পালং মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। নির্মাণ কাজ অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও জমির পর্চা থেকে জানা যায়, সদর উপজেলার মাকশাহার মৌজার বিআরএস ৩৪০ নং খতিয়ানের ৩৮৪, ৩৮৭, ৩৯১ ও ৩৯২ নং দাগে বিল্লাল খা, মজিবর খা ও আনছের খা’দের ৪৭ শতাংশ জমি রয়েছে। প্রভাবশালী আনছের খা’গণ বিল্লাল খা ও মজিবর খা’দের জমি থেকে বেদখল করার চেষ্টায় অব্যাহত রয়েছে। ইতিমধ্যে আনছের খা ও তার লোকজন বিল্লাল খা’দের মারধরও করেছে। এ বিষয়টি স্থানীয় শালিশগন একাধিকবার মীমাংসার আয়োজন করলে আনছার খা বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে দরবারে আসেনি। গত ৩১ জুলাইও শালিশীতে বসার তারিখ ছিল তাও উপেক্ষা করে রাতের আধাঁরে বিল্লাল খা’দের জমিতে পাকা স্থাপনা নির্মাণ করে।
ক্ষতিগ্রস্থ বিল্লাল খা জানায়, দীর্ঘদিন সে পরিবার নিয়ে ঢাকায় থাকত। কয়েক বছর যাবত বাড়িতে ফিরেছে। তারপর থেকেই আনছের খা তার লোকদের নিয়ে বিল্লার খা’দের নির্যাতন করে। এবার জমিতে জোর করে পাকা দালান নির্মাণ করছে। বাঁধা দিলে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়। বিষয়টি স্থানীয় চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান ঢালী, মুরব্বি জলিল শেখ, সামাদ বেপারী, আঃ রব ঢালী, কবির মেম্বার, মজিদ কবিরাজ, মোক্তার তালুকদার, খলিল শেখ, মহিজদ্দিন শেখ, চঞ্চল মুন্সীদের জানানো হয়েছে। একাধিকবার বসার তারিখ দিয়েও আনছের খা উপস্থিত হয় নি। এখন জোরপূর্বক রাতের আধাঁরে পাকা দালান নির্মাণ করছে। তিনি তার জমি ফিরে পেতে প্রশাসনের সহায়তা কামনা করছে।
শালিশ জলিল শেখ, সামাদ বেপারী, মেম্বার কবির, মজিদ কবিরাজ জানায়, বিল্লাল খার জমি জোরে দখল করে আনছের খা পাকা দালান নির্মাণ করছে। স্থানীয়ভাবে বসে মীমাংসার আশ্বাস দিয়ে একাধিকবার দরবারে আসেনি আনছের খা। আনছের খা সমাজে প্রভাবশালী ও বৃত্তবান তাই সামাজিকতা মানে না। প্রশাসনকে ভুল বুঝিয়ে রাতের আঁধারে পাকা দালান নির্মাণ করছে।
জমি দখলকারী আনছের খা বলেন, আমার জমিতেই আমি পাকা দালান নির্মাণ করছি। পুলিশ এসে দেখে গেছে। পুলিশই আমাকে দালান নির্মাণে অনুমতি দিয়েছে।
পালং মডেল থানা পুলিশ উপ-পরিদর্শক আবির বলেন, আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এখন (সোমবার রাতে) থানায় শালিশীতে বসেছি। শালিশী শেষ না করে কিছুই বলা যাবে না।