মে দিবস ও জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেইফটি দিবস-২০২৬ উপলক্ষে রচনা প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের পুরস্কার প্রদান

মে দিবস ও জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেইফটি দিবস-২০২৬ উপলক্ষে রচনা প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের পুরস্কার প্রদান
পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেইফটি দিবস

মহান মে দিবস ও জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেইফটি দিবস, ২০২৬ উপলক্ষে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত রচনা প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মধ্যে আজ রাজধানীর বিজয়নগরে অবস্থিত শ্রম ভবনের সম্মেলন কক্ষে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী জনাব আরিফুল হক চৌধুরী, এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব জনাব মোঃ আব্দুর রহমান তরফদার।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব জনাব মোঃ আবদুর রহিম খান। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক এবং প্রতিযোগিতা আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক জনাব মোঃ ফরহাদ সিদ্দিক।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষাবিদ, প্রতিযোগিতার বিচারকমণ্ডলীর সদস্য, শিক্ষার্থী, গণমাধ্যমকর্মী এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাননীয় মন্ত্রী বলেন, দেশের মেধাবী তরুণ প্রজন্মকে যথাযথ দিকনির্দেশনা ও সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা গেলে তারা জাতীয় উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে। তিনি দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা, শ্রমিকদের স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা এবং নতুন প্রজন্মকে শ্রম অধিকার ও সামাজিক ন্যায়বিচার বিষয়ে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব বলেন, শ্রমিকবান্ধব বাংলাদেশ গড়তে সরকার বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। তিনি কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার সংস্কৃতি গড়ে তোলা, শ্রম প্রশাসনের আধুনিকায়ন এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

স্বাগত বক্তব্যে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক বলেন, শ্রমিকদের সম্মিলিত অবদানেই দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি সম্ভব হচ্ছে। নিরাপদ কর্মপরিবেশ, ন্যায্য মজুরি ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করে শোভন কর্মপরিবেশ গড়ে তোলার মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন অর্জন করা সম্ভব। তিনি আরও বলেন, শ্রম প্রশাসনকে শক্তিশালী করা এবং শ্রমখাতের উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নে অধিদপ্তর ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাটাগরিতে অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতায় মোট ছয়জন শিক্ষার্থীকে বিজয়ী হিসেবে নির্বাচন করা হয়। প্রতিযোগিতার বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থী সীমান্ত চৌধুরী, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান ও উপাত্তবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী শামান্তা জিনিয়া এবং বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের শিক্ষার্থী ফাওজিয়া ইসলাম মারিয়া বিজয়ী হন। অন্যদিকে কলেজ পর্যায়ে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী আসফী নুরেন নাজিহা, সেন্ট যোসেফ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শামউন হায়দার এবং চাঁদপুর সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী সামিরা মেহনাজ নুসরাত বিজয়ী হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। অনুষ্ঠানে তাদের হাতে ক্রেস্ট, সনদপত্র ও পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

বক্তারা শ্রমিকের অধিকার, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেইফটি বিষয়ে তরুণ প্রজন্মের অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, শ্রমিকের মর্যাদা, নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করার মধ্য দিয়েই একটি উন্নত, মানবিক ও টেকসই বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
ACP
সংবাদ প্রতিনিধি

ACP

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।