নেপালের উত্তর সীমান্তে পাহাড়ি ধস ও বরফ গলে হঠাৎ করে শুরু হওয়া বন্যায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চলেছে। লেন্দে ও ভোটকোশি নদীর কাদা-পানির তোড়ে ভেসে গিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ৫৩৮ জনে পৌঁছেছে ।
এ ছাড়া আরও ৯৭৭ জন নিখোঁজ রয়েছেন, যার মধ্যে ৫১৭ জন বিদেশি পর্যটক ও পোশাকধারী ২৮ জন পুলিশ সদস্য রয়েছেন। খবর কাঠমান্ডু পোস্টের।
গত বুধবার (২৬ আগস্ট) তিব্বত সীমান্তের কাছে পাহাড়ি ধসের পর পানির তীব্র তোড় নেপালের নদীগুলোতে চলে আসে। নদীপাড়ের রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি ও স্থায়ী-অস্থায়ী সেতু মুহূর্তেই ভেঙে গুঁড়িয়ে যায়। নদীর খরস্রোতে ভেসে যাওয়ায় মূল ঘটনাস্থল রসুয়া ছাড়া অন্যান্য দূরের জেলাগুলো থেকেও প্রতিদিন লাশ ভেসে উঠছে।
নদী থেকে একটার পর একটা লাশ উদ্ধার হওয়ায় হাসপাতালগুলোর মরদেহের রাখার জায়গায় টানাটানি পড়েছে। চিতবন জেলায় সবচেয়ে বেশি লাশ পাওয়ায় সেখানকার একটি পরিত্যক্ত ভবনকে অস্থায়ী মর্গ বানিয়ে শুকনো বরফ দিয়ে লাশ রাখার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
স্বজনদের খোঁজে বহু পরিবার হাত উঁচিয়ে ছবি নিয়ে অস্থায়ী মরদেহের কেন্দ্রগুলোতে ভিড় জমাচ্ছে। যে লাশগুলো শনাক্ত করা যাচ্ছে না, সেগুলোর ডিএনএ নমুনা ও আঙুলের ছাপ নিয়ে বিশেষ নম্বরে ট্যাগ দিয়ে দাফন করা হচ্ছে।
পরিস্থিতি মোকাবেলায় চার হাজারের বেশি পুলিশ ও সেনা সদস্য নামানো হয়েছে। হেলিকপ্টার ব্যবহার করে দুর্গম এলাকায় আটকে পড়া ভারত, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের শতাধিক বিদেশি পর্যটককে উদ্ধার করা হয়েছে।



