প্রতি বছর ৩১ জুলাই বিশ্বব্যাপী পালিত হয় বিশ্ব রেঞ্জার দিবস (World Ranger Day)। এই দিনটি বন, বন্যপ্রাণী, জাতীয় উদ্যান, সংরক্ষিত এলাকা এবং প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষায় নিয়োজিত রেঞ্জারদের অবদানকে সম্মান জানানোর পাশাপাশি কর্তব্যরত অবস্থায় আহত ও নিহত রেঞ্জারদের স্মরণ করার জন্য পালন করা হয়। দিবসটির মাধ্যমে রেঞ্জারদের কাজ সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং তাঁদের নিরাপত্তা, দক্ষতা ও পেশাগত মর্যাদা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।
বিশ্ব রেঞ্জার দিবস প্রথম পালিত হয় ২০০৭ সালে। দিনটি চালু করে International Ranger Federation (IRF), যা ১৯৯২ সালে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রেঞ্জার সংগঠনের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয়। দিবসটি আইআরএফ প্রতিষ্ঠার ১৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রথম উদযাপিত হয়।
এর মূল উদ্দেশ্য হলো—
‘রেঞ্জার’ শব্দটি বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হলেও পরিবেশ ও বন ব্যবস্থাপনায় রেঞ্জার বলতে সাধারণত এমন ব্যক্তিকে বোঝায়, যিনি নির্দিষ্ট বনাঞ্চল, সংরক্ষিত এলাকা বা জাতীয় উদ্যানের তত্ত্বাবধান, নিরাপত্তা ও সংরক্ষণের দায়িত্ব পালন করেন।
রেঞ্জারদের প্রধান দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে—
বিশ্বজুড়ে রেঞ্জাররা প্রতিদিন নানা ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেন। অনেক সময় তাঁরা অবৈধ শিকারি, বনদস্যু, বন্যপ্রাণী পাচারকারী কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হন। তবুও তাঁরা পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য এবং প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করে চলেছেন।
এই দিবসের মাধ্যমে—
“রেঞ্জাররা: পরিবর্তনশীল পৃথিবীর অভিভাবক”
(Rangers: Guardians of a Changing World)
২০২৬ সালের প্রতিপাদ্য জলবায়ু পরিবর্তন, বন উজাড়, জীববৈচিত্র্যের সংকট এবং পরিবেশগত চ্যালেঞ্জের প্রেক্ষাপটে রেঞ্জারদের ক্রমবর্ধমান ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে। তাঁরা শুধু বন ও বন্যপ্রাণীই নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন।
বাংলাদেশে বন বিভাগের রেঞ্জাররা সুন্দরবন, পাহাড়ি বনাঞ্চল, সংরক্ষিত উদ্যান এবং বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। বন সংরক্ষণ, বন্যপ্রাণী রক্ষা, বনভূমি দখল প্রতিরোধ, অগ্নিকাণ্ড মোকাবিলা এবং পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধিতে তাঁদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিশ্ব রেঞ্জার দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন দেশে—
আয়োজন করা হয়।
বিশ্ব রেঞ্জার দিবস আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, প্রকৃতি রক্ষার নেপথ্যে অসংখ্য রেঞ্জার প্রতিদিন নীরবে দায়িত্ব পালন করছেন। বন, বন্যপ্রাণী, জীববৈচিত্র্য এবং প্রাকৃতিক ঐতিহ্য রক্ষায় তাঁদের অবদান মানবজাতির ভবিষ্যতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই রেঞ্জারদের নিরাপত্তা, আধুনিক সরঞ্জাম, প্রশিক্ষণ এবং যথাযথ স্বীকৃতি নিশ্চিত করা পরিবেশ সংরক্ষণের অন্যতম পূর্বশর্ত।