অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, সাম্প্রতিক জাতীয় বাজেটটি দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের ফল এবং এটি দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের ইতিবাচক সাড়া পেয়েছে। তবে বাজেটের প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে এর কার্যকর ও সময়োপযোগী বাস্তবায়নের ওপর। বাজেট বাস্তবায়নেই সাফল্য
বৃহস্পতিবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অর্থ বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত প্রথম মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন অর্থ বিভাগের সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার।
অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষের মধ্যে প্রশাসন সম্পর্কে যে নেতিবাচক ধারণা রয়েছে, তা দূর করতে সরকারি কর্মকর্তাদের আরও দক্ষ, জবাবদিহিমূলক ও জনবান্ধবভাবে কাজ করতে হবে। তিনি প্রচলিত ধ্যান-ধারণার বাইরে গিয়ে পরিবর্তিত বৈশ্বিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে উদ্ভাবনী চিন্তা ও আধুনিক কর্মপদ্ধতি অনুসরণের আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, প্রশাসনিক সভাগুলোকে শুধু নির্দেশনামূলক না রেখে কর্মকর্তাদের স্বাধীনভাবে মতামত ও নতুন ধারণা তুলে ধরার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। উন্মুক্ত আলোচনা, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং বাস্তবভিত্তিক মতামত নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
অর্থমন্ত্রী কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, কর্মপরিবেশকে একটি পরিবারের মতো বিবেচনা করে দায়িত্ব পালন করতে হবে। শুধুমাত্র সমস্যা তুলে ধরার পরিবর্তে সম্ভাব্য সমাধান ও নতুন উদ্যোগ উপস্থাপনের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। বিভিন্ন অনুবিভাগ থেকে সঠিক ও তথ্যভিত্তিক ফিডব্যাক পাওয়া গেলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ আরও কার্যকর হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে অর্থ বিভাগের দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে সবাইকে নিজ নিজ দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করতে হবে।
এদিকে সচিবালয়ে কক্সবাজারের সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে অনুষ্ঠিত পৃথক এক সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন অর্থমন্ত্রী।
তিনি জানান, কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক পর্যটনের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার একটি সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি উপকূলীয় এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান ৫০ মিটার ও ৫০০ মিটার উন্নয়ন-সংক্রান্ত বিধিনিষেধ পুনর্বিবেচনার বিষয়টিও সরকারের বিবেচনায় রয়েছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, পর্যটন শিল্পের বিকাশে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো যেমন হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট ও বিনোদনকেন্দ্র গড়ে তুলতে হবে। তবে উন্নয়ন কার্যক্রম অবশ্যই পরিবেশ সংরক্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত করেই বাস্তবায়ন করা হবে।
তিনি আরও বলেন, কক্সবাজারকে ঘিরে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণকাজ এগিয়ে চলছে, রেল যোগাযোগ চালু হয়েছে এবং চট্টগ্রামের সঙ্গে উন্নত সড়ক যোগাযোগও গড়ে তোলা হচ্ছে। এসব অবকাঠামোর সমন্বয়ে কক্সবাজারকে আধুনিক ডিজিটাল পর্যটন নগরীতে রূপান্তরের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।
অর্থমন্ত্রী জানান, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার জাতীয় লক্ষ্যে কক্সবাজার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবৃদ্ধি কেন্দ্র (গ্রোথ হাব) হিসেবে ভূমিকা রাখবে। পর্যটন, বাণিজ্য ও সেবাখাতের সম্প্রসারণের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতে জেলার অবদান আরও বৃদ্ধি পাবে।