× Banner
সর্বশেষ
ধর্মমন্ত্রীর আশু আরোগ্য কামনায় দেশজুড়ে হেফাজতে ইসলামের বিশেষ দোয়া দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি, সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত ১১২ টাকায় সরকারি চাকরি পাওয়া স্বচ্ছ নিয়োগের প্রমাণ: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী বাংলাদেশে ২৫-২৬ জুলাই ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম ও বিআইইআর সামিট ২০২৬ বগুড়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন ২০২৬-এর খসড়া অনুমোদন, পরিকল্পিত আধুনিক নগর গঠনের উদ্যোগ বাজেট বাস্তবায়নেই সাফল্য, কক্সবাজারকে আধুনিক ডিজিটাল পর্যটন নগরী গড়ার পরিকল্পনা: অর্থমন্ত্রী FICCI FDI Conference 2026-এ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা স্মারক প্রদান বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে FICCI FDI Conference 2026, উন্মোচিত হলো এফডিআই রিপোর্ট মাদারীপুরে বৈশাখী ভাতা ও ঈদ বোনাস না পাওয়ায় দপ্তরিদের শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় ঘেরাও কোটালীপাড়ায় উল্টো রথযাত্রায় ভক্তদের ঢল

বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের সংবাদ সন্মেলন

admin
হালনাগাদ: শুক্রবার, ১৭ জুন, ২০১৬

বিশেষ প্রতিবেদকঃ সারাদেশে হিন্দু বাড়ীঘর জমি জমা দখল, ভয় ভীতি প্রদর্শন করে দেশত্যাগে বাধ্যকরণ, হত্যা হত্যা প্রচেষ্ঠা, ধর্মান্তরকরণ, মঠ মন্দির প্রতিমা ভাংচুর ও কিশোরী অপহরণ প্রভৃতির প্রতিবাদে সংবাদ সন্মেলন আয়োজন করেন বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট।

অদ্য ১৭ জুন শুক্রবার সকাল ১১টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি গোল টেবিল মিলনায়তনে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন হিন্দু মহাজোটের মহাসচিব অ্যাডভোকেট গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক। বিভিন্ন প্রশ্নে উত্তর হিন্দু মহাজোটের উপদেষ্টা ও সংখ্যালঘু কল্যাণ সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট এস.এন গোস্বামী। উপস্থিত ছিলেন মহাজোটের সিনিয়র সহ সভাপতি ডঃ অচিন্ত কুমার মন্ডল, অমূল্য হালদার, মানিক চন্দ্র সরকার, ডাঃ এম.কে রায়, প্রধান সমন্বয়কারী বিজয় ভট্টাচার্য, যুগ্ম মহাসচিব সমেন সাহা, আর্ন্তজাতিক সম্পাদক রিপন দে, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট প্রতীভা বাগচী, সাংগঠণিক সম্পাদক কপিল মন্ডল, হিন্দু যুব মহাজোট এর সভাপতি সুমন কুমার রায়, নির্বাহী সভাপতি দেবাশীষ সাহা, সাধারণ সম্পাদক মিল্টন বসু, ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক সুমন সরকার, হিন্দু ছাত্র মহাজোটের সাধারণ সম্পাদক প্রশান্ত হালদার।

বক্তাগণ বলেন, হাজার বছরের নির্যাতন নিপিড়নে ১০০% হিন্দু থেকে আজ ৮.৫% এসে পৌছেছে। প্রতিদিনই বাংলাদেশের কোন না কোন স্থানে হিন্দু বাড়ীঘর জমি জমা দখল, ভয় ভীতি প্রদর্শন করে দেশত্যাগে বাধ্যকরণ, হত্যা হত্যা প্রচেষ্ঠা, ধর্মান্তরকরণ, মঠ মন্দির প্রতিমা ভাংচুর ও কিশোরী অপহরণ চলছেই। গত কয়েক দিনেই মধ্যেই পটুয়াখালীর বাউফলে মা ও মেয়েকে তুলে নিয়ে ধর্ষন, পাবনা সৎসংঘের পুরোহিত নিত্য রঞ্জন পান্ডে, ঝিনাইদহের পুরোহিত আনন্দ গোপাল গাঙ্গুলী, গোপাল গঞ্জের সাধু পরমানন্দ রায়, টাংগাইলের নিখিল জোর্য়াদার, নেত্রকোনার অর্জুন বিশ্বাস, গোবিন্দ গঞ্জের তরুন দত্ত হত্যা আএস এর দায় স্বীকার ও একই সংগে খুনিচক্রের কোন হদিস না পাওয়ায় দেশে এক ভয়াবহ আতঙ্কের পরিবেশ বিরাজ করছে। ফরিদপুরের অলক সেন, মাদারীপুরের অধ্যাপক রিপন চক্রবর্তী হত্যা প্রচেষ্টায় সহ বিভিন্ন স্থানে হিন্দু সম্প্রদায়কে মৃত্যুদূত তাড়া করছে।

বিভিন্ন অঞ্চলে পুরোহিতরা পুজা পার্বন বন্ধ করছে। এ অবস্থায় হিন্দু সমাজ দেশে নিরাপত্তা বোধ করছে না। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অত্যাচার এমন পর্যায়ে পৌছেছে যে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় দলে দলে দেশ ত্যাগের কথা ভাবছে। এ অবস্থা বজায় থাকলে ২০ বছর নয় আগামী ১০ বছরেই এদেশ হিন্দু শূন্য হয়ে যাবে। এ যেন এক মধ্যযুগীয় বর্বতার পরিবেশ বিরাজ করছে। গত কয়েক বছরে বিভিন্ন স্থানে পীর, সমকামী ও ভিন্ন মতাবলম্বী হত্যা, মঠ মন্দির ভাংচুর, পুরোহিত হত্যার এবং হত্যার ধরণ এর সাথে মধ্যপ্রাচ্যের মৌলবাদী গোষ্ঠী নৃশংস গোষ্ঠী আই.এস এর মানষিকতার মিল রয়েছে।

দেশের মানুষ জানার আগেই হত্যাকান্ডের আধাঘন্টার মধ্যেই তারা হত্যার দায়ও স্বীকারও করছে। অথচ সরকার আই.এস অস্তিত্ব বরাবরই অস্বীকার করছে। যদিও আমাদের মাননীয় প্রধান মন্ত্রী ঘোষণা করেছেন তিনি খুনিদের সম্পর্কে জানেন। এমতাবস্থায় এদেশের জনগণ বিশ্বাস করতে বাধ্য হচ্ছে সরকার নিজেদের চেয়ার রক্ষা করতে ইচ্ছা করেই এই খুনি চক্রের মুলোৎপাটন করছে না। এই অরাজকতাই বিরোধী দলগুলোকে দমিয়ে রেখে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার অপকৌশল হিসেবে নিয়েছেন।

বরাবরের মত সরকার অপরাধীদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার করতে ও শাস্তি বিধান করতে ব্যর্থ হয়েছে অথবা সদিচ্ছা নেই। বিভিন্ন স্থানে নবীর বিরুদ্ধে কটুক্তির গুজব এর অযুহাতে দেশে কয়েক ডজন হিন্দু শিক্ষক আজ জেল হাজতে দিন কাটাচ্ছে। এদেশের সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়য়ের অস্তিত্ব রক্ষায় এখনই তাদের মনোবল ফিরিয়ে আনা জরুরী। আর তাই জাতীয় সংসদে ৬০টি সংরক্ষিত আসন ও পৃথক নির্বাচন ব্যবস্থা পূণঃ প্রতিষ্ঠা এবং সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করে দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব সৃষ্টি হলে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় মানষিকভাবে স্বস্তি পাবে। আত্ম মনোবল ফিরে পাবে।

সংবাদ সন্মেলনে দাবী সমূহঃ

১।    আগামী ১ জুলাই মধ্যে সকল অপরাধীদের গ্রেফতার করতে হবে এবং দ্রুত বিচার ট্রাইবুনালে বিচার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি বিধান ও খুনি চক্রের মূলোৎপাটন করতে হবে।
২।    নির্বাচন চলাকালে ও নির্বাচন পরবর্তী হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর সহিংসতা ও নির্যাতন নিরোধ কল্পে এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে জাতীয় সংসদে ৬০টি সংরক্ষিত আসন ও পৃথক নির্বাচন ব্যবস্থা পূণঃ প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
৩।     একটি সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায় থেকে সমহারে মন্ত্রী নিয়োগ করতে হবে। আগামী ১ জুলাই ডিসেম্বর ২০১৬ এর মধ্যে সরকারকে উপরোক্ত দাবী বাস্তবায়নের সুস্পষ্ট ঘোষণা দিতে হবে। অন্যথায় আগামী ১৭ ঢাকা সহ সারা দেশে একযোগে বিক্ষোভ কর্মসূচী পালন পূর্বক পরবর্তী কর্মসূচী ঘোষণা করবে।


এ ক্যটাগরির আরো খবর..