উত্তেজক জয় বল ছাড়া উপায় নেই৷ তবে কেনিংটন ওভালে নিউজিল্যান্ড-বাংলাদেশ ম্যাচের শেষ মুহূর্তের উত্তেজনাটা যতটা না বাংলাদেশের ক্রিকেট নৈপুণ্যের ফসল, তার থেকে অনেক বেশি কিউয়ি ব্যাটসম্যানদের হঠকারী মানসিকতার দান৷ তবে ম্যাচ ঘিরে সাময়িক উত্তেজনা তৈরি হয় সন্দেহ নেই৷
সেই রোমাঞ্চকর পরিস্থিতি সামাল দিয়ে নিউজিল্যান্ড শেষমেশ ‘ভৃগুর দাদু নৃপেণ বাবু’র মতোই সহজ কাজ কঠিন করে সম্পন্ন করে৷ কার্যত একতরফা জয়ের সম্ভাবনায় জল ঢেলে কিউয়িরা বাংলাদেশেকে পরাস্ত করে মাত্র ২ উইকেটের ব্যবধানে৷
টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ ৪৯.২ ওভারে ২৪৪ রানে অলআউট হয়ে যায়৷ শাকিব আল হাসান অনবদ্য হাফসেঞ্চুরি করেন৷ বাকিরা সেট হয়েও উইকেট দিয়ে আসেন৷ ম্যাচ হেনরি দুরন্ত বোলিং করেন ওভালে৷
জবাবে ব্যাট করতে নেমে নিউজিল্যান্ড ৫৫ রানের মধ্য দুই ওপেনারের উইকেট হারিয়ে বস৷ তবে রস টেলর ও কেন উইলিয়ামসনের অভিজ্ঞ জুটি প্রাথমিক বিপর্যয় রোধ করে দলকে জয়ের দোরগোড়ায় নিয়ে যান৷ শেষবেলায় কিউয়ি ব্যাটসম্যানদের সাজঘরে ফেরার প্রতিযোগীতা জমে ওঠায় মুহূর্তের জন্য বাংলাদেশের জয়ের সম্ভাবনা উঁকি দেয়৷ তবে ফার্গুসনকে সঙ্গী করে মিচেল স্যান্টনার শষমেশ অঘটন ঘটতে দেননি৷ ৪৭.১ ওভারে নিউজিল্যান্ড ৮ উইকেটের বিনিময়ে ২৪৮ রান তুলে ম্যাচ জিতে যায়৷
বাংলাদেশ ইনিংসের শুরুটা মন্দ হয়নি৷ ওপেনিং জুটিতে তামিম ও সৌম্য ৮.৩ ওভারে ৪৫ রান তোলেন৷ সৌম্য ৩টি বাউন্ডারির সাহায্যে ২৫ বলে ২৫ রান করে হেনরির বলে বোল্ড হন৷ তামিম ফেরেন ৩টি বাউন্ডারির সাহায্যে ৩৮ বলে ২৪ রান করে৷ তাঁকে সাজঘরে ফেরান ফার্গুসন৷
মুশফিকুর রহিমকে সঙ্গে নিয়ে শাকিব তৃতীয় উইকেটের জুটিতে ৫০ রান যোগ করেন৷ মুশফিক ৩৫ বলে ১৯ রান করে দূর্ভাগ্যজনক রানআউট হন৷ মুশফিকুর ফেরার পর মহম্মদ মিঠুনকে সঙ্গী করে শাকিব আরও ৪১ রান যোগ করেন৷ ইতিমধ্যে টুর্নামেন্টে নিজের দ্বিতীয় হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি৷ শেষে ৭টি বাউন্ডারির সাহায্যে ৬৮ বলে ৬৪ রান করে গ্র্যান্ডহোমের বলে টম লাথামের হাতে ধরা দেন শাকিব আল হাসান৷
হেনরির বলে মহম্মদ মিঠুন আউট হন ৩৩ বলে ২৬ রান করে৷ মাহমুদুল্লাহ ৪১ বলে ২০ রান করে স্যান্টনারকে উইকেট দেন৷ মোসাদ্দেক হোসেন ট্রেন্ট বোল্টের বলে আউট হওয়ার আগে ২২ বলে ১১ রান করেন৷ মেহেদি হাসান মিরাজ বোল্টের দ্বিতীয় শিকার হন ব্যক্তিগত ৭ রানের মাথায়৷ ক্যাপ্টেন মাশরাফি মোর্তাজা মাত্র ১ রান করে হেনরিকে উইকেট দেন৷ মহম্মদ সঈফুদ্দিন ২৩ বলে ২৯ রানের আগ্রাসী ইনিংস খেলে হেনরির চতুর্থ শিকার হন৷
ম্যাট হেনরির ৪৭ রানে ৪ উইকেট ছাড়া ৪৪ রানে ২টি উইকেট নেন ট্রেন্ট বোল্ট৷ একটি করে উইকেট পেয়েছেন লোকি ফার্গুসন, কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম ও মিচেল স্যান্টনার৷ ২ ওভারে ২৪ রান খরচ করা জেমস নিশাম কোনও উইকেট তুলতে পারেননি৷
পালটা ব্যাট করতে নামা নিউজিল্যান্ডের দুই ওপেনার মার্টিন গাপ্তিল ও কলিন মুনরো আউট হন যথাক্রমে ব্যক্তিগত ২৫ ও ২৪ রানে৷ তৃতীয় উইকেটের জুটিতে উইলিয়ামসন ও টেলর ১০৫ রান যোগ করেন৷ একসময় ২ উইকেটে ১৬০ রান তোলা নিউজিল্যান্ডে ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামে আচমকাই৷ উইলিয়ামসন ৪০ ও টেলর ৮২ রানে আউট হন৷ খাতা খুলতে পারেননি লাথাম৷ নীশাম ও গ্র্যান্ডহোমের ব্যক্তিগত সংগ্রহ যথাক্রমে ২৫ ও ১৫৷ হেনরি আউট হন ৬ রান করে৷ স্যান্টনার ১৭ ও ফার্গুসন ৪ রান করে অপরাজিত থাকেন৷
বাংলাদেশের হয়ে ২টি করে উইকেট নেন মেহেদি হাসান মিরাজ, শাকিব আল হসান, মহম্মদ সঈফুদ্দিন ও মোসাদ্দেক হোসেন৷ মাশরাফি মোর্তাজা ও মুস্তাফিজুর রহমান কোনও উইকেট পাননি৷ চলতি বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের উপর্যুপরি দ্বিতীয় জয়ে ম্যাচের সেরা হয়েছেন টেলর৷


