বগুড়া ও আশপাশের এলাকাকে পরিকল্পিত, পরিবেশবান্ধব এবং আধুনিক নগর হিসেবে গড়ে তুলতে ‘বগুড়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০২৬’-এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। আইনটি কার্যকর হলে সমন্বিত নগর পরিকল্পনা, পরিবেশ সংরক্ষণ, তথ্যপ্রযুক্তি ও পর্যটন শিল্পের বিকাশ এবং টেকসই নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার জন্য একটি স্বতন্ত্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন করা হবে।
মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের ভেটিং শেষে আইনটির চূড়ান্ত রূপ দেওয়া হবে।
প্রস্তাবিত আইনের আওতায় বগুড়া সিটি করপোরেশন এবং সংলগ্ন এলাকা নিয়ে ‘বগুড়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’ নামে একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা প্রতিষ্ঠা করা হবে। চেয়ারম্যান, সার্বক্ষণিক সদস্য এবং বিভিন্ন সরকারি সংস্থার প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত এ কর্তৃপক্ষ নগর উন্নয়নের সার্বিক পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করবে।
আইনে মহাপরিকল্পনা, উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং স্থানীয় পর্যায়ের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য একটি ধাপভিত্তিক কাঠামো নির্ধারণের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এসব পরিকল্পনা প্রণয়নের আগে গণশুনানি ও প্রাক-প্রকাশসহ প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।
এছাড়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া নতুন কোনো নির্মাণকাজ বা উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা যাবে না।
খসড়া আইনে নদী, খাল, জলাশয়, খেলার মাঠ এবং উন্মুক্ত স্থান সংরক্ষণে কঠোর পরিবেশগত বিধান রাখা হয়েছে। নগরায়নের ফলে প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট না হয়, সে বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
আইনে ভূমি পুনর্বিন্যাস ও পুনঃউন্নয়নের মতো আধুনিক ভূমি ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কোনো এলাকায় ন্যূনতম ৬০ শতাংশ ভূমি মালিকের সম্মতি পাওয়া গেলে ভূমি পুনর্বিন্যাস কার্যক্রম গ্রহণ করা যাবে।
অননুমোদিত স্থাপনা নির্মাণ, জলাশয় ভরাটসহ বিভিন্ন অপরাধের জন্য কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। পাশাপাশি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নিজস্ব তহবিল গঠন, উন্নয়ন ফি নির্ধারণ, ঋণ গ্রহণ এবং আর্থিক নিরীক্ষার ব্যবস্থাও আইনে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
সরকারের প্রত্যাশা, নতুন এই আইন কার্যকর হলে বগুড়া অঞ্চলে অপরিকল্পিত নগরায়ন নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি টেকসই, দুর্যোগ-সহনশীল এবং আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত হবে।