× Banner
সর্বশেষ
শ্যামনগরে প্রতিবন্ধী,দুস্থ ও অসহায় ব্যক্তিদের মাঝে দুই লক্ষাধিক টাকার চেক বিতরণ শিল্প মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খানের ৪২তম শাহাদৎবার্ষিকী অনুষ্ঠিত তনু হত্যা মামলায় সাবেক সেনাসদস্য হাফিজুরের জামিন বাতিল, আত্মসমর্পণের নির্দেশ লিবিয়ায় মাফিয়ার নির্যাতনে মাদারীপুরের যুবকের মৃত্যু পাইকগাছায় ছাত্র ও দরিদ্র মানুষের মাঝে সাইকেল, সেলাই মেশিন ও ভ্যান বিতরণ মার্কিন প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহর কমান্ডারের বাংলাদেশ সফর শেষ ভারতীয় হাইক‌মিশনা‌রের স‌ঙ্গে আইএবিডির প্রতি‌নি‌ধিদ‌লের সাক্ষাৎ গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের জবাব চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি ১১ দলের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কা‌ছে ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধির পরিচয়পত্র পেশ

পিজি হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নামে মানুষের চরম দুর্ভোগ

admin
হালনাগাদ: শনিবার, ৮ অক্টোবর, ২০১৬

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ঢাকার প্রাণকেন্দ্র শাহবাগ এলাকায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (পিজি) হাসপাতাল বৈকালিক স্পেশালাইজড কনসালটেশন সার্ভিস চিকিৎসা সেবা পেতে দূর-দূরান্ত থেকে এসে মানুষের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ সেবাটি পেতে ওই ভবনেরই নিচ তলায় ডাক্তারি ব্যবস্থাপত্র বিক্রির জন্য একজন ব্যাংক কর্মকর্তা বিকালে ডিউটি পালন করেন। ব্যবস্থাপত্রটি ২০০ টাকার বিনিময়ে রোগী পান। এরপর ওই ব্যাংক কর্মকর্তা একটি সিরিয়াল নম্বর দিয়ে বিভিন্ন রুমে ডাক্তার দেখানোর জন্য পাঠান। ডাক্তার রোগী দেখার পর ব্যবস্থাপত্র লিখেন। ডাক্তারী ব্যবস্থাপত্রে মেয়াদকাল থাকে ৩০ দিনের মধ্যে ২ বার পরামর্শ নেয়া যাবে। খোঁজ-খবর নিয়ে জানা যায় এই সেবাটি বিকাল ২টা থেকে ৫টা পর্যন্ত চলে।

বরিশালের এক ভুক্তভোগী রোগী পুরাতন ঢাকার গেন্ডারিয়ায় তার ছেলের বাসায় ওঠে এবং সেখান থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর নাক কান ও গলা বিভাগের ডাক্তার অধ্যাপক কামরুল হাসান তরফদারকে দেখান ২০৯ নম্বর রুমে। রোগীর মাথায় প্রচ- ব্যথা এবং নাক থেকে গন্ধ আসে বলে ডাক্তারকে জানান। ডাক্তার ঔষধ লিখে দেন এবং নাক ও রক্তের দুটি টেস্ট দেন। ডাক্তার মৌখিকভাবে বলে দেন ব্যথা থাকলে টেস্ট দুটি করে দেখাবেন। রোগী ঔষধ খেয়ে কিছুটা উপকার অনুভব করে বলে জানা যায়। মাঝে মধ্যে ব্যথাও করে। তার ছেলে ব্যবস্থাপত্রে লেখা অনুযায়ী বৃহস্পতিবার ৬ অক্টোবর ২০১৬ ওই ডাক্তারকে টেস্ট দুটি দেখানোর জন্য বিকাল সাড়ে ৩টায় চেম্বারের সামনে উপস্থিত হন।

হাসপাতালে উক্ত ডাক্তারের চেম্বারের সামনে যাওয়ার পর ২০/২৫ জন রোগী দেখতে পান। ডাক্তার নাই। রোগীদের কাছে জিজ্ঞাসা করে জানতে পারেন ডাক্তারে মিটিং আছে, তাই চলে গেছেন। অন্যান্য রোগীসহ সবাই অপেক্ষা করছে ডাক্তারের জন্য। এরই মধ্যে ভিতর থেকে একজন লোক বের হয়ে দরজাটি লক করে চলে যান। কাছে একজন সিকিউরিটি পাওয়া যায় সে কিছু বলতে পারেন না। দায়িত্বপ্রাপ্ত কোন লোক পাওয়া যায়নি ওই রুমের ডাক্তার আসবেন কি আসবেন না তাও জানা যায়নি।

কিছুক্ষণ পর আসেন একজন মহিলা পরিচ্ছন্ন কর্মী। সে পরিস্কার করতে থাকেন চেম্বারের সামনের জায়গাগুলো ৫টা বেজে গেছে। ওই কর্মী বলতে থাকেন আপনারা চলে যান ৫টার পর আর স্যার আসবেন না। আপনারা আজকে ৬ অক্টোবর ২০১৬ তারিখ যারা দেখাতে পারেননি তারা আগামী শনিবার ৮ অক্টোবর  ২০১৬ তারিখ আসবেন দেখাতে পারবেন।

সেই অনুযায়ী আবার গেন্ডারিয়া থেকে ওই রোগীর রিপোর্টগুলো নিয়ে বিকাল সাড়ে তিনটায় শনিবার আসেন ডাক্তার দেখাতে। দায়িত্বরত সিকিউরিটি জানান তরফদার স্যার নাই, তাই পুরানো রোগী এবং রিপোর্ট কোনোটাই দেখবেন না এই স্যার। শুধুমাত্র আজকার যারা নতুন স্লিপ কেটেছেন তারাই দেখাতে পারবেন এই স্যারকে। সে অন্য আর কোনো তথ্যও দিতে পারেনি।

মফস্বল শহর থেকেও ওই হাসপাতালে বৃহস্পতিবার রোগী এসেছেন ডাক্তার দেখাতে। ডাক্তারি স্লিপগুলো জমা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু স্লিপগুলো রুমের মধ্যে আটকা পড়েছে বলে অনেক রোগীরা জানান। অনেক লোকই ওখান থেকে ফেরত যেতে বাধ্য হয়েছেন ভালো সেবা না পেয়ে। ২০০ টাকার ডাক্তার দেখাতে এসে অনেক মানুষই ২ থেকে ৩ হাজার টাকা খরচের সম্মুখীন হয়েছেন এই হাসপাতালে বৈকালিক চিকিৎসা সেবা নিতে। তিন চার দিন ঘোরাঘুরির পরও ডাক্তার না পেয়ে নিরুপায় হয়ে ফিরে যাচ্ছেন ভুক্তভোগী মানুষরা।


এ ক্যটাগরির আরো খবর..