নবীগঞ্জে তারণগাঁও স্কুলের শিক্ষকের উপর হামলা, প্রধান শিক্ষকসহ  আহত ২ 

নবীগঞ্জে তারণগাঁও স্কুলের শিক্ষকের উপর হামলা, প্রধান শিক্ষকসহ  আহত ২ 
নবীগঞ্জ উপজেলার তারণগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অভিযোগের তদন্ত চলাকালে তদন্ত কর্মকর্তার সামনেই প্রধান শিক্ষকের ওপর অর্তকিত হামলার ঘটনা ঘটেছে।
২৫ নভেম্বর  মঙ্গলবার দুপুরে এ হামলায় গুরুতর আহত হন প্রধান শিক্ষক সুবিনয় পুরকায়স্থ। তাঁকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে সহকারী শিক্ষক দুইজনও আহত হন।
গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা সুবিনয় পুরকায়স্থকে উদ্ধার করে নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, করগাঁও ইউনিয়নের ওই বিদ্যালয়ে দাতা সদস্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে ক্ষিতিশ দাশ ও তার চাচাতো ভাই রতীশ দাশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। কে হবেন দাতা সদস্য এ নিয়ে সৃষ্টি হয় মতানৈক্য। প্রধান শিক্ষক সুবিনয় পুরকায়স্থ দাতা সদস্য হিসেবে রতীশ দাশকে মনোনয়ন করেছেন এ অভিযোগ এনে ক্ষিতিশ দাশ উপজেলা শিক্ষা অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।
উক্ত অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার মোস্তফা কামাল ঐদিন  মঙ্গলবার দুপুরে বিদ্যালয়ে তদন্তে যান। এ সময় প্রধান শিক্ষক বক্তব্য দিচ্ছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ক্ষিতিশ দাশ, তার ছেলে কিরণ দাশসহ তাদের দলবল প্রধান শিক্ষকের ওপর অর্তকিত হামলা চালায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
সহকারী শিক্ষক অর্চনা রানী দাশসহ আরও একজন শিক্ষক প্রধান শিক্ষককে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে তারাও হামলাকারীদের আঘাতে আহত হন। পরে অর্চনা রানী দাশকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে নবীগঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং হামলার সঙ্গে জড়িত ক্ষিতিশ দাশ ও তার ছেলে কিরণ দাশকে থানায় নিয়ে যান।
ঘটনার পর শিক্ষক সমাজসহ স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। শিক্ষক সমাজ ও সচেতন মহল ঘটনাটির তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুত বিচার দাবি করেছেন।
সহকারী শিক্ষক সমাজের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ বলেন- “যেহেতু অভিযোগের তদন্ত চলছিল, তদন্তে শিক্ষক দায়ী হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষ রয়েছেন। কিন্তু চলমান তদন্তের সময় পূর্বপরিকল্পিতভাবে প্রধান শিক্ষকের ওপর হামলা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”
এ বিষয়ে নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোঃ কামরুজ্জামান বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ও উত্তেজনা নিরসনে দুজনকে আটক করা হয়েছিল। ক্ষিতিশ দাশ বৃদ্ধ ও অসুস্থ হওয়ায় পরিবারের জিম্মায় দেয়া হয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Kishori
লেখক / প্রতিবেদক

Kishori

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।