× Banner
সর্বশেষ
সাংবাদিকতা পেশা নির্ধারণে যথাযথ কর্তৃপক্ষ থাকা জরুরি -তথ্যমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্র-সৌদি ঐতিহাসিক পারমাণবিক চুক্তি: বেসামরিক কর্মসূচির আড়ালে বাড়ছে কৌশলগত উদ্বেগ বাংলাদেশ-থাইল্যান্ড বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা নতুন উচ্চতায় নেওয়ার আহ্বান ফিলিপাইনে শুরু ৩৩তম আসিয়ান আঞ্চলিক ফোরামের বৈঠক এলএনজি টার্মিনালে ত্রুটি, দেশজুড়ে তীব্র গ্যাস সংকট নয়াদিল্লিতে ফের উত্তেজনা, বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে আহত ৫ মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনায় ফের বাড়ল তেলের দাম, ব্রেন্ট ছাড়াল ৯৬ ডলার হাম ও ডেঙ্গুর দ্বৈত আতঙ্কে দেশ, বাড়ছে শিশু ও সাধারণ মানুষের ঝুঁকি দেশের ১০ জেলায় ৬০ কিমি বেগে ঝড়ো হাওয়া র পূর্বাভাস, নদীবন্দরে সতর্ক সংকেত চীনের ১ লাখ ডলার সহায়তা: বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক

নগরীতে রাত নামলেই যুবলীগ নেতার রমরমা জুয়ার আসর!

Kishori
হালনাগাদ: রবিবার, ২১ ডিসেম্বর, ২০২৫
রমরমা জুয়ার আসর

জুয়া—শব্দটি ছোট হলেও মানুষের জীবন ধ্বংস করার ক্ষমতা সীমাহীন। জুয়া খেলায় আসক্ত হয়ে প্রতিনিয়ত বাড়ছে পারিবারিক অশান্তি, সামাজিক অবক্ষয় ও অপরাধপ্রবণতা। বরিশাল নগরীর বিভিন্ন স্পটে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে প্রতিনিয়তই বসছে রমরমা জুয়ার আসর। রাত হলেই নগরীর বিভিন্ন এলাকায় লাখ লাখ টাকার জুয়া খেলার আয়োজন চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ওয়ান-টেন, তিন তাস, কাটা-কাটিসহ নানা নামে পরিচালিত এসব জুয়ার আসর নগরীর বিভিন্ন পাড়া-মহল্লার বাসা-বাড়ি ও অফিসে গোপনে বসানো হচ্ছে। এতে একদিকে জুয়াড়িরা সর্বস্বান্ত হলেও অন্যদিকে আয়োজক চক্র হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, বরিশাল নগরীর ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাঘিয়া এলাকায় একটি ফ্লাট বাসায় নিয়মিত জুয়ার আসর বসানো হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, রফিকুল ইসলাম রফিক নামের এক ব্যক্তি সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত সেখানে লাখ লাখ টাকার জুয়া খেলানোর আয়োজন করেন। খেলোয়াড়রা টাকা ভর্তি ব্যাগ নিয়ে ওয়ান-টেন বোর্ডের সামনে দাঁড়ান এবং শেষ রাত পর্যন্ত চলে ভাগ্যের এই নিষ্ঠুর খেলা।
অভিযোগ রয়েছে,  এমনকি বড় জুয়াড়িদের  নারীর ব্যবস্থাও রাখা হয়।
একটি সূত্রের দাবি, এসব জুয়ার আসরে অবাধে মাদক সরবরাহ করার পাশাপাশি জুয়াড়িদের মনোরঞ্জনের জন্য নারী ব্যবস্থা রাখা হয়। সেই সঙ্গে বেনসনসহ দামি সিগারেট সরবরাহ করে ওয়ান-টেন বোর্ডে খেলায় উৎসাহ দেওয়া হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই খেলোয়াড়রা নিঃস্ব হয়ে ফিরলেও আয়োজক ও তথাকথিত ‘গডফাদাররা’ গাড়ি-বাড়ির মালিক বনে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, বরিশাল সদর উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের বিল্ববাড়ি এলাকার বাসিন্দা এবং লাইসেন্সবিহীন একটি ক্ষুদ্র সমবায় সমিতির প্রোপাইটর রফিকুল ইসলাম রফিকের প্রত্যক্ষ মদদেই এসব জুয়ার আসর বসছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রফিক অতীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন। পাশাপাশি তিনি বরিশাল-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীমের অনুসারি এবং মহানগর ছাত্রলীগের আহ্বায়ক রাইজ আহমেদ মান্নার ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
জুয়ার আসর বসার সময় সড়কের দুই প্রান্তে ক্যাডাররূপী যুবকদের পাহারায় রাখা হয়। অভিযোগ রয়েছে, দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তারা মহড়াও দেন। স্থানীয় কয়েকজনকে ‘ম্যানেজ’ করে ফ্লাটটি ভাড়া নিয়ে জুয়ার আয়োজন করা হয়।
রফিকুল ইসলাম রফিকের বিরুদ্ধে আগেও একাধিক অভিযোগ রয়েছে। ২০২৩ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর নগরীর রুপাতলীর তুরাগ পেট্রোল পাম্পের পেছনে বাচ্চু মুন্সির ভাড়াটিয়া বাসায় অভিযান চালিয়ে কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশ তাকে আটক করে। এছাড়া ২০২৪ সালের ২২ অক্টোবর মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ অজ্ঞান পার্টির সক্রিয় সদস্য হিসেবে তাকে গ্রেপ্তার করে।
জানা গেছে, বিকাশ, নগদ ধার, মোবাইল, ঘড়ি, স্বর্ণ বন্ধক এমনকি মাদকও দেওয়া হয় জুয়া খেলতে। পরবর্তীতে প্রভাবশালীদের মদদে বিভিন্ন এজেন্টের মাধ্যমে জুয়াড়িদের কাছ থেকে টাকা আদায় করে এই আয়োজকরা। এতে করে একদিকে খেলোয়াড়রা সর্বস্বান্ত হচ্ছে, অন্যদিকে আয়োজক চক্র ফুলে-ফেঁপে উঠছে।
অভিযোগ রয়েছে, আয়োজকদের নির্ধারিত মাইক্রোবাসে বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে জুয়াড়িদের আনা-নেওয়ার ব্যবস্থাও করা হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক জুয়াড়ি জানান, দিনে-রাতে অবাধে ওয়ান-টেন জুয়া খেলা হয়। বিভিন্ন জেলার জুয়াড়ি ও মাদকসেবীরা নিয়মিত এতে অংশ নেয়। বিষয়টি পুলিশ ও স্থানীয় এলাকাবাসী জানলেও কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পান না।
তাদের অভিযোগ, কেউ প্রতিবাদ করলে মারধর করা হয় এবং মিথ্যা মামলায় হয়রানির শিকার হতে হয়।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত রফিকুল ইসলাম রফিকের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার সুশান্ত সরকার বলেন, “বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জুয়া ও মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান চলমান রয়েছে। এসময় দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।”


এ ক্যটাগরির আরো খবর..