এক দফা দাবি আদায়ে যুগপৎ আন্দোলনের অংশ হিসাবে পাঁচ দিন ব্যাপী কর্মসূচী ঘোষণা করে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন-এনডিএম চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ বলেছেন, “রাজনৈতিক সমাধান ছাড়া তফসিল ঘোষণা হলে লাগাতার হরতাল-অবরোধ দেওয়া ছাড়া আমাদের আর কোন বিকল্প থাকবে না।“
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এবং মহাসচিবকে সংসদ থেকে পদত্যাগ করার আহবান জানিয়ে ববি হাজ্জাজ বলেন, “দলগতভাবে না পারলেও অন্তত আপনারা দুইজন বর্তমান সংসদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিন। যদি আওয়ামী লীগের লেজুড়বৃত্তির না করে জনতার রাজনীতি করতে চান তাহলে এটাই আপনাদের জন্য সুবর্ণ সুযোগ।“ তিনি বলেন, “পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কোণঠাসা জামায়াত যদি আন্দোলনের মাঠে পূর্ণ সক্রিয় হয় তাহলে আন্দোলন ভিন্নমাত্রা পাবে বলে আমরা মনে করি। একইসাথে আমি মূলধারার সব ইসলামি শক্তিগুলোকে এই সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথে নামার আহ্বান জানাচ্ছি। মনে রাখবেন, কওমি সনদের স্বীকৃতি প্রদান আর মডেল মসজিদ নির্মাণ করলেও এই সরকারের আমলেই আপনাদের মুরব্বিরা সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত হয়েছে, ইসলাম বিরোধী অপশক্তির উত্থান হয়েছে এবং ধর্মকে রাজনীতি আর সংস্কৃতির প্রতিপক্ষ বানানো হয়েছে।“
প্রধানমন্ত্রীকে ইঙ্গিত করে ববি হাজ্জাজ বলেন, “এতবছর তাঁর সুপুত্র বাংলাদেশে কেনো ছিলেন না? এখন তাঁর সুপুত্রের সকল সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করছে যুক্তরাষ্ট্রের সরকার, যেটা উনি নিজে উনার বক্তব্যে তুলে ধরেছেন। তাহলে উনারা কেনো পরিষ্কার করতে পারেন না দেশবাসীর সামনে, যে তাঁর পুত্রের কতখানি সম্পদ বাজেয়াপ্ত করছে?”
ববি হাজ্জাজ বলেন, “গত ১৫ বছরে আদালত, নির্বাচন কমিশন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বেসামরিক প্রশাসন এবং গণমাধ্যমকে সরকার যেভাবে আজ্ঞাবহ দলীয় প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছে সেখানে কোন আলাদিনের চেরাগ দিয়েও রাতারাতি নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত করা সম্ভব নয়।“
এনডিএম ঘোষিত কর্মসূচিরগুলোর মধ্যে রয়েছে ছাত্র-শ্রমিক পদযাত্রা, মশাল মিছিল, নির্বাচন কমিশনে স্মারকলিপি প্রদান, সচিবালয় প্রবেশমুখে অবস্থান ইত্যাদি। এসময় আরও উপস্থিত দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মোমিনুল আমিন, সাংগঠনিক সম্পাদক লায়ন নুরুজ্জামান হীরা, যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক জাবেদুর রহমান জনি প্রমুখ।