× Banner
সর্বশেষ
ওভারথিংকিং ডিটক্স ব্লুপ্রিন্ট বইটির মোড়ক উন্মোচন করলেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি, অধিকাংশ জেলায় স্বাভাবিক অবস্থা ফিরছে প্রস্তাবিত কর্পোরেট গভর্ন্যান্স রুলস ২০২৬ নিয়ে আইসিএসবির সিপিডি প্রোগ্রাম মাগুরায় ১০ হাজার গাছের চারা রোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন সংস্কৃতি মন্ত্রী মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলনের আহ্বান পানি সম্পদমন্ত্রীর মহেশপুর সীমান্ত দিয়ে ৬ জনকে পুশইন চেষ্টা রুখে দিয়েছে বিজিবি ঝিনাইদহে প্রথমবার পালিত হলো বিশ্ব পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধ দিবস তথ্য ও উপাত্তের ভিত্তিতে নিরপেক্ষভাবে কাজ করাই পেশাদার সাংবাদিকতার মূল দর্শন – তথ্যমন্ত্রী Inner Wheel Club of Dhaka Cosmopolitan 2026–2027 Handover Ceremony & Collar Exchange Program ব্যবসা সম্প্রসারণেই অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব, ব্যবসায়ীদের প্রতি পরিবেশমন্ত্রীর আহ্বান

মাদারীপুর প্রতিনিধি

চোর অপবাদে চোখ উপড়ে ফেলার ৭ মাস: ৯ সন্তান নিয়ে মানবেতর জীবনে জাকির

Kishori
হালনাগাদ: শুক্রবার, ১৩ মার্চ, ২০২৬
মানবেতর জীবনে জাকির

​পূর্ব শত্রুতার জেরে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে চোর অপবাদ দিয়ে পৈশাচিক কায়দায় চোখ উপড়ে ফেলা হয়েছিল কসমেটিকস বিক্রেতা জাকির শেখের। সিরিঞ্জ, খেজুর কাঁটা ও কাঁটা চামচ ব্যবহার করে করা সেই নৃশংসতার দীর্ঘ সাত মাস পার হলেও এখন পর্যন্ত একজন আসামিও গ্রেফতার হয়নি। উল্টো প্রভাবশালী আসামিদের বাঁচাতে চার্জশিট থেকে নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। বর্তমানে ৯ সন্তান নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন অন্ধ জাকির।

​মামলার তথ্য ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ২০২৫ সালের ১০ আগস্ট মাদারীপুর সদর উপজেলার শিরখাড়া ইউনিয়নের পশ্চিম মাঠ গ্রামের জাকির শেখকে তার নিজ বাড়ি থেকে রফিকুল ইসলাম ওরফে মফেজ শেখের নেতৃত্বে ১৬ জন মিলে অপহরণ করে নিয়ে যায়। এরপর তাকে মিথ্যা চুরির অপবাদ দিয়ে আটকে রাখা হয়। সেখানে সিরিঞ্জ ও কাঁটা চামচ দিয়ে খুঁচিয়ে তার দুই চোখ উপড়ে ফেলে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত করে হত্যার চেষ্টা চালানো হয়।

​ঘটনার পর জাকির শেখের স্ত্রী ঝিনুক বেগম মাদারীপুর সদর থানায় ১৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিলেও থানা কর্তৃপক্ষ শুরুতে মামলাটি গ্রহণ করেনি। পরবর্তীতে ১৮ আগস্ট আদালতের নির্দেশে মামলা নথিভুক্ত করে সদর থানা। তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় মাদারীপুর মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক মো. মাহমুদুল হাসানকে।

​ভুক্তভোগী জাকির শেখের অভিযোগ, আসামিরা প্রভাবশালী হওয়ায় পুলিশ তাদের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে। দীর্ঘ সাত মাসেও কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। এছাড়া ১৬ জন আসামির নাম থাকা সত্ত্বেও রহস্যজনকভাবে ৯ জন আসামিকে চার্জশিট থেকে বাদ দিয়ে মাত্র ৬ জনের নামে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। নাম বাদ পড়া আসামিরা হলেন— কহিনুর মাতুব্বর (৫৫), সজিব মাতুব্বর (২৭), কামাল মাতুব্বর (৪৮), অহিদ শেখ (৩৭), ওমর আলী মাতুব্বর (৪০), বাবলু ফকির (৪৬), সাদ্দাম মাতুব্বর (২৮) ও তানভির মাতুব্বর (২২)।

​পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি অন্ধ হয়ে যাওয়ায় ৯ সন্তান নিয়ে চরম খাদ্য সংকটে দিন কাটছে জাকির শেখের। স্ত্রী ঝিনুক বেগম জানান, চার্জশিটে গড়মিল দেখে তারা আদালতে নারাজি পিটিশন দিয়েছেন। যার প্রেক্ষিতে আদালত মামলাটি পুনরায় তদন্তের জন্য ডিবি (ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চ) পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন।

​এলাকাবাসী ও নিহতের সন্তানেরা এই মধ্যযুগীয় বর্বরতার সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

​এ বিষয়ে মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “মামলাটি বর্তমানে ডিবি পুলিশের কাছে পুনঃতদন্তাধীন রয়েছে। আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখছি। যারা এই ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িত, তাদের অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে।”

​দৃষ্টিহীন জাকির শেখ এখন তার ৯ সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায়। প্রশাসনের সদিচ্ছাই পারে এই অসহায় পরিবারটিকে ন্যায়বিচার এনে দিতে।


এ ক্যটাগরির আরো খবর..