× Banner
সর্বশেষ
শ্যামনগরে প্রতিবন্ধী,দুস্থ ও অসহায় ব্যক্তিদের মাঝে দুই লক্ষাধিক টাকার চেক বিতরণ শিল্প মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খানের ৪২তম শাহাদৎবার্ষিকী অনুষ্ঠিত তনু হত্যা মামলায় সাবেক সেনাসদস্য হাফিজুরের জামিন বাতিল, আত্মসমর্পণের নির্দেশ লিবিয়ায় মাফিয়ার নির্যাতনে মাদারীপুরের যুবকের মৃত্যু পাইকগাছায় ছাত্র ও দরিদ্র মানুষের মাঝে সাইকেল, সেলাই মেশিন ও ভ্যান বিতরণ মার্কিন প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহর কমান্ডারের বাংলাদেশ সফর শেষ ভারতীয় হাইক‌মিশনা‌রের স‌ঙ্গে আইএবিডির প্রতি‌নি‌ধিদ‌লের সাক্ষাৎ গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের জবাব চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি ১১ দলের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কা‌ছে ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধির পরিচয়পত্র পেশ

ডেস্ক

চীনের মেগা বাঁধ প্রকল্পে সক্রিয় ভূ-ফাটল: বাংলাদেশ ও ভারতের জন্য বাড়ছে মহা-বিপর্যয়ের ঝুঁকি

admin
হালনাগাদ: সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬

তিব্বতের ইয়ারলুং সাংপো (যা ভারত ও বাংলাদেশে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নামে পরিচিত) নদীর ওপর বিশ্বের সর্ববৃহৎ জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণ করছে চীন। তবে এই মেগা প্রকল্পের স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ তৈরি করেছে চীনের রাষ্ট্রীয় জিওলজিক্যাল সার্ভের সাম্প্রতিক একটি চাঞ্চল্যকর গবেষণা। প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রস্তাবিত বাঁধের ঠিক নিচ দিয়েই রয়েছে ‘পাইজেন ফল্ট’ নামের একটি অত্যন্ত সক্রিয় ভূ-ফাটল, যা যেকোনো সময় বড় ধরনের ভূমিকম্প ও বাঁধ বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে।

গত বছর শুরু হওয়া এই বিশাল প্রকল্প থেকে বছরে প্রায় ৩০০ বিলিয়ন কিলোওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বেইজিং। উৎপাদন সক্ষমতার দিক থেকে এটি চীনের বর্তমান রেকর্ডধারী ‘থ্রি গর্জেস’ বাঁধের চেয়েও প্রায় তিন গুণ বড় হতে চলেছে। কিন্তু এই বিশাল নির্মাণযজ্ঞই এখন ভাটির দেশ—ভারত ও বাংলাদেশের পরিবেশ, অর্থনীতি এবং লাখ লাখ মানুষের জীবনের জন্য এক বড় ‘টাইম-বোমা’ হিসেবে দেখা দিয়েছে।

### সক্রিয় ভূ-ফাটল ও পাহাড় ধসের আশঙ্কা

চীনা গবেষকদের মতেই, বাঁধ এলাকার তলদেশে থাকা ‘পাইজেন ফল্টটি’ ভূতাত্ত্বিকভাবে এখনো সক্রিয় এবং প্রায় ৯ হাজার ৫০০ বছর আগেও এখানে বড় ধরনের নড়াচড়ার প্রমাণ রয়েছে। ২০১৭ সালে তিব্বতে হওয়া ৬ দশমিক ৯ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পটি এই ফাটলের সক্রিয়তারই একটি বড় উদাহরণ।

গবেষণায় সতর্ক করে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিনের ভূ-তাত্ত্বিক নড়াচড়ার কারণে জলাধারের আশপাশের শিলা ও মাটির গঠন অত্যন্ত আলগা এবং দুর্বল হয়ে পড়েছে। ফলে, ভূমিকম্প কিংবা দীর্ঘ সময় ধরে বিশাল জলাধারের পানির প্রচণ্ড চাপে এখানে ভয়াবহ পাহাড় ধস বা ভূমিধস ঘটতে পারে। এতে সেতু, সুড়ঙ্গ ও সড়কসহ পুরো জলবিদ্যুৎ অবকাঠামোর স্থিতিশীলতা ভেঙে পড়ার মারাত্মক ঝুঁকি রয়েছে।

### ভাটির দেশগুলোতে সম্ভাব্য বিপর্যয়

বিশেষজ্ঞদের মতে, হিমালয় অঞ্চলের এই অত্যন্ত সংবেদনশীল টেকটোনিক জোনে এত বড় বাঁধ নির্মাণ করা চরম ঝুঁকিপূর্ণ। যদি কোনো কারণে ভূমিকম্পে এই বাঁধটি ক্ষতিগ্রস্ত হয় বা ভেঙে যায়, তবে মুহূর্তের মধ্যে কয়েকশ কিউবিক কিলোমিটার পানি ভারতের অরুণাচল, আসাম এবং বাংলাদেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে প্রবেশ করবে। এর ফলে মানব ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ ও প্রলয়ংকরী কৃত্রিম বন্যা বা প্লাবনের মুখোমুখি হতে পারে এই অঞ্চল।

এছাড়াও, শুষ্ক মৌসুমে চীন যদি বিদ্যুৎ উৎপাদন বা নিজস্ব প্রয়োজনে পানি ধরে রাখে, তবে বাংলাদেশ ও ভারতের আসামে তীব্র পানির সংকট দেখা দেবে, যা কৃষি, মৎস্যসম্পদ ও জীববৈচিত্র্যকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেবে। অন্যদিকে, বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত পানি ছাড়ার কারণে বাংলাদেশে আকস্মিক বন্যার প্রকোপ বহুগুণ বেড়ে যেতে পারে।

### ভূরাজনীতি ও পানি কূটনীতি

বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের সবচেয়ে বড় এই জলবিদ্যুৎ প্রকল্পটি কেবল একটি সাধারণ প্রকৌশলগত উদ্যোগ নয়, এটি দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতে একটি বড় কৌশলগত ইস্যু। আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী, অভিন্ন নদীর পানির ওপর ভাটির দেশগুলোর সমান অধিকার থাকলেও চীন এই মেগা প্রকল্পের বিষয়ে শুরু থেকেই একতরফা নীতি বজায় রেখেছে।

ভারত ইতিমধ্যেই এই প্রকল্প নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং বেইজিংয়ের কাছে আরও স্বচ্ছতা ও ভাটির দেশগুলোর স্বার্থ রক্ষার আহ্বান জানিয়েছে। আন্তর্জাতিক নদী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিরাপত্তা ও পরিবেশগত এই বিশাল ঝুঁকিগুলো যদি এখনই আঞ্চলিক আলোচনার মাধ্যমে যৌথভাবে সমাধান করা না হয়, তবে এই মেগা প্রকল্প ভবিষ্যতে এশিয়ায় বড় ধরনের আঞ্চলিক দ্বন্দ্ব ও মানবিক সংকটের সূত্রপাত করতে পারে।


এ ক্যটাগরির আরো খবর..