× Banner
সর্বশেষ
রাজনৈতিক বিভেদের ঊর্ধ্বে থেকে আইনজীবীদের কল্যাণে কাজ করতে হবে – আইনমন্ত্রী মাহ্দী আমিনের সাথে জ্যঁ পেম-এর সাক্ষাৎ বাংলাদেশে মানসম্পন্ন উন্নত আধুনিক চিকিৎসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হবে – সমাজকল্যাণ মন্ত্রী যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনে গৃহবধূর মৃত্যু; শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা পলাতক জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক রূপান্তরের প্রধান কারিগর যাদু মিয়া – তথ্যমন্ত্রী বিনা চিকিৎসায় কোনো নাগরিক মারা যাবে না – স্বাস্থ্যমন্ত্রী মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রীর সাথে বাংলাদেশে নিযুক্ত ডব্লিউএফপি’র কান্ট্রি ডিরেক্টরের সাক্ষাৎ পাইকগাছায় ঘরের তালা ভেঙে আরএফএল কর্মকর্তার লাশ উদ্ধার, বাইকসহ চম্পট রুমমেট নির্মাণ কাজের গুণগত মানে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া যাবে না – নৌ প্রতিমন্ত্রী ৩ দফা দাবিতে মোবারকগঞ্জ সুগার মিলসে ৫ দিনের আন্দোলন, বিক্ষোভ মিছিল ও কর্মবিরতি পালন

কক্সবাজার-বাঁকখালীতে হেফজখানা ও মসজিদের সাইনবোর্ড টাঙিয়ে ৫০০ একর জমি বেদখল

admin
হালনাগাদ: শনিবার, ১২ অক্টোবর, ২০১৯

কক্সবাজারে বাঁকখালী নদীভূমি দখলের জন্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, হেফজখানা ও মসজিদের সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দিচ্ছে দখলদাররা। বাঁকখালী নদীর ৫০০ একর ভূমি দখল করে নিয়েছে এমন ১৫৭ জন দখলদার।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসন ও সদর থানা থেকে মাত্র কয়েকশ’ মিটার দূরে প্রধান নৌঘাট কস্তুরাঘাট। ঘাটের সংযোগ সড়কের দু’পাশে বাঁকখালী নদীর তীরে নানা অবৈধ স্থাপনা গড়ে তুলছে দখলদাররা। বাঁকখালী নদীর এই পয়েন্টে সম্প্রতি নির্মিত হচ্ছে খুরুশকুল ব্রিজ। স্বাভাবিকভাবেই এখানে জমির মূল্য ও গুরুত্ব বেড়েছে কয়েকগুণ। সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে নদী দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের প্রতিযোগিতা। নৌঘাটের পাশেই কয়েক দিন আগে দুই কক্ষের একটি ঘর তুলে সেখানে লাগানো হয়েছে তিনটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বায়তুন নূর জামে মসজিদ, তাহফিজুল কোরআন মাদ্রাসা ও এতিমখানার সাইনবোর্ড। এভাবে অন্তত পাঁচ একর ভূমি দখল করেছে প্রভাবশালী চক্র। কোনো শিক্ষার্থী না থাকলেও এখানকার এই মাদ্রাসায় একজন শিক্ষককে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

মাদ্রাসার দায়িত্বপ্রাপ্ত কথিত শিক্ষক মাওলানা নেজাম উদ্দিন বলেন, ‘এ তিনটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেছেন আতিকুল ইসলাম সিআইপি। কিছুদিন ধরে আমরা এ প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছি। এখানে ৮-১০ জন ছাত্র রয়েছে।’ দুটি মাত্র কক্ষে মসজিদ মাদ্রাসা ও হেফজখানা কীভাবে পরিচালনা করেন, জানতে চাইলে তিনি কোনো উত্তর দেননি।

স্থানীয় একজন জনপ্রতিনিধি বলেন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নামে নদীর চর দখল করেছেন ঠিকাদার আতিকুল ইসলাম। নদীর এই পয়েন্টে অন্য তীরে আরও অনেক ভূমি দখল করেছেন তিনি। সেখানে ভূমি ভরাট করে প্লট তৈরি করা হয়েছে। যা নিয়ে পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। নদী রক্ষা কমিশনের শীর্ষ কর্মকর্তারা সম্প্রতি স্থানটি পরিদর্শন করে অবৈধ দখলদারকে উচ্ছেদে নির্দেশ দিয়েছেন।

কিন্তু প্রশাসন কোনো নির্দেশই কার্যকর করছে না। তবে অভিযুক্ত আতিকুল ইসলাম বলেন, নিজের জমিতেই মসজিদ-মাদ্রাসা নির্মাণ করেছেন। এ-সংক্রান্ত কাগজপত্রও তিনি জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের দিয়েছেন। তিনি বলেন, সরকারদলীয় কিছু নেতাকর্মী জমি থেকে জোর করে মাটি তুলে বিক্রি করছে। তিনি তাতে বাধা দেওয়ায় তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ রটানো হচ্ছে।

কক্সবাজারে একটি সভায় জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মুজিবুর রহমান হাওলাদার বলেছেন, দেশের বিদ্যমান আইনে নদী ইজারা দেওয়ার ক্ষমতা কাউকে দেওয়া হয়নি। কেউ কোনো দলিলমূলে নদী দখল করলেও আইনত তা অবৈধ। এই দলিল বাতিল করার ক্ষমতা জেলা কালেক্টরকে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে বাঁকখালী নদীর অবৈধ দখলদারদের একটি তালিকা করেছে স্থানীয় জেলা প্রশাসন। যে তালিকার শীর্ষেই রয়েছে ঠিকাদার আতিকুল ইসলামের নাম। বাঁকখালীর অবৈধ দখলকারীদের মধ্যে ১৫৭ প্রভাবশালীর একটি তালিকা নদী রক্ষা কমিশনের ওয়েবপেজে প্রকাশ করা হয়েছে। তবে পিতার নাম ও কোনো ঠিকানা না থাকায় এ তালিকা পূর্ণাঙ্গ হতে পারেনি। প্রভাবশালীদের রক্ষা করার জন্য এই দায়সারা তালিকা করা হয়েছে বলে অভিযোগ পরিবেশকর্মীদের। তারা বলেন, প্রভাবশালীরা পাঁচশ’ একরের বেশি ভূমি দখল নিয়েছে। যদিও তালিকায় বেদখল জমির পরিমাণ সামান্য দেখানো হয়েছে। বাঁকখালী নদীর দুই তীরে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদে সুশীল সমাজ ও পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো বিভিন্ন সময় আন্দোলন ও মানববন্ধন করেছে। প্রয়োজনীয় তহবিল বরাদ্দ না থাকার অজুহাতে উচ্ছেদকে এড়িয়ে যাচ্ছে প্রশাসন।

কক্সবাজার পরিবেশ ও বন সংরক্ষণ পরিষদের সভাপতি দীপক শর্মা দীপু বলেন, বাঁকখালী দখলকারীদের উচ্ছেদে হাইকোর্টের নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু প্রশাসনের নীরবতায় দখলকারীদের দাপটও বাড়ছে। তহবিল বরাদ্দ না থাকলেও উচ্ছেদ অভিযান চালানো যায়। অন্যান্য আইনি পদক্ষেপও নেওয়া যেতে পারে; কিন্তু তা হচ্ছে না।


এ ক্যটাগরির আরো খবর..