এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের জন্য এবার বিপুলসংখ্যক আবেদন জমা পড়েছে। দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে মোট প্রায় পৌনে ১৩ লাখ খাতা পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেছেন শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষা বোর্ডগুলোর ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ১০ সেপ্টেম্বর এসব আবেদনের ফল প্রকাশ করা হবে।
চলতি বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ১১ লাখের বেশি শিক্ষার্থী পাস করেছে। তাদের মধ্যে ৪ লাখেরও বেশি পরীক্ষার্থী ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেছে।
একজন পরীক্ষার্থী একাধিক বিষয়ের উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করতে পারায় পরীক্ষার্থীর সংখ্যার তুলনায় আবেদনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি হয়েছে।
তবে বিপুলসংখ্যক আবেদন জমা পড়ায় নির্ধারিত সময়ে ফল প্রকাশ করা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। যদিও শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী ১০ সেপ্টেম্বরই পুনর্নিরীক্ষণের ফল প্রকাশের প্রস্তুতি চলছে।
বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, আমাদের টার্গেট ১০ সেপ্টেম্বর। আশা করি, শিক্ষার্থীরা ওই দিনেই ফল পাবে। যদি কোনো কারণে ফল প্রকাশে দেরি হয়, তাহলে তাদের একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদনের সময়ও বাড়িয়ে দেওয়া হবে।
গত ১১ আগস্ট এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন শুরু হয়। ১৭ আগস্ট রাত পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা আবেদন করার সুযোগ পান। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে ৪ লাখ ২ হাজার ৫১ জন পরীক্ষার্থী পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেন।
এর মধ্যে লিখিত পরীক্ষার উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন জমা পড়ে ১০ লাখ ৫৬ হাজার ৪৫৫টি। আর ব্যবহারিক পরীক্ষার উত্তরপত্রের জন্য আবেদন করা হয় ২ লাখ ৩১ হাজার ৪৭১টি।
বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, সবচেয়ে বেশি আবেদন পড়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে। এই বোর্ডে ৯৪ হাজার ২৩৬ জন পরীক্ষার্থী লিখিত পরীক্ষার ২ লাখ ৭৭ হাজার ৬৬৫টি এবং ব্যবহারিক পরীক্ষার ৫৮ হাজার ১২টি উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেছেন।
এ ছাড়া কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে ৩৫ হাজারের বেশি, রাজশাহীতে ৩৯ হাজারের বেশি, যশোরে ২৮ হাজারের বেশি, চট্টগ্রামে ৩৯ হাজারের বেশি, বরিশালে ১৭ হাজারের বেশি, সিলেটে ২০ হাজারের বেশি, দিনাজপুরে ৩৭ হাজারের বেশি এবং ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডে ২৭ হাজার ৬৭৬ জন পরীক্ষার্থী পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেছেন।
অন্যদিকে মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে ৪০ হাজারের বেশি এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ২০ হাজারের বেশি পরীক্ষার্থী ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেছেন।



