নিজস্ব প্রতিবেদকঃ মহানগর দায়রা জজ আদালতের ভুয়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানায় ঢাকার নিম্ন আদালতের এক আইনজীবীকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকার ওয়ারী থানা পুলিশ।
গতকাল সোমবার নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় ঢাকা জজকোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ মোস্তফা কামালকে। ওই আইনজীবী বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল মাই টিভি ও দৈনিক সরেজমিন বার্তার আদালত প্রতিবেদক।
এ বিষয়ে জানতে চাইল মোস্তফা কামাল বলেন, ‘গ্রেপ্তারের পর থানা থেকে আমাকে আদালতে প্রেরণ করা হয়। আদালতে প্রেরণ করা হলে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-২-এর বিচারক মমতাজ বেগম দ্রুত আমাকে মুক্তির নির্দেশ দেন।’
‘গ্রেপ্তারি পরোয়ানায় মামলা নম্বর ছিল দায়রা-৯৬২/২০১৩। মামলার সূত্র ছিল—খিলগাঁও থানার মামলা ৭৮(১১)২০০৭। ধারা-৩০২/৩৪।’
মোস্তফা কামাল জানান, পরোয়ানায় দেখা যায়, চলতি বছরের ১৫ জুন ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত থেকে তাঁর বিরুদ্ধে তৎকালীন বিচারক ইমরুল কায়েস গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। কিন্তু মামলার নথিতে দেখা যায়, এ তারিখে মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল নামের কোনো গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ইস্যু বা আদেশ দেওয়া হয়নি।
মোস্তফা কামাল আরো বলেন, আদালতের পেশকারকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হয়। পেশকার বলেন, আদালতের ওমেদার হাসান এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তৈরি করেছেন।
এই ভুয়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়ার পর আদালতপাড়ায় রীতিমতো আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। আদালতের দাপ্তরিক কাজে দায়িত্বরত ব্যক্তিদের প্রতি সমালোচনার ঝড় বইছে।
ঢাকার কোর্ট রিপোর্টার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বলেন, এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছেন তিনি। একজন সাংবাদিক ও আইনজীবীকে মিথ্যা পরোয়ানা দিয়ে যেভাবে হয়রানি করা হয়েছে, তা হতাশাজনক। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে। তা না হলে আদালতের প্রতি মানুষের আস্থা কমে যাবে।
আজাদ আরো বলেন, গ্রেপ্তারি পরোয়ানার বিষয়ে বিচারক ও আদালতের কর্মচারীদের আরো সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।