× Banner
সর্বশেষ
ধর্মমন্ত্রীর আশু আরোগ্য কামনায় দেশজুড়ে হেফাজতে ইসলামের বিশেষ দোয়া দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি, সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত ১১২ টাকায় সরকারি চাকরি পাওয়া স্বচ্ছ নিয়োগের প্রমাণ: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী বাংলাদেশে ২৫-২৬ জুলাই ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম ও বিআইইআর সামিট ২০২৬ বগুড়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন ২০২৬-এর খসড়া অনুমোদন, পরিকল্পিত আধুনিক নগর গঠনের উদ্যোগ বাজেট বাস্তবায়নেই সাফল্য, কক্সবাজারকে আধুনিক ডিজিটাল পর্যটন নগরী গড়ার পরিকল্পনা: অর্থমন্ত্রী FICCI FDI Conference 2026-এ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা স্মারক প্রদান বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে FICCI FDI Conference 2026, উন্মোচিত হলো এফডিআই রিপোর্ট মাদারীপুরে বৈশাখী ভাতা ও ঈদ বোনাস না পাওয়ায় দপ্তরিদের শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় ঘেরাও কোটালীপাড়ায় উল্টো রথযাত্রায় ভক্তদের ঢল

আদালতের আদেশ অমান্য করায় প্রশিকার সাবেক চেয়ারম্যান কাজী ফারুকের এক মাসের দণ্ড

admin
হালনাগাদ: মঙ্গলবার, ২৩ জানুয়ারী, ২০১৮

বিশেষ প্রতিবেদকঃ  প্রশিকা ভবন বুঝিয়ে দেওয়ার বিষয়ে আদালতের আদেশ অমান্য করায় সংস্থাটির সাবেক চেয়ারম্যান ড. কাজী ফারুক আহমদকে এক মাসের কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

একই সঙ্গে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে অফিসের দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। অফিসে বুঝিয়ে দিয়ে আদালতে (হলফনামা আকারে) এ বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।

আইনজীবী সুলায়মান সাংবাদিকদের এসব তথ্য নিশ্চিত করে জানান, আদালত অবমানার বিষয়ে করা আবেদন শুনানি নিয়ে হাইকোর্টের বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়ার একক বেঞ্চ আজ এ আদেশ দেন।

আদালতে আজ প্রশিকার বর্তমান চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এম এ ওয়াদুদ ও সিইও মো. সিরাজুল ইসলামের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো.সোলায়মান। অন্যদিকে প্রশিকার সাবেক চেয়ারম্যান কাজী ফারুকের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডেভোকেট মাহবুবে আলম (অ্যাটর্নি জেনারেল), জেড আইন খান পান্না ও মাহাবুব আলী এবং এএম আমিন উদ্দীন প্রমুখ।

আইনজীবী সুলায়মান জানান, আদালতের নির্দেশ না মানায় এনজিও প্রতিষ্ঠান প্রশিকার সাবেক চেয়ারম্যান ড. কাজী ফারুককে এক মাসের দেওয়ানি কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে হলফনামার মাধ্যমে তাঁকে অফিস বুঝিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অফিস বুঝিয়ে না দিলে তাঁকে গ্রেপ্তারের নির্দেশনা দিয়েছেন আদালত।

এর আগে ২০০৯ সালে ২৪ মে নানান অভিযোগের ভিত্তিতে প্রশিকার সাবেক চেয়ারম্যান কাজী ফারুককে অপসারণ করা হলে তিনি বিচারিক আদালতে মামলা দায়ের করেন এবং তাঁকে অপসারণের আদেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির জন্য আবেদন করেন। কিন্তু তাঁর ওই আবেদন আদালত খারিজ করে দেন। ওই খারিজ আদেশের বিরুদ্ধে তিনি (বিচারিক) জজ আদালতে আপিল দায়ের করেন। কিন্তু সেই আপিল খারিজ হওয়ায় তিনি হাইকোর্টে রিভিশন আবেদন করেন।

সেই রিভিশন আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ে সাবেক চেয়ারম্যান ফারুককে প্রশিকার বর্তমান চেয়ারম্যান ও গভর্নিং বডির কাছে অফিস বুঝিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু আদালতে সেই নির্দেশনা পালন না করে ২০১২ সালে সন্ত্রাসী নিয়ে অফিসে হামলা চালায় এবং অফিস দখল করে রাখে। পরে এ বিষয়ে আদালত অবমাননার অভিযোগ এনে হাইকোর্টকে অবহিত করা হলে আদালত রুল জারি করেন।

ওই রুলে কাজী ফারুককে কেন দেওয়ানি কারাগারে আটক রাখা হবে না এবং কেন তাঁর স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। সেই রুলের শুনানি শেষে আদালত এই মামলার রায় ঘোষণা করেন বলে জানান আইনজীবী মো. সোলায়মান।

প্রসঙ্গত প্রশিক্ষণ, শিক্ষণ ও কাজ- তিনটি শব্দের আদ্যক্ষর নিয়ে ১৯৭৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) প্রশিকা মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্র। পরের বছর ঢাকা ও কুমিল্লার কয়েকটি গ্রামে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করে সংস্থাটি। পর্যায়ক্রমে তা সারা দেশে বিস্তৃত হয়। কিন্তু কয়েক বছর ধরে নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব, অনিয়ম, মামলা, কার্যালয় দখল ও পাল্টা দখলের মতো ঘটনার ফলে বর্তমানে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় এ এনজিওর ভবিষ্যৎ। দিন দিন সংকুচিত হয়ে আসছে এর কার্যক্রম।

জানা যায়, দেশজুড়ে প্রশিকার ২২১টি শাখা অফিসের মধ্যে ১১৫টিই বন্ধ হয়ে গেছে। বাকিগুলোর অবস্থাও দুর্বল। কর্মী সংখ্যাও ১২ হাজার থেকে বর্তমানে তিন হাজারে নেমে এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া রয়েছে শাখা কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতা। এর মধ্যে প্রায় ৫০টি শাখা অফিস ঋণের সুদ থেকে কর্মীদের বেতন সমন্বয় করে নেয়। এ ছাড়া প্রশিকার ৩৫টি কর্মসূচির ২০টি প্রায় বন্ধ।

সর্বজনীন শিক্ষা কর্মসূচি প্রকল্পের ৭০০ স্কুলসহ বন্ধ হয়ে গেছে টিস্যু কালচার, প্রশিকা ফ্যাব্রিকস ও প্রশিকা কম্পিউটার সেন্টারসহ বিভিন্ন প্রকল্প। দীর্ঘদিন ধরে আদায় হচ্ছে না মাঠ পর্যায়ে বিতরণকৃত ঋণের দুই হাজার কোটি টাকা। মূলত দেড় দশক আগে থেকেই প্রশিকায় সংকটের সূত্রপাত হয়। ২০০১ সালের শুরুর দিকে সংস্থাটির নামে ৩২০ কোটি টাকার একটি বিদেশি অনুদান ব্যাংকে জমা হয়। কিন্তু তৎকালীন জোট সরকার এটি ছাড় করতে সম্মত হয়নি। এ অর্থ ফেরত যাওয়ার পর থেকে আর কোনো সরকারি বা বিদেশি অনুদান পায়নি প্রশিকা। এতে প্রকট হতে থাকে সংস্থাটির অর্থ সংকট।

প্রশিকার চেয়ারম্যান ড. কাজী ফারুকের ঐক্যবদ্ধ নাগরিক আন্দোলন নামের নতুন রাজনৈতিক দল গঠন প্রশিকার সংকট ঘনীভূত করে। পরবর্তী সময়ে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে প্রশিকার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। শুরু হয় পরস্পরকে দোষারোপ। রাজনৈতিক দল গঠন নিয়ে কাজী ফারুকের সঙ্গে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দূরত্ব তৈরি হয়। তারা কাজী ফারুককে প্রশিকার শীর্ষ পদ থেকে বরখাস্ত করে নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচন করে।

কিন্তু এ সিদ্ধান্তকে অনৈতিক দাবি করে কাজী ফারুক আদালতের আশ্রয় নেন। সমর্থকদের নিয়ে একটি বার্ষিক সাধারণ সভা করে কাজী ফারুক নিজে চেয়ারম্যান এবং অনুসারীদের বিভিন্ন পদ দেন। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রশিকার বিবদমান দুই পক্ষই সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিজেদের পক্ষে সমর্থন আদায়ে তদবির করতে থাকে। এর মধ্যেই চলতে থাকে প্রশিকায় একচ্ছত্র কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠায় দুই পক্ষের মহড়া।


এ ক্যটাগরির আরো খবর..