কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে আব্দুল মোতালেব নামে এক সহকারী শিক্ষককে আটক করেছে পুলিশ।
সোমবার (৩১ আগস্ট) গভীর রাতে উপজেলার রামখানা ইউনিয়নের ভূঁইয়াটারী এলাকার নিজ বাড়ি থেকে তাকে আটক করা হয়। পরে মঙ্গলবার ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টার মামলা করেন ওই শিক্ষার্থীর বাবা।
আটক আব্দুল মোতালেব রামখানা ইউনিয়নের ভূঁইয়াটারী এলাকার রইচ উদ্দিন ভুইয়ার ছেলে। তিনি দক্ষিণ রামখানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পরিবার ও এলাকাবাসী জানায়, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী দক্ষিণ রামখানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে। সোমবার বিদ্যালয়ে বিরতির সময় সে ওয়াশরুমে যায়। এ সময় বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক দুপুরের খাবার খেতে বাড়িতে যান এবং কেউ কেউ নামাজে ছিলেন।
অভিযোগ রয়েছে, এ সুযোগে শিক্ষক আব্দুল মোতালেব ওয়াশরুমে ঢুকে জোরপূর্বক ওই শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীর সঙ্গে তার ধস্তাধস্তি হয়। পরে শিক্ষার্থী দৌড়ে ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের কাছে বিষয়টি জানায়।
ঘটনার পর সোমবার রাত ১০টার দিকে এলাকার কাজী মোশারফ হোসেন ও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নূর ইসলাম মিয়া ওই শিক্ষার্থীর বাড়িতে গিয়ে বিষয়টি সমঝোতার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করেছে পরিবার। তবে এরই মধ্যে ঘটনাটি প্রশাসনের কাছে জানাজানি হওয়ায় তাদের সেই উদ্যোগ ব্যর্থ হয়।
পরে নাগেশ্বরী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এনামুল হক প্রধানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল রাত দেড়টার দিকে শিক্ষকের বাড়িতে অভিযান চালায়। সেখান থেকে আব্দুল মোতালেবকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও তার বাবা-মাকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়।
মঙ্গলবার দুপুরে শিক্ষক আব্দুল মোতালেবকে আসামি করে ধর্ষণচেষ্টা মামলা করেন ওই শিক্ষার্থীর বাবা। তিনি অভিযোগ করেন, প্রায় তিন মাস আগেও তার মেয়ের দিকে ওই শিক্ষক কু-নজরে তাকিয়েছিলেন।
বিষয়টি তার মেয়ে বাড়িতে ফিরে মাকে জানায়। পরে তার মা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে বিষয়টি অবগত করলেও তিনি কোনো ব্যবস্থা নেননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তবে প্রধান শিক্ষক নূর ইসলাম মিয়া এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না।
কাজী মোশারফ হোসেন বলেন, ঘটনার বিষয়ে কিছুই নেই। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলবেন।
নাগেশ্বরী থানার ওসি এনামুল হক প্রধান বলেন, অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ভিকটিম পুলিশের হেফাজতে আছে এবং আসামি আটক রয়েছে।





