স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদে হট্টগোল ও উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে এ ঘটনা ঘটে।
অধিবেশনে কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ গত ছয় মাসে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে দাবি করে এ বিষয়ে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ জানতে চান। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যথাযথ ভূমিকা রাখতে পেরেছেন কি না, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ প্রশ্নটির ধরন নিয়ে মন্তব্য করে বলেন, এটি প্রশ্ন নাকি ‘পল্টনের বক্তৃতা’, তা বুঝতে পারেননি। তিনি দাবি করেন, বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে এবং বিভিন্ন অপরাধের ঘটনায় দ্রুততার সঙ্গে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ঢালাওভাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যর্থ হয়েছে—এ ধরনের বক্তব্য সংসদে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে হওয়া উচিত। কোনো নির্দিষ্ট ঘটনা সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য চাইলে সংবিধানের ৩০০ বিধিতে বিবৃতি দেওয়ার কথাও জানান তিনি।
আরও পড়ুনঃ ১০ সেপ্টেম্বর শেষ হবে সংসদের তৃতীয় অধিবেশন
তাঁর বক্তব্যের পর সংসদে হট্টগোল শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন এবং ময়মনসিংহ-১ আসনের সংসদ সদস্য সালমান ওমরকে প্রশ্ন করার সুযোগ দেন। পরে অর্থমন্ত্রীর পক্ষে তাঁর প্রশ্নের উত্তর দেন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি।
ছিনতাই ও রাজনৈতিক হামলা নিয়ে প্রশ্ন
পরে পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ দেশে প্রকাশ্যে ছিনতাইয়ের ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে সরকারদলীয় সংসদ সদস্যসহ বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের ওপর হামলা এবং এসব ঘটনার পর বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তারের বিষয়ে সরকারের আইনি পদক্ষেপ জানতে চান তিনি।
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘শাহবাগ স্কয়ারে বক্তৃতা দেয়া আর সংসদে বক্তব্য দেয়া এক নয়।’ এ মন্তব্যের পর আবারও সংসদে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিরোধীদলীয় নেতা ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামসহ কয়েকজন সংসদ সদস্য দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানান। স্পিকার তাঁদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান।
আরও পড়ুনঃ ভারতের সঙ্গে অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে সরকার অনড়: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে স্পিকারের অনুমতি নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা অভিযোগ করেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে বিরোধী সদস্যদের তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে বক্তব্য দিয়েছেন। তাঁর ভাষায়, এ ধরনের আচরণ ‘পার্লামেন্টারিয়ান ফ্যাসিজম’। সংসদের মর্যাদা রক্ষায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দুঃখপ্রকাশ এবং তাঁর অসংসদীয় বক্তব্য কার্যপ্রণালি থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
অসংসদীয় বক্তব্য এক্সপাঞ্জের আশ্বাস স্পিকারের
পরিস্থিতি সামাল দিতে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, জাতীয় সংসদ জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলনের প্রতিষ্ঠান এবং দেশের গর্ব। সংসদ নির্দিষ্ট আইন ও বিধি অনুসরণ করেই পরিচালিত হয়।
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে কিছু সংসদ সদস্যের মধ্যে অসহিষ্ণুতা বাড়তে দেখা যাচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী কথা ও যুক্তির মাধ্যমে বক্তব্য খণ্ডনের আহ্বান জানিয়ে স্পিকার বলেন, এভাবে পরিস্থিতি চলতে থাকলে সংসদের কার্যক্রম পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়বে।
তিনি আরও বলেন, অনেক ত্যাগের বিনিময়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং তা সমুন্নত রাখা সব সংসদ সদস্যের দায়িত্ব। সংসদে কোনো অসংসদীয় বক্তব্য দেওয়া হলে তা কার্যপ্রণালি থেকে বাদ বা এক্সপাঞ্জ করা হবে বলেও স্পিকার জানান।




