সাইফুল হত্যার প্রতিবাদ ও চিন্ময়ের মুক্তির দাবি জানিয়ে শেখ হাসিনার বিবৃতি

সাইফুল হত্যার প্রতিবাদ ও চিন্ময়ের মুক্তির দাবি জানিয়ে শেখ হাসিনার বিবৃতি

চট্টগ্রামে সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন নামঞ্জুর কেন্দ্র করে সংঘর্ষে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম নিহতের ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই বিবৃতিতে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে অবিলম্বে মুক্তি দেয়ার দাবিও জানিয়েছেন তিনি।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে আওয়ামী লীগের অফিশিয়াল ফেসবুক পেইজে বিবৃতিটি প্রকাশ করা হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “একজন আইনজীবী তার পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়েছিল, আর তাকে এভাবে যারা পিটিয়ে হত্যা করেছে তারা সন্ত্রাসী। তারা যেই হোক না কেন শাস্তি তাদের পেতেই হবে। অসাংবিধানিকভাবে ক্ষমতা দখলকারী ইউনূস সরকার যদি এই সন্ত্রাসীদের শাস্তি দিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে তাকেও শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।”

এই ধরনের সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বানও জানানো হয়েছে বিবৃতিতে।

চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের নাম উল্লেখ করা হয়নি এতে। তবে লেখা হয়েছে, “সনাতন ধর্মাবলম্বী সম্প্রদায়ের একজন শীর্ষ নেতাকে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে, অবিলম্বে তাকে মুক্তি দিতে হবে।”

আরো যোগ করা হয়, “চট্টগ্রামে মন্দির পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। ইতিপূর্বে মসজিদ, মাজার, গির্জা, মঠ এবং আহমাদিয়া সম্প্রদায়ের ঘরবাড়ি আক্রমণ করে ভাঙচুর ও লুটপাট করে আগুনে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। সকল সম্প্রদায়ের মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।”

এদিকে ভারতের সংসদের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের হিন্দু মন্দির ভাঙচুর এবং ‘অপবিত্র’ করার প্রসঙ্গ উঠেছে।

এক প্রশ্নের জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং জানিয়েছেন, “গত কয়েক মাসে বাংলাদেশে বেশ কয়েকটি ঘটনার খবর এসেছে যেখানে হিন্দু মন্দির ও মূর্তি ভাঙচুর ও অপবিত্র করা হয়েছে।”

ভারত সরকার এই ঘটনাগুলোসহ গত দুর্গাপূজার সময়ে ঢাকার তাঁতিবাজারে একটি পূজামণ্ডপে আক্রমণ এবং সাতক্ষীরায় জহরেশ্বরী কালী মন্দিরে চুরির ঘটনা নিয়ে আগেই উদ্বেগ জানিয়েছে।

“বাংলাদেশ সরকারের কাছে ভারত সরকার আবেদন জানিয়েছে যাতে তারা হিন্দু ও সংখ্যালঘুদের এবং তাদের ধর্মীয় স্থানগুলির সুরক্ষা নিশ্চিত করে। বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সহ সব নাগরিকদের জীবন ও স্বাধীনতা রক্ষা করার প্রাথমিক দায়িত্ব বাংলাদেশ সরকারের,” ― জানানো হয়েছে ওই লিখিত জবাবে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Kishori
লেখক / প্রতিবেদক

Kishori

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।