রাজাকারের তালিকা ও প্রকাশ বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে মন্ত্রণালয়

রাজাকারের তালিকা ও প্রকাশ  বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে মন্ত্রণালয়

মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী রাজাকার, আলবদর ও আলশামসের তালিকা প্রকাশ নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছে না। ২০১৯ সালের ১৫ ডিসেম্বর ঘটা করে ১০ হাজারের বেশি রাজাকারের তালিকা প্রকাশ করে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। পরে সেই তালিকা নিয়ে বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে মন্ত্রণালয়। একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।

জানানো হয়, ২০২০ সালের স্বাধীনতা দিবসের আগেই নতুন করে রাজাকারের তালিকা প্রকাশ করা হবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল, এ ধরনের তালিকা প্রকাশের এক্তিয়ারই নেই সরকারের। শেষ পর্যন্ত জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) আইন সংশোধন করে সেই সুযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়। সাবেক মন্ত্রী শাজাহান খান এমপির নেতৃত্বে একটি উপকমিটিও গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি রাজাকারের তালিকা সংগ্রহের প্রক্রিয়া ও প্রকাশের বিষয়টি নির্ধারণ করবে। এই কমিটির সুপারিশেই জামুকা আইন সংশোধন করা হচ্ছে।

জানা গেছে, আইন সংশোধন করে রাজাকারের তালিকা তৈরি এবং তা প্রকাশের এক্তিয়ার মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়কে দেওয়া হবে। তালিকা প্রকাশের উদ্দেশ্যে জামুকা আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনী ইতিমধ্যে মন্ত্রিসভা অনুমোদন করেছে। আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং নিয়ে সেটি সংসদে উত্থাপনের কথা ছিল গেল বিজয় দিবসের আগেই, কিন্তু তা হয়নি। আর এ নিয়ে কার্যত সব ধরনের উদ্যোগ থমকে রয়েছে।

এদিকে ১৯৭২ সালে দালাল আইনে প্রায় ৫৫ হাজার ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে বঙ্গবন্ধু কিছু ব্যক্তিকে (যেসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে ধর্ষণ, খুন, অগ্নিসংযোগ, লুটপাটসহ গুরুতর অভিযোগ ছিল না) সাধারণ ক্ষমায় মুক্তি দিয়েছিলেন। ১৯৭১ সালের খুলনায় আনসার হেডকোয়ার্টার্সে পাওয়া তালিকায় ৩০ হাজারের বেশি রাজাকারের তথ্য মিলেছিল। ঐ তালিকা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে রয়েছে।

উল্লেখ্য, প্রায় এক দশক আগে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের বিচার শুরুর পর দেশে রাজাকারের তালিকা তৈরির দাবি জোরালো হয়। ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি বরাবরই রাজাকারের তালিকা প্রকাশের দাবি জানিয়ে আসছে। ২০১২ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের তত্কালীন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী এ বি তাজুল ইসলাম সংসদে এক প্রশ্নের উত্তরে জানিয়েছিলেন, রাজাকারের কোনো তালিকা সরকারের কাছে নেই।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Brinda Chowdhury
লেখক / প্রতিবেদক

Brinda Chowdhury

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।