যেকারণে শেখ হাসিনাকে তুলে নেয়ার সাহস দেখাতে পারেনি আমেরিকা

যেকারণে শেখ হাসিনাকে তুলে নেয়ার সাহস দেখাতে পারেনি আমেরিকা
শেখ হাসিনার ভাগ্য ভালো যে ভারতের মতো একটি সহানুভূতিশীল দেশের প্রতি তার সৎভাব ছিলো নইলো তাকেও ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্টের মতো চোখ বেধে মার্কিন প্রশাসন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যেত। সময় মতো ভারত হস্তক্ষেপ না করলে শেখ হাসিনার অবস্থা হতো ভেনিজুয়েলারের প্রেসিডেন্ট মাদুরো অথবা লিবিয়ার প্রেসিডেন্ট গাদ্দাফি বা ইরাকের সাদ্দাম হোসেনের মতো। তারপরও শেষ চেষ্টা হিসাবে শেখ হাসিনার গনভবন ত্যাগের সময় তার উপর অস্ত্র তাঁক করার ঘটনা সামনে এসেছিল। কিন্তু সে চেষ্টাও ব্যর্থ করে শেখ হাসিনা নির্বিঘ্নে ভারতে পৌঁছে গিয়েছিল।
যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির রায় কার্যকর না করার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র সচিব হিলারি ক্লিন্টনের ফোন নাকোচ করা থেকে শুরু করে সেন্টমার্টিন হস্তান্তরের বিষয়ে শেখ হাসিনার অনমনীয় মনোভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কি করতে পারতো ভেনিজুয়েলার ঘটনা সেটাই সামনে নিয়ে এসেছে।
ভেনিজুয়েলারের প্রেসিডেন্ট শেখ হাসিনার মতো দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি অনমনীয় ছিলো যারজন্য কথিত নিষিদ্ধ মাদকের মামলায় তাকে গায়ের জোরে একজন নির্বাচিত প্রেসিডেন্টকে হাতকড়া পরিয়ে কাঠগড়ায় দাড়াতে হলো।
ভারত নিরবে কাজ করতে পছন্দ করে। ভারত ইচ্ছে করলে আমেরিকার ন্যায় ডঃইউনুসকেও তুলে নিয়ে যেতে পারে। সে ক্ষমতা ভারতের রয়েছে আন্তর্জাতিক ভাবে ভারতকে প্ররোচিত করা হয়েছিল ক্ষমতা প্রদর্শনের জন্য। কিন্তু ভারত প্ররোচনায় পা দেয়নি। কারণ ভারত গায়ের জোর প্রদর্শনে বিশ্বাস করেনা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতকে ভেনিজুয়েলারের মতো পদানত করতে বহুভাবে চেষ্টা করেছে। কানাডায় জি-৭ বৈঠকে নরেন্দ্র মোদী ডোনাল্ড ট্রাম্পের হোয়াইট হাউসে বৈঠকের আমন্ত্রন পত্রপাঠ নাকোচ করে দিয়েছিলেন তারপর দুইদেশের সম্পর্ক টালমাটাল অবস্থায় ট্রাম্প নরেন্দ্র মোদীকে হটলাইনে টেলিফোন করেছিলেন কিন্তু সেবারও মোদি ট্রাম্পের ফোন ধরেননি। তারপর চীনের সাংহাইয়ে অনুষ্ঠিতব্য এসসিও বৈঠকে ট্রাম্পকে পরোয়া না করে ভারত রাশিয়া এবং চীন ত্রিপাক্ষিক বৈঠক করেছিল। ৫০% শুল্কারোপ করেও আমেরিকা ভারতকে তাদের নিজস্ব নীতি থেকে সরাতে পারেনি। কিছুতেই যখন কিছু হচ্ছিলো না তখন নরেন্দ্র মোদির প্রান নাসের চেষ্টাও হয়েছিলো বলে খবর রটেছিল। কিন্তু সেখানেও তারা পর্যদস্তু হয়েছিল মধ্যেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্পেশাল ফোর্সের একজন কমান্ডারের মৃতদেহ ঢাকার এক হোটেলে আবিস্কৃত হয়েছিল।
ভারত যে ভেনিজুয়েলা নয় সেটা যুক্তরাষ্ট্র হারেহারে টের পেয়েছে। তবে এখনো যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পিছপা হয়নি সেটা বুঝা যাচ্ছে। বাংলাদেশ থেকে আমেরিকার পিছিয়ে আসার পিছনে ভারতের নীরব কুটনীতি যে কতটা ফলপ্রসো হয়েছে সম্প্রতি ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফর তার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
শেখ হাসিনা সরকারের রেজিম চেঞ্জের পর যেভাবে ডঃইউনুসকে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান করা হয়েছিল ঠিক তেমনি ভাবে ভেনিজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মাচাদো যিনি আবার ড:ইউনুসের মতো শান্তিতে নোবেলজয়ী তাকে ভেনিজুয়েলার কুর্সিতে বসানোর পায়তারা চলছে।
ইতিমধ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন ভেনিজুয়েলা তারাই চালাবেন তখন তার দায়িত্বে থাকবেন মাচাদো। ভারত ভেনিজুয়েলার ঘটনায় এখনো কোন মন্তব্য করেনি। এনিয়ে বামেরা রাস্তায় নেমে হ্ম্বিত্ম্বি করছে কেন ভারত এখনো কোন প্রতিবাদ করেনি। ভেনিজুয়েলারের ঘটনায় ভারত তো আর সৈন্য পাঠিয়ে তার প্রতিবাদ করবেনা ঠিক সময়ে ভারত কূটনৈতিক ভাবে এর জবাব দেবে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Kishori
সংবাদ প্রতিনিধি

Kishori

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।