ঢাকা — আন্তর্জাতিক বাজারে দেশের প্রাণিজ ও কৃষিপণ্যের বাজার সম্প্রসারণে মালয়েশিয়ার সাথে সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশে নিযুক্ত মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার মো. শুহাদা ওসমান (H.E. Mohd Shuhada Othman) সচিবালয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা করেন।
ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল ও হালাল মাংস রপ্তানি
বৈঠকে বাংলাদেশের বিশ্বখ্যাত ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল মালয়েশিয়ায় রপ্তানির বিষয়ে বিশদ আলোচনা হয়। বিশ্ববাজারে এর চাহিদা বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে দুই দেশ একমত পোষণ করে।
* কোয়ারেন্টাইন ও মাননিয়ন্ত্রণ: ছাগল ও অন্যান্য প্রাণিজ পণ্য রপ্তানির জন্য প্রাণিস্বাস্থ্য সনদ, হালাল সার্টিফিকেশন, স্যানিটারি ও ফাইটোস্যানিটারি (SPS) মানদণ্ড নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়।
* হালাল মাংসের বাজার: আন্তর্জাতিক হালাল মাংসের বাজারে বাংলাদেশের সক্ষমতা বাড়াতে মালয়েশিয়ার কারিগরি সহায়তা ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেন মন্ত্রী।
* বিবিধ পণ্য: ছাগলের পাশাপাশি মাছ, মাংস, দুধসহ অন্যান্য সম্ভাবনাময় প্রাণিজ পণ্য রপ্তানির সুযোগ নিয়েও মতবিনিময় হয়।
কৃষি ও প্রাণিসম্পদ খাতে যৌথ উদ্যোগ
দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় প্রযুক্তি হস্তান্তর, যৌথ গবেষণা এবং বিনিয়োগ বাড়ানোর ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করা হয়:
* প্রযুক্তি ও জ্ঞান বিনিময়: আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ও খামার ব্যবস্থাপনায় দুই দেশের অভিজ্ঞতা শেয়ার করা।
* দক্ষ জনবল উন্নয়ন: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি গ্রহণ।
* বিনিয়োগ বৃদ্ধি: কৃষি ও প্রাণিসম্পদভিত্তিক প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পে বাণিজ্য বৃদ্ধি করা।
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও ভবিষ্যৎ প্রতিশ্রুতি
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানান, মালয়েশিয়ার সাথে বিদ্যমান চমৎকার সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে দুই দেশের বেসরকারি খাতের মধ্যেও যৌথ উদ্যোগ গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে, মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার বাংলাদেশের কৃষি ও প্রাণিসম্পদ খাতের অগ্রগতির ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলসহ অন্যান্য কৃষিপণ্য আমদানিতে মালয়েশিয়ার গভীর আগ্রহের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। বৈঠকে মালয়েশিয়া হাইকমিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি জনাব হাজওয়ান হাসনোল (Mr. Hazwan Hasnol) উপস্থিত ছিলেন।