কি হলো ৭০৩ বছর পর ত্রিবেণী সঙ্গমস্থলে মহাপূণ্য কুম্ভস্নানের প্রথম দিনে

কি হলো ৭০৩ বছর পর ত্রিবেণী সঙ্গমস্থলে মহাপূণ্য কুম্ভস্নানের প্রথম দিনে

রাইকিশোরীঃ পশ্চিমবঙ্গের ত্রিবেণী সঙ্গমস্থলের পূণ্যভূমি মুনি-ঋষি, নাগা সন্ত, দলপতি, আখড়াপতি, মণ্ডলেশ্বর, মহামণ্ডলেশ্বর, দশনামী সম্প্রদায় সন্ন্যাসী, নাথ সম্প্রদায়, গৌড়ীয় বৈষ্ণব বাবাজী-সন্নাসীবৃন্দ এবং সন্ন্যাসীনীবৃন্দসহ ভক্তবৃন্দের উপস্থিতিতে মুখরিত । দীর্ঘ ৭০৩ বছর পরে আবার সেই মহাপূণ্যভূমি বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণের মধ্য দিয়ে জগৎ কল্যাণার্থে বিকেলে শুরু হয়েছে রুদ্র মহাযজ্ঞ।

আজ ১২ ফেব্রুয়ারি শনিবার দিনভর ছিলো ভজন কীর্তন। দুপুরে ১,৩০০ ভক্তেরও বেশি প্রসাদ গ্রহণ করেছেন। ১২৫ জন ভলেন্টিয়ার সবাইকে সেবা দিতে সবসময় তৎপর। বিকেলে শুরু হয় অভিষেক তারপর ৫১টা শক্তিপীঠের উদ্দেশ্যে ৫১টা রুদ্র মহাযজ্ঞ। বৈদিক মন্ত্র উচ্চারণে গম গম করতে থাকে চারিদিক।

সন্ধ্যায় সাধুসন্তু সন্ন্যাসীদের বৈদিক মন্ত্রোচ্চারনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হলো গঙ্গা আরতি। গঙ্গা আরতি দেখার জন্য হাজার হাজার ভক্তের সমাগম হয়। একদিকে কীর্ত্তন অন্যদিকে বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণে পুরো ত্রিবেণী সঙ্গম মুখরিত হয়ে ওঠে।

আগামীকাল ১৩ ফেব্রুয়ারী রবিবার ভোর ৩-৩২ মিনিটে মকর রাশি থেকে কুম্ভরাশি শুরু হওয়ায় সমবেত শঙ্খধ্বনির মাধ্যমে শুরু হবে মহাপূণ্য কুম্ভস্নানের সূচনা। সকাল ৭টায় আদিত্য হৃদয় স্তোত্রের মাধ্যমে স্নান শুরু হবে। সাধু সন্ন্যাসীদের জন্য সকাল ৮-৫৬ মিনিট পর্যন্ত মহাপূণ্যস্নান। সাধারণ পুণ্যার্থীদের জন্য দুপুর ১২-৪১মিনিট পর্যন্ত চলবে পবিত্র স্নান। তারপর ভজন কীর্তন এবং সবশেষে মহাপ্রসাদ বিতরণ।

যুগ যুগ ধরে মুনিঋষিদের পদধুলিতে পবিত্র এই ছোট্ট শহর। প্রাচীনকাল থেকেই সাধু-সন্ন্যাসী মুনি-ঋষি এবং নাগা সন্ত মাঘী-সংক্রান্তীতে ত্রিবেণী সঙ্গমস্থলে পুণ্যস্নান করতেন এবং জগৎ কল্যাণার্থে বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণের মধ্য দিয়ে স্বর্গের দেবতাদের তুষ্ট করতেন। সেন রাজাদের পরবর্তী কালে ইসলামিক শাসনের সূচনা পর্ব থেকেই বন্ধ হয়ে যায় ত্রিবেণীর কুম্ভ স্নান।

সেই পরমম্পরা তথা সনাতন রীতিকে মাথায় রেখে দীর্ঘ ৭০৩ বছর পরে  ১২ ও ১৩ ফেব্রুয়ারী, বাংলা ২৯ ও ৩০ মাঘ(মাঘ মাসের সংক্রান্তীতে), ত্রিবেণী সঙ্গমে আবার মহাপুণ্যস্নান, বিশ্বশান্তি মহারুদ্র যজ্ঞ, গঙ্গারতি ও সাধু ভাণ্ডারার ব্যবস্থা করা হয়।

আয়োজক বৃন্দের অন্যতম, ভারত সেবাশ্রমের অন্যতম প্রদীপ্তানন্দ মহারাজ বলেন, ভারতবর্ষ পুণ্যভূমি। এই ভূমিতে স্বয়ং ভগবন জন্মেছেন যা পৃথিবীর অন্য কোন দেশে হয়নি। তাই হাজারো বর্বর দস্যুরা সব ধ্বংস করে গুঁড়িয়ে দিক না কেন  আমরা আবার তা পুনরুদ্ধার করতে পারবো।

স্বামী উত্তামানন্দ গিরি বলেন, হরিদ্বার, এলাহাবাদ, নাসিক এবং উজ্জ্যয়ন এই ৪ জায়গায় কুম্ভস্নান হয়। এলাহাবাদের ত্রিবেণীকে যুক্তবেনী কিন্তু কুন্তি-সরস্বতী-গঙ্গা মিলে আমাদের ত্রিবেণী  হলো মুক্তবেনী। আমাদের পরম সৌভাগ্য যে পশ্চিমবঙ্গ তথা ভারত বর্ষের বিভিন্ন জায়গা থেকে সাধু সন্তরা আসছেন তাদের পদধূলিতে এই মুক্তবেনী আরো পুতঃ পবিত্র হলো যা  বেহুলা লক্ষ্মীন্দরের স্মৃতি বিজড়িত।

কৈলাসপতি ঘরানার সন্ন্যাসী স্বামী নিত্যানন্দ গিরি মহারাজ বলেন, ভারতবর্ষ হলো আর্যাবর্ত যাকে বলে ঋষিদের দেশ। আমরা সবাই ঋষিদের সন্তান। প্রতেকের গোত্র দেখলেই দেখবেন প্রতেকে কোন না কোন ঋষির বংশধর। আমরা এটা ভুলে গিয়ে সনাতন ধর্মের অপব্যবহার করছি। এখানে পূর্বে কুম্ভ মেলা হত কিন্তু আরব ভূমি দস্যুদের আক্রমণে সব মন্দির ভাংচুরের পর তা বন্ধ হয়ে গিয়ে গাজীর দরগা গড়ে ওঠে। দীর্ঘ ৭০৩ বছর পর আবার সেই কুম্ভ শুরু হয়েছে। আশাকরি এখন সব কিছু ভালো হবে।

কথা প্রসঙ্গে মানস ভট্টাচার্জ বলেন, এই আয়োজনের অনেকটা পূর্বে নির্ধারিত যা সপ্নে পাওয়া। উৎসুক হয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি বলেন, বোস্টনে বসবাসরত কাঞ্চন ব্যানার্জী দাদার অনেক আধ্যাত্মিক উপলব্ধি। তিনি অনেক আগে স্বপ্নে দেখেছিলেন এই বিষয়ে। এত বছর পর তা বাস্তবায়িত হলো। আমরা সবাই খুব উৎফুল্ল। এখানে তার প্রতিফলন ও দেখলাম আমরা নিজের চোখে। ভক্তিতে দাদার স্ত্রী, মার দুই চোখে আনন্দাশ্রু।

ট্যাগ ৭০৩ বছর পর ত্রিবেণী সঙ্গমস্থলে মহাপূণ্য কুম্ভস্নানের প্রথম দিন৭০৩ বছর পর ত্রিবেণীর কুম্ভ স্নানঅভিষেকআখড়াপতিকি হলো ৭০৩ বছর পর ত্রিবেণী সঙ্গমস্থলে মহাপূণ্য কুম্ভস্নানের প্রথম দিনেকুম্ভস্নানগঙ্গা আরতিগঙ্গারতিগঙ্গারতি ও সাধু ভাণ্ডারাগৌড়ীয় বৈষ্ণবত্রিবেণী সঙ্গম মুখরিতত্রিবেণী সঙ্গমে আবার মহাপুণ্যস্নানত্রিবেণীর কুম্ভ স্নানদলপতিদশনামী সম্প্রদায় সন্ন্যাসীনাগা সন্তনাথ সম্প্রদায়পদধুলিপ্রথম দিনবিশ্বশান্তি মহারুদ্র যজ্ঞবৈদিকবৈদিক মন্ত্রোচ্চারণমণ্ডলেশ্বরমন্ত্রোচ্চারণমহাপূণ্যমহাপূণ্য কুম্ভস্নানমহাপূণ্য কুম্ভস্নানের প্রথম দিনমহাপূণ্্‌ কুম্ভস্নানের প্রথম দিনমহামণ্ডলেশ্বরমাঘ মাসের সংক্রান্তীমুনি-ঋষিমুনিঋষিমুনিঋষিদের পদধুলিরুদ্র মহাযজ্ঞশক্তিপীঠসনাতন রীতিসনাত্‌ রীতিসন্ন্যাসীসাধু ভাণ্ডারাসাধুসন্তুসাধুসন্তু সন্ন্যাসী

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Dutta
লেখক / প্রতিবেদক

Dutta

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।