ভগবান শ্রীকৃষ্ণের ৭৩ হাত বিশ্বরূপ পুজার প্রস্তুতি সম্পন্ন

গোপাল কুমার, আশাশুনি ব্যুরোঃ বিশ্ব শান্তি ও সকল মানব জাতির মঙ্গল কামনায় আশাশুনির তালবাড়িয়ায় বুধবার থেকে তিন দিন ব্যাপী উদযাপিত হবে শ্রীশ্রী ভগবান শ্রীকৃষ্ণের ৭৩ হাত কৃষ্ণ বিশ্বরূপ পুজা। উপজলোর কাদাকাটি ইউনয়িনে তালবাড়িয়া গ্রামের ৭৩ হাত শ্রীকৃষ্ণ বিশ্বরূপ পুজা অনুষ্ঠানরে সকল প্রস্তুতি এখন শেষ র্পযায়ে।

কুরক্ষেত্রেরে যুদ্ধরে সময় অজুনকে দেখোনোর জন্য স্বয়ং ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে বললেন যে, এই জড় জগত তারই সৃষ্টি এবং তিনি প্রকাশ রূপে প্রবিষ্ট হয়েছেন বলেই এই জগত সৃষ্টি সম্ভবহয়েছে। এইকথা শুনে অর্জুনের মনে সংশয় দেখা দেয়। তিনি জগৎ থেকে সর্ম্পূন আলাদা হওয়া সত্ত্বে ও শ্রীকৃষ্ণ কিভাবে জগতের অভ্যন্তরে সমস্থ কর্ম পরিচালনা করছেন তা দেখতে চাইলেন। অর্জুনের হৃদয়ের সুপ্তবাসনা জানতে পেরে শ্রীকৃষ্ণ তার বিশ্বরূপ দর্শন করাবেন বলে ঠিককরলেন। কিন্তু তিনি জানতেন অর্জুন তার দ্বিভুজ শ্যামসুন্দর রূপ দেখেই পুর্নমাত্রায় তৃপ্ত। ভগবান শ্রীকৃষ্ণের বিশ্বরূপ দর্শন করা বা তাকে শোনা এই জড় ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে সম্ভব নয়। তার বিশ্বরূপ দর্শন করতে গেলে দিব্য দৃষ্টির প্রয়োজন হয়। আর এই দিব্য দৃষ্টি লাভকরা সম্ভব প্রেম ভক্তি সহকারে ভগবানের সেবায় নিজেকে নিয়জিত করে।

এক জায়গায় বসে ব্রহ্মান্ড দর্শন করা এবং শ্রীকৃষ্ণের বিশ্বরূপের দিব্য তেজ সহ্য করা সাধারন মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়, তাই ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে একটি বিশেষ শক্তি ও চক্ষু প্রদান করলেন, যাতে অর্জুন শ্রীকৃষ্ণের বিশ্বরূপের তেজ সহ্য করতে পারেন।অর্জুন যখন ভগবান শ্রীকৃষ্ণের বিশ্বরূপ দর্শন করেছিলেন তখন তিনি শ্রীকৃষ্ণের পায়ের কাছে হাত জোর করে বসেছিলেন। অর্জুন দেখতে পেলেন ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শরীরে হাজার হাজার আলোক রশ্মি, অসংখ্য গ্রহ-নক্ষত্র সমন্বিত অনন্ত ব্রহ্মান্ড, সীমাহীন হস্ত, পদ, মুখ, কোনটি হিংস্র, কোনটি শান্ত, কোনটির থেকে বৈরাগ্য প্রকাশ পাচ্ছে, আবার কোনটি মুক্তির পথ দেখাছে।

তালবাড়য়িা গ্রামরে কালীপদ মন্ডলরে পুত্র র্অজুন কুমার মন্ডল ব্যক্তিগত উদ্যোগে বিশ্ব শান্তি ও মঙ্গল কামনা ও এলাকার শান্তি -সম্প্রীতি অটুট রাখার মনোস্কামনা নিয়ে পুজার আয়োজন করছেনে। আগামী বুধবার সন্ধ্যা থেকে, বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার ভগবান শ্রীকৃষ্ণের বিশ্বপুর পুজা অনুষ্ঠিত হবে। দীর্ঘ ৭৩ হাত লম্বা এ মুর্তিটি নির্মাণ করছেন ভাঙ্কর টেংরাখালী গ্রামের সুশান্ত, কৃষ্ণপদ,আনন্দ,অনিল,স্বপন, গোয়ালডাঙ্গা গ্রামের মুকুল , হোসেনপুর সঞ্জয়,নিরাঞ্জন সরকার। দীর্ঘ একমাস ধরে ধারা এই মুর্তিটি নির্মাণ করে চলেছেন।

উক্ত পুজার উদ্যোক্তা অর্জুন মন্ডল আমাদের প্রতি প্রতিবেদককে জানান ইতি পূর্বে তিনি ১৪ হাত উচ্চতা কালী পুজা, যাহা ১৪০১ সাল থেকে তিনি শুরু করেন। পরবতীতে ২২ হাত উচ্চতার কালী পুজা, ৮৫টি মুক্তি দিয়ে গৌরাঙ্গ লীলা,১২৫টি মুক্তির রামলীলা, ৫১হাত উচ্চতা কালীপুজা, ৭১হাত উচ্চতার ও কালীপুজা করেছেন। কারণ তিনি কঠিন ব্যধিতে আক্রান্ত হলে তিনি প্রথমে মানত করেছিলেন পরবর্তীতে তিনি একের পর এক এ পুজা করে এসেছেন। তিনি দীর্ঘ ৭৩হাত উচ্চতার ভগবান শ্রীকৃষ্ণের দর্শন ও পুজায় সকল আমন্ত্রন জানিয়েছেন।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
admin
সংবাদ প্রতিনিধি

admin

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।