শোভন দত্ত,চট্টগ্রাম প্রতিনিধিঃ উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নগরীতে চলা ব্যাটারি চালিত রিকশার বিরুদ্ধে এবার কঠোর অবস্থানে নেমেছে পুলিশ। গত ১৪ নভেম্বর চট্টগ্রাম মহানগরীতে ব্যাটারি রিকশা চলাচল সংক্রান্ত হাইকোর্টে দায়েরকৃত কনটেম্পট পিটিশন নং – ১৭৮/২০১৭ (রিট পিটিশন নং – ১৯৯৭ এর ২০১৪) এর উপর সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ সিএমপি কমিশনার মো: ইকবাল বাহার ও সিএমপির উপ পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক – উত্তর) মো. সুজায়েতুল ইসলামের বিরুদ্ধে কেন কনটেম্পট অব কোর্ট এর অভিযোগে দায়ী করা হবে না, তার কারণ দর্শানোর জন্য শেষবারের মতো আদেশ দেন।

আদালতের এ নির্দেশে ব্যাটারি রিকশার বিরুদ্ধে গতকাল থেকে কঠোর এ অভিযানে নামল সিএমপির ট্রাফিক বিভাগ ও ১৬ থানা।
এ প্রসঙ্গে সিএমপির উপ পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক – উত্তর) মো. সুজায়েতুল ইসলাম বলেন, আমাদের চেষ্টার কোন ত্রুটি নেই। আদালতের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও এই রিকশা চলাচল বন্ধ করা যাচ্ছে না। এর প্রধান কারণ হচ্ছে ট্রাফিক বিভাগের সদস্যরা নগরীর অলিগলিতে কর্তব্যে নিয়োজিত থাকেন না। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে তারা প্রধান সড়কগুলো যথাসম্ভব এ্যাভয়েড করে অলি গলিতে চলাচল করে। আবার ট্রাফিক বিভাগের ডিউটি টাইম রাত এগারোটায় শেষ হয়ে যায়। এই সুযোগও রিকশা চালকরা কাজে লাগায়। এক্ষেত্রে থানা পুলিশ চাইলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে। এজন্য এবার আমরা ট্রাফিক বিভাগের পাশাপাশি ১৬ থানাকে ব্যাটারি রিকশার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সিএমপির উত্তর, দক্ষিণ, পশ্চিম ও বন্দর জোনের উপ পুলিশ কমিশনারকে চিঠি দিয়েছি।

সিএমপির ট্রাফিক পুলিশের প্রসিকিউশন ইনচার্জ আনোয়ারুল হক জানান, বুধবার থেকে পরিচালিত এ অভিযানে ট্রাফিক বিভাগ উত্তর জোনের চারটি ও বন্দর জোনের চারটি টিম অংশ নেন। নেতৃত্ব দেন ট্রাফিকের চার অতিরিক্ত উপ পুলিশ কমিশনার ও চার সহকারী পুলিশ কমিশনার। অভিযানে ১২৮ টি ব্যাটারি রিকশা, ৪৯৮ টি ব্যাটারি ও ১২৪ টি মোটর জব্দ করা হয়। এসব রিকশা সম্পর্কে আদালতকে অবহিত করা হবে। আদালতের নির্দেশ মোতাবেক পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।