× Banner
সর্বশেষ
দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ নিয়ে ঢাকা ও কাঠমান্ডু আলোচনা অনুষ্ঠিত সরকারের ১৮০ দিনের অর্জন জনগণের সামনে বস্তুনিষ্ঠভাবে তুলে ধরতে হবে – স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অকুতোভয় জুলাই যোদ্ধা আজিজুর রহমানের সাক্ষাৎ ১০০ টাকা মূল্যমানের প্রাইজবন্ডের ১২৪তম ‘ড্র’ আগামী ২ আগস্ট জুলাইয়ের আত্মত্যাগের চেতনাকে লাভজনক চেতনা বানাবেন না – তথ্যমন্ত্রী হজ ও ওমরাহ ফেয়ার ২০২৬: বিমানের টিকিট মূল্য কমে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা, হয়রানিমুক্ত হজের প্রতিশ্রুতি লটারির মাধ্যমে গণপূর্ত অধিদপ্তরের ৭৬৭ উপ-সহকারী প্রকৌশলীর বদলি, স্বচ্ছতায় নতুন উদ্যোগ সীমাবদ্ধতা নয়, স্বপ্নপূরণের শক্তি আত্মবিশ্বাস ও অধ্যবসায়: ববি হাজ্জাজ জুলাই শহিদদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষায় রাষ্ট্রে প্রকৃত পরিবর্তন আনতে হবে: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কোটালীপাড়ায় বিশ্ব মানবপাচার প্রতিরোধ দিবস পালিত 

‘বৈষম্যহীন মুক্তিযোদ্ধার চেতনায় বাংলাদেশ’

Biswajit Shil
হালনাগাদ: রবিবার, ১ ডিসেম্বর, ২০১৯

রাজিব শর্মাঃ শুরু হলো বিজয়ের মাস ডিসেম্বর। ডিসেম্বর বাঙালির জীবনে এক অনন্য গৌরবের মাস। এই মাসেই বাঙালি জাতি পায় তাদের লালিত স্বপ্নের স্বাধীনতা। ১৯৭১ সালে এক রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বিশ্বের মানচিত্রে বাংলাদেশ নামক এক স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের স্বাধীনতা সংগ্রামের ডাকে সাড়া দিয়ে দেশের সকল শ্রেণির মানুষ ঝাঁপিয়ে পড়েছিল মুক্তিযুদ্ধে।

‘জাতীয় ঐক্যের মধ্যদিয়েই দেশবিরোধী অপতৎপরতার জবাব দিতে হবে। স্বাধীনতার লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করতে হবে সম্মিলিতভাবে। শোষণমুক্ত, দারিদ্রমুক্ত, বৈষম্যহীন মুক্তিযুদ্ধের চেতনার অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। যেখানে সবাই সবার নাগরিক অধিকার নিয়ে একটি স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে গৌরবের সঙ্গে বসবাস করতে পারবে। এ লক্ষ্যে বিজয়ের মাসে নতুন করে শপথ নিতে হবে।’

৯ মাসের সশস্ত্র যুদ্ধে ২ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রম আর ৩০ লাখ শহীদের আত্মদানের পর আমরা লাভ করি স্বাধীনতা। সামরিক শক্তির দিক থেকে এক অসম যুদ্ধ হলেও দেশমাতৃকার জন্য বাঙালির সর্বোচ্চ ত্যাগ আমাদের মুক্তির সংগ্রামকে ত্বরান্বিত করে। পাকবাহিনী এদেশের অকুতোভয় মুক্তিযোদ্ধাদের তীব্র প্রতিরোধের মুখে ডিসেম্বরের শুরুতেই দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পিছু হটতে থাকে। একে একে মুক্তাঞ্চল প্রতিষ্ঠা হয়। এভাবে ১৬ ডিসেম্বর আসে চূড়ান্ত ক্ষণ। হানাদারমুক্ত হয় দেশ। পাকবাহিনীর আনুষ্ঠানিক আত্মসমর্পণের পর অভ্যুদয় ঘটে বাংলাদেশের।

বাংলাদেশের জন্ম থেকেই শুরু হয় নানা ষড়যন্ত্র। যারা এদেশের জন্ম হোক এটা চায়নি তারা নানাভাবে তাদের হীন কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখে। যা শুরু হয়েছিল চূড়ান্ত বিজয় লাভের মাত্র ২ দিন আগে লেখক, সাহিত্যিক, সাংবাদিক-বুদ্ধিজীবী হত্যার মধ্যদিয়ে। বাংলাদেশ স্বাধীন হলেও যাতে মাথা তুলে দাঁড়াতে না পারে সেজন্য জাতিকে মেধাশুন্য করার এই নীলনকশা বাস্তবায়ন করে এদেশের পাকহানাদার বাহিনীর দোসর আলবদর, আলশামস বাহিনী। বস্তুত পক্ষে এই ষড়যন্ত্র স্বাধীনতা লাভের পরও থেমে থাকেনি। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে হত্যা করা হয় স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। শুধু তাই নয়, একই বছর ৩ নভেম্বর জেলখানায় নির্মম নিষ্ঠুরতায় হত্যা করা হয় জাতীয় চার নেতাকে। যারা স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। এরপর সামরিক শাসন চেপে বসে। অবৈধ ক্ষমতা দখলকারীরা স্বাধীনতার ইতিহাস ঘুরিয়ে দেয়। দেশকে নিয়ে যায় পেছনের দিকে। কিন্তু এদেশের মানুষ মুক্তিযুদ্ধের চেতাকে ভূলুণ্ঠিত হতে দেয়নি। তাই একাত্তরের ঘৃণ্য যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চলছে এখন বাংলাদেশে।

চিহ্নিত চার যুদ্ধাপরাধের দায়ে জামায়াত নেতা কাদের মোল্লা, কামারুজ্জামান, আলী আহসান মুজাহিদ ও বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ফাঁসির দণ্ড কার্যকর হয়েছে। অন্যদেরও বিচার চলছে। এর মধ্যদিয়ে জাতি অভিশাপমুক্ত হচ্ছে। সমাপ্তি ঘটছে এক কলঙ্কজনক অধ্যায়ের।

দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীরা এখনো থেমে নেই। তারা নানা কায়দায় বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা থামিয়ে দেয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। ধর্মীয় উগ্রবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে চাচ্ছে। কিন্তু সরকারের দৃঢ় পদক্ষেপের কারণে সেটি সম্ভব হচ্ছে না। জাতীয় ঐক্যের মধ্যদিয়েই দেশবিরোধী অপতৎপরতার জবাব দিতে হবে। স্বাধীনতার লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করতে হবে সম্মিলিতভাবে। শোষণমুক্ত, দারিদ্রমুক্ত, বৈষম্যহীন মুক্তিযুদ্ধের চেতনার অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। যেখানে সবাই সবার নাগরিক অধিকার নিয়ে একটি স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে গৌরবের সঙ্গে বসবাস করতে পারবে। এ লক্ষ্যে বিজয়ের মাসে নতুন করে শপথ নিতে হবে।


এ ক্যটাগরির আরো খবর..