রতি কান্ত রায়, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী ও লালমনিরহাট সদর উপজেলা ঘেষা বিলুপ্ত ছিটমহল বোয়ালমারী বাঁশ পেচাই। ধরলা নদী বেষ্টিত ছিটমহলটি বাংলাদেশের সাথে যুক্ত হওয়ার আগে ছিল অন্ধকারাচ্ছন্ন এক জনপদ।
এখানকার মানুষগুলো বঞ্চিত ছিল মৌলিক অধিকার থেকে। সেখানে চলতো চুরি-ডাকাতিসহ নানা অপকর্ম। কোনো নির্দিষ্ট রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ না থাকায় পরিচয় দিতে পারতো না তারা। পড়ালেখাতো দূরের কথা কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সেসময় এখানে গড়ে উঠেনি। কাছাকাছি কোনো বিদ্যালয় না থাকায় শিক্ষার অধিকার বঞ্চিত ছিল এখানকার বাসিন্দারা। ফলে বাল্যবিবাহের প্রবণতা ছিল অনেক বেশি। বিভিন্ন ধরনের কুসংস্কারে আচ্ছন্ন ছিল অধিবাসীরা।
২০১৫ সালের ৩১ জুলাই ছিটমহল বিনিময়ের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা ফিরে পাবার পর সমাপ্তি ঘটে অগোছালো অনিশ্চিত জীবনের। গড়ে ওঠে রাস্তা-ঘাট, ব্রিজ কালভার্ট। ঘরে ঘরে পৌঁছে যায় বিদ্যুৎসহ সরকারি-বেসরকারি সকল সুযোগ সুবিধা। শিক্ষার প্রসার ঘটাতে নির্মাণ করা হয় বোয়ালমারী বাঁশ পেচাই নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়।
অবহেলিত এ অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের আলোকিত জীবনের স্বপ্ন দেখাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা হওয়ায় ওই এলাকার শিক্ষার্থীদের মাঝে বৃদ্ধি পেয়েছে শিক্ষার প্রতি আগ্রহ।
সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছানোয়ার, উমর ফারুক, মাজেদা ও অষ্টম শ্রেণির আনজু, সাবিনা, মরিয়ম, শাহাদত, মফিজুলের সাথে কথা বলে জানা যায়, বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার আগে ওই এলাকার শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা করতে খুবই কষ্ট করতে হতো। তাদেরকে নিজের পরিচয় গোপন রেখে ধরলানদী ও চর পাড়ি দিয়ে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলাধীন মিয়াপাড়া, চর শিমুলবাড়ী, কিশামত শিমুলবাড়ী, চর গোরকমন্ডপ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, নাওডাংগা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ এবং মিয়াপাড়া নাজিমুদ্দিন বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয়ে যেতে হতো। কেউ কেউ ধরলানদী পেরিয়ে ৮ কিলোমিটার দূরে লালমনিরহাট সদরের ইটাপোতা দাখিল মাদ্রাসা ও চর ক্লুাঘাট উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়তে যেতো।
স্থানীয় রহমত আলী জানান, এখানে স্কুল প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর স্কুলে যওয়ার হার অনেক বেড়েছে। বাল্যবিবাহও অনেক কমে গেছে। আগে ছেলেমেয়েরা দূরের স্কুলে গিয়ে পড়ালেখা করতে চাইতো না। এখন এলাকায় স্কুল হওয়ায় ছেলে-মেয়েরাও পড়তে আগ্রহী হচ্ছে।
বোয়ালমারী বাঁশ পেচাই নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুমর আলী জানান, আমরা শিক্ষকেরা চর এবং ধরলা নদী পেরিয়ে এসে প্রতিষ্ঠানে শিক্ষাদান করে যাচ্ছি। এমপিওভুক্তর জন্য আবেদন করেছি। সরকারের কাছে আবেদন, আমাদের অবরুদ্ধ জীবনের যেভাবে মুক্তি এনে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তেমনিভাবে এখানকার একমাত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিরও এমপিওভুক্তি তিনি করে দেবেন। তাহলে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার দ্বার উন্মোচিত হবে। আলোকিত হবে এ জনপদ।




