× Banner
সর্বশেষ
ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বার্তা ও অনশন ভঙ্গ: যন্তর-মন্তরে কাটল জট, জয়ে ফিরল সাধারণতন্ত্র জগন্নাথদেবের পুনর্যাত্রা আজ: উল্টো রথযাত্রার ধর্মীয় তাৎপর্য, ইতিহাস ও আধ্যাত্মিক বার্তা সোনম ওয়াংচুক অনশন প্রত্যাহার, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত আজ ২৪ জুলাই বৈদিক জ্যোতিষে রাশিফল ও গ্রহদোষ প্রতিকারের উপায় সকাল ৯টার মধ্যে ১০ অঞ্চলে ঝড়ো হাওয়ার আশঙ্কা, নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত ২৪ জুলাই শুক্রবার পঞ্জিকা ও ইতিহাসের এইদিনে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন আজ পদত্যাগ করতে পারেন, দাবি রয়টার্সের টিপকাণ্ডে বরখাস্ত কনস্টেবল নাজমুল তারেককে চাকরিতে পুনর্বহালের নির্দেশ ধর্মমন্ত্রীর আশু আরোগ্য কামনায় দেশজুড়ে হেফাজতে ইসলামের বিশেষ দোয়া দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি, সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত

ডেস্ক

বিতর্কে বিএনপির মনোনীত নারী প্রার্থী মতুয়া সুবর্ণা ঠাকুর

Kishori
হালনাগাদ: সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬
মতুয়া সুবর্ণা ঠাকুর

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি জোটের মনোনয়ন ঘোষণা নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী থেকে মতুয়া সম্প্রদায়ের পরিচিত মুখ মতুয়া সুবর্ণা ঠাকুর (শিকদার)-এর নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় বিষয়টি আরও আলোচিত হয়ে উঠেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্য অনুযায়ী, সুবর্ণা পূর্বে কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। এমনকি একটি ভিডিওতেও তাকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে বক্তব্য দিতে দেখা গেছে, যেখানে তিনি নিজেকে দলটির দীর্ঘদিনের কর্মী হিসেবে উল্লেখ করেন।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে সুবর্ণা ঠাকুর (শিকদার) বলেছেন, তিনি দীর্ঘদিন সক্রিয় রাজনীতিতে ছিলেন না এবং তার অনুমতি ছাড়াই আওয়ামী লীগের কমিটিতে নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। তার এই বক্তব্য ঘটনাটিকে আরও জটিল করে তুলেছে এবং সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

উল্লেখ্য, জাতীয় সংসদের ৩০০টি সাধারণ আসনের ভিত্তিতে আনুপাতিক হারে ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টন করা হয়। এবারের নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ৩৬টি আসন পেতে যাচ্ছে, যা তাদের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতারই প্রতিফলন। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী-এনসিপি জোট পাবে ১৩টি আসন।

এই মনোনয়ন ঘিরে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ত্যাগী ও দীর্ঘদিনের কর্মীদের উপেক্ষা করে অন্য দল থেকে আসা কাউকে সরাসরি মনোনয়ন দেওয়াকে কেউ কেউ হতাশাজনক হিসেবে দেখছেন। আবার দলের একটি অংশ এটিকে কৌশলগত সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচনা করছে—যেখানে ভিন্ন পটভূমির ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করে দলকে আরও বিস্তৃত করার চেষ্টা করা হতে পারে।

সব মিলিয়ে, সংরক্ষিত নারী আসনের এই মনোনয়ন শুধু প্রার্থী তালিকাই নয়, বরং বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা, দলবদল ও কৌশলগত সমন্বয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিচ্ছবি হিসেবে সামনে এসেছে।

কেন পেলেন সুবর্ণা ঠাকুর মনোনয়ন

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সুবর্ণা ঠাকুর দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পর তিনি বিএনপির সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি করেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

সূত্র মতে, গত জাতীয় নির্বাচনের পর থেকেই তার বিএনপির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়তে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় তিনি সম্প্রতি জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য বিএনপি থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন এবং পরবর্তীতে দলটির মনোনয়ন তালিকায় স্থান পান।

এ বিষয়ে দলীয় কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য না মিললেও, স্থানীয় পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ ধরনের দলবদল বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় অস্বাভাবিক নয়, বরং ক্ষমতার সমীকরণ অনুযায়ী অনেক ক্ষেত্রেই এমন পরিবর্তন দেখা যায়।

কে এই সুবর্ণা ঠাকুর

রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে সুবর্ণা ঠাকুর হিন্দু ধর্মাবলম্বী মতুয়া সম্প্রদায়ের একজন সক্রিয় সদস্য হিসেবে পরিচিত। তিনি গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার ওড়াকান্দি ঠাকুরবাড়ির সঙ্গে যুক্ত এবং স্থানীয় ওড়াকান্দি মীড উচ্চ বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার পারিবারিক পরিচয়েও রয়েছে সামাজিক প্রভাব—পিতা অনিল কৃষ্ণ মণ্ডল এবং স্বামী পদ্মনাথ ঠাকুর।

দীর্ঘদিন ধরে সুবর্ণা ঠাকুর মতুয়া সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ও সমাজ সংস্কারমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত রয়েছেন। তিনি ওড়াকান্দিতে অবস্থিত শ্রী শ্রী হরি গুরুচাঁদ মতুয়া মিশনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের মাধ্যমে মতুয়া আদর্শ প্রচার, নারী জাগরণ এবং শিক্ষা বিস্তারে কাজ করে আসছেন।

ওড়াকান্দিতে মতুয়া সম্প্রদায়ের অন্তত তিনটি সংগঠন সক্রিয় রয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম হরি গুরুচাঁদ মতুয়া মিশন। এই সংগঠনের নেতৃত্বে রয়েছেন তার স্বামী পদ্মনাথ ঠাকুর, যা স্থানীয়ভাবে তাদের পারিবারিক ও সামাজিক প্রভাবকে আরও সুদৃঢ় করেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাজনৈতিক বিতর্কের পাশাপাশি সুবর্ণার এই সামাজিক ও ধর্মীয় সম্পৃক্ততাও তাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে তুলে ধরেছে।


এ ক্যটাগরির আরো খবর..