সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, বাংলাদেশ কোনো নির্দিষ্ট ধর্ম, গোষ্ঠী বা রাজনৈতিক দলের একার নয়; এটি সব মানুষের দেশ। ধর্মীয় কিংবা রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে দেশের কোনো নাগরিক যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সরকার তা নিশ্চিত করতে চায়।
আজ সকালে দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার বারোয়ারী মন্দির প্রাঙ্গণে জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ধর্মীয় বিভাজন সৃষ্টি করা বা বিভেদের রাজনীতি করার পক্ষে সরকার নয়। কোনো ধরনের ধর্মীয় বিভাজনকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না এবং কাউকেও এ ধরনের বিভাজন তৈরির সুযোগ দেওয়া হবে না।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, প্রত্যেকে নিজের ধর্ম, পেশা ও দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড স্বাধীনভাবে এবং নিরাপদ পরিবেশে পরিচালনা করবেন। বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় সম্প্রীতির দেশ হিসেবে পরিচিত। পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহাবস্থানের মাধ্যমে সবাই মিলে দেশকে আরও সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে হবে।
তিনি বলেন, সমাজে হিংসা, বিদ্বেষ, জোরজবরদস্তি কিংবা অন্যের ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি মনে করে, দেশের প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে এবং সবাইকে সঙ্গে নিয়েই দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।
জাহিদ হোসেন আরও বলেন, প্রত্যেক মানুষ তার নিজ নিজ ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী উৎসব ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করবেন। অন্যের ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে কেউ বাধা সৃষ্টি করবেন না। শত বছর ধরে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ পারস্পরিক সম্প্রীতির সঙ্গে বসবাস করে আসছেন; ভবিষ্যতেও এই ঐক্য ও সহাবস্থান বজায় রাখতে হবে।
দেশের উন্নয়ন ও কল্যাণে সব সম্প্রদায়ের মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
মতবিনিময় সভায় বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিনা খাতুন ছাড়াও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রতিনিধি এবং বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।





