বাঁচার আশায় কোমরে দড়ি বেঁধে ঝুললেন বুর্জ খলিফা এক ঘণ্টা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: এমন এক অভিজ্ঞতা, যা সারা জীবন মনে থেকে যাবে তার। সুখের নয়, ভয়াবহ। বিধ্বংসী আগুন তখন তার থেকে আর কয়েক মিনিটের দূরে। আর বাঁচার আশায় কোমরে দড়ি বেঁধে ব্যালকনি দিয়ে ঝুলে রয়েছেন তিনি। উদ্ধারকারী দলের চেষ্টায় আগুনের গ্রাস হওয়া থেকে রক্ষা পেলেন বটে। তবে ঝলসে গেছে তার ভেতরটা। সেই রাতের ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে এখনো কেঁপে কেঁপে উঠছেন তিনি।

নতুন বছর শুরু হতে তখন আরো কিছুটা সময় বাকি। বুর্জ খলিফার পাশে যে বহুতল হোটেলে আগুন লেগেছে, তিনি তখন তার ৪৮ তলায় দাঁড়িয়ে। নতুন বছরের আনন্দকে ক্যামেরাবন্দি করার জন্য। পেশার তাগিদে। সঙ্গে ছিল এক বন্ধু। দুজনই সাংবাদিক।

নতুন বছরে বুর্জ খলিফাকে ঘিরে যে আলো এবং উৎসবের বন্যা হওয়ার কথা, সেটাই ক্যামেরাবন্দি করতে গিয়েছিলেন দুজনে। যে হোটেলে আগুন লাগে, তারই ৪৮ তলায় উঠেছিলেন। জানালার পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তুলতে ব্যস্ত ছিলেন। কখন যে নিচ থেকে চুপিসারে বিধ্বংসী আগুন তাদের দিকে ছুটে এসেছে, একবারের জন্যও টের পাননি তিনি। বন্ধুই প্রথম দেখতে পান। আর দেখেই চিৎকার করে সাবধান করেন তাকে। বন্ধু ছুটে বেরিয়ে গেলও আটকে পড়েন তিনি। ততক্ষণে ধোঁয়ার কুণ্ডলী ঘরের ভেতরে প্রবেশ করেছে। উপায় না দেখে নেমে পড়েন ব্যালকনিতে। বুঝেছিলেন এতে রক্ষা পাওয়ার সম্ভাবনা বেশ কম। কয়েক মিনিটের মধ্যে ঘর ছাড়িয়ে সেই আগুন ব্যালকনিতেও এসে পড়বে। পাশেই ঝুলছিল শক্তপোক্ত দড়ি। সেই দড়ি কোমরে বেঁধে ঝুলে পড়েন তিনি। এই দড়ির সাহায্যেই ওই বহুতলটিকে বাইরে থেকে পরিষ্কারের কাজ করেন কর্মীরা।

এরপর…প্রতিটা মুহূর্ত তার কাছে ঘণ্টার মতো কাটছিল। চিৎকার করছিলেন। কিন্তু শুনবে কে? এক ঘণ্টা এভাবেই ঝুলে ছিলেন তিনি। ভেবেই নিয়েছিলেন নতুন বছরের সকালটা তার আর দেখা হবে না। তাই চোখ বন্ধ করে শুধু প্রিয়জনদের কথাই ভাবছিলেন। কখন যে উদ্ধারকারী দল এসে তাকে উদ্ধার করে নিয়ে গেছে, মনে ছিল না সে কথাও। জ্ঞান যখন ফিরল তখন হাসপাতালে। চারদিকে সাংবাদিকদের ভিড়।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
admin
লেখক / প্রতিবেদক

admin

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।