পুলিশের চাকুরী পেল ভ্যানে সবজি বিক্রেতা মায়ের ছেলে

উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি■:(৮,জুলাই) ২৭৪: পুলিশ কনস্টেবলে চাকরি পাওয়া সাকিবুরের মা সাবিনা ইয়াসমিন এভাবেই প্রতিদিন ভ্যানে করে বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে সবজি বিক্রি করেন। মায়ের পাশে সাকিবুর ও তাঁর ছোট ভাইবোন। সাকিবুর রহমানরা তিন ভাইবোন। সাকিবুর এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছেন। অন্য দুই ভাইবোনের মধ্যে একজন দ্বাদশ শ্রেণিতে, আরেকজন সপ্তম শ্রেণিতে পড়ে। তাঁদের বাবা নেই। মা সাবিনা ইয়াসমিন ভ্যানে করে বাড়িতে বাড়িতে সবজি বিক্রি করেন। সেই উপার্জনে চলে তাঁদের চার সদস্যের সংসার। সাকিবুর পুলিশ কনস্টেবলের চাকরি পেয়েছেন। তাই সুনির্দিষ্ট আয়ের উৎসের নাগাল পাওয়া অসহায় পরিবারটিতে বইছে খুশির বন্যা। এ যেন সাকিবুরের চাকরিতে হাসছে তাঁর পরিবার।

গত নড়াইলে পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হয়। পুলিশ লাইন মিলনায়তনে ফলাফল ঘোষণা করেন নড়াইলের পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন নিয়োগপ্রক্রিয়া পরিচালনায় জড়িত যশোর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সালাউদ্দিন শিকদার ও খুলনা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. নূর আলম সিদ্দিকী। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৮০ জন প্রার্থী ও তাঁদের অভিভাবকদের সামনে এ ফলাফল ঘোষণা করা হয়। সাকিবুরদের কোনো জমিজমা নেই। বসবাস করেন নড়াইল শহরের বরাশুলায় সরকারের দেওয়া খাসজমিতে, ঝুপড়িতে। ভ্যানচালক বাবা হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন তিন বছর আগে। সেই থেকে অসহায় পরিবারটির হাল ধরেন মা সাবিনা ইয়াসমিন। খুশির অভিব্যক্তি প্রকাশ করত গিয়ে আবেগে কাঁদছিলেন সাবিনা। আনন্দে চোখ ছলছল করছিল সাকিবুরেরও। অশ্রুসজল হয়ে ওঠেন এসপি জসিম উদ্দিনও। শুধু সাকিবুরের পরিবারই নয়, নিয়োগ পেয়ে আনন্দের জোয়ার বইছে পৃথা বিশ্বাস ও সুপ্তিকনা বিশ্বাসদের পরিবারেও। পৃথার বাবা প্রদীপ বিশ্বাস দিনমজুর। সেই উপার্জনে চলে সংসার। সুপ্তির বাবা সমির বিশ্বাস নড়াইল শহরে রুটি বিক্রি করে সংসার চালান। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নিয়োগ পাওয়া একজন পোষ্য। অন্যরা হতদরিদ্র ও দরিদ্র কৃষক পরিবারের।

নড়াইলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন পিপিএম (বার), আমাদের নড়াইল জেলা প্রতিনিধি উজ্জ্বল রায়কে জানান, পুলিশ বাহিনীকে দক্ষ করতে মেধাবী নিয়োগের বিকল্প নেই। তাই ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় কোনো তদবির ছাড়াই যোগ্যদের কনস্টবল ট্রেইনি পদে চূড়ান্তভাবে নির্বাচন করা হয়েছে। ২৯জুন থেকে ৫ জুলাই পর্যন্ত কয়েক ধাপে পরীক্ষা শেষে সহস্রাধিক প্রার্থীর মধ্যে ২০ জনকে চূড়ান্ত নির্বাচন করা হয়েছে। যার মধ্যে নারী ও পুরুষ। সদ্য নিয়োগ প্রাপ্তরা মেধার পরিচয় দিয়ে আগামী দিনে পুলিশ বাহিনীর ভাবমুর্তিকে আরো উজ্জল করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Kishori
লেখক / প্রতিবেদক

Kishori

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।