× Banner
সর্বশেষ
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী চূড়ান্ত করার দায়িত্ব পেলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীকে দিল বিএনপির স্থায়ী কমিটি জুলাই শহীদ-আহতদের পরিবারকে সুখবর দিলেন ভূমিমন্ত্রী নড়াইলে জাল দলিলে নামজারি ভূমি অফিসের নায়েবদের ভয়াবহ জালিয়াতি  পাইকগাছায় গাজাসহ আটক এক জনের ৬ মাসের কারাদণ্ড পাইকগাছায় আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের নামে কৃষি ক্যাম্পাসের নামকরণের দাবিতে স্মারকলিপি ১৭ বছরে একটি সরকার ক্ষমতায় থেকে লুটপট করে বাংলাদেশ থেকে ২৯ লক্ষ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে -এসএম জিলানী  গরের বাংলাদেশ সফরের সমাপ্তি, সম্পর্ক জোরদারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত রোগীদের প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণ করতে হবে চিকিৎসকদের – ভূমিমন্ত্রী মধ্যস্থতার মাধ্যমে মামলাজট কমিয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব – আইনমন্ত্রী

পাঁচশত বছরের প্রাচীন শ্রীশ্রী রক্ষা কালী মন্দির ও শিব মন্দির সম্পূর্ণ জরাজীর্ণ পরিত্যক্ত অবস্থা থেকে উদ্ধার

admin
হালনাগাদ: শনিবার, ২০ আগস্ট, ২০১৬

দুলাল চন্দ্র পাল (ষ্টাফ রিপোর্টার) ঃ ঢাকা জেলার ধামরাই উপজেলাধীন নান্নার গ্রামে পাঁচ শতাধিক বছরের একটি পুরানো শ্রীশ্রী রক্ষা কালী মন্দির ও শিব মন্দির সম্পূর্ণ জরাজীর্ণ অবস্থায় পরিত্যক্ত অবস্থা থেকে উদ্ধার করলো স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়। গত ১৯৮৮ খ্রিঃ তারিখের বন্যায় মন্দিরটির মাটির বিগ্রহ পানিতে তলিয়ে ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যায়। বন্যা চলে যাওয়ার পর নাকি মন্দিরের ভিতরে সাপ বসবাস করতো। এলাকার এক বৃদ্ধা মহিলা প্রতিদিন ফুল-বেলপাতা দিয়ে পূজা অর্চনা করতেন। কিন্তু এলাকার হিন্দু সম্প্রদায় ভয়ে মন্দিরটির কোন সংস্কার বা নির্মাণের ব্যবস্থা করে নাই।

গত ১৮/০৮/২০১৬ খ্রিঃ তারিখ রোজ শুক্রবার দিন ধামরাই উপজেলাধীন নান্নার গ্রামের হিন্দু সম্প্রদায়গণ দি নিউজ ডটকম পত্রিকাকে জানাইলে দি নিউজ ডটকম পত্রিকার সহকারী সম্পাদক সেখানে গিয়ে শ্রীশ্রী রক্ষা কালী মন্দির ও শিব মন্দিরটি পুনঃ নির্মাণের কথা সেখানের হিন্দু সম্প্রদায়কে বলেন। এই প্রস্তাবটির কথা শুনে সেখানের হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন খুবই খুশী হয় এবং তাহারা বলেন যে এত বছর হয়ে গেল কেহ এই মন্দিরের কাজ তো দূরের কথা মন্দিরের ভিতরে ঢোকার সাহস পাচ্ছিলেন না; মন্দিরটিতে সাপের ভয় ও সাম্প্রদায়িকতার ভয়ে কেহ এগিয়ে এসে মন্দির সংস্কার বা পুনঃ নির্মাণের ইচ্ছা প্রকাশ করে নাই।

দি নিউজ ডটকম পত্রিকার সহকারী সম্পাদক ঐ নান্নার এলাকার একজন পুরোহিত ব্রাহ্মণ ডেকে এনে সেখানে তৎক্ষণাৎ পূজার আয়োজন করেন এবং মন্দির পুনঃ নির্মাণের আহ্বান জানান ও ৩৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি পূর্ণাঙ্গ কার্যকরী কমিটি গঠন করেন।
নিম্নে মন্দিরের কার্যকরী কমিটির তালিকা দেওয়া হইলঃ

শ্রীযুক্ত বাবু নারায়ণ ঘোষ উপদেষ্টা, শ্রীযুক্ত বাবু কৃষ্ণ সূত্রধর-উপদেষ্টা এবং মন্দির কার্যকরী কমিটিতেঃ  শ্রী সুশীল কুমার পাল-সভাপতি, শ্রী দেবাশীষ ঘোষ সহ-সভাপতি, প্রানতোষ তালুকদার সাধারণ সম্পাদক, শ্রী দুলাল পাল-সহকারী সাধারণ সম্পাদক, শ্রী গোবিন্দ সরকার-সাংগঠনিক সম্পাদক, শ্রী বাবুল সাহা-সহকারী সাংগঠনিক সম্পাদক, শ্রী ভজন ঘোষ-যুগ্ম সম্পাদক, শ্রী শংকর চন্দ্র ঘোষ, সহ-যুগ্ম সম্পাদক, শ্রী কালীপদ সাহা কোষাধ্যক্ষ, শ্রী রণজিৎ ঘোষ সহকারী কোষাধ্যক্ষ, শ্রী তাপস সাহা দপ্তর সম্পাদক, শ্রী বিপ্লব সাহা সহ-দপ্তর সম্পাদক, শ্রী  পার্থ সাহা প্রচার সম্পাদক, শ্রী গুপীনাথ সাহা সহ-প্রচার সম্পাদক, শ্রী গুপীনাথ সাহা-সহ-প্রচার সম্পাদক, শ্রী কমল চন্দ্র সূত্রধর সমাজ কল্যাণ সম্পাদক, শ্রী আকাশ সরকার সহ-সমাজ কল্যাণ সম্পাদক, শ্রী অরূপ সাহা অভ্যর্থনায়, শ্রী টুটুল ঘোষ-আন্তর্জাতিক সম্পাদক, কার্যকরী সদস্যগণ শ্রী নিতাই সাহা, শ্রী ডাওরী মন্ডল, শ্রী সত্য ঘোষ, শ্রী তপন ঘোষ, গোপাল ঘোষ, শ্রী শিপলু ঘোষ, শ্রী চন্দন ঘোষ, শ্রী নিতাই মনিদাস, শ্রীহরি রাজবংশী, শ্রী রতন সাহা, শ্রী সঞ্জীব ঘোষ, শ্রী গোপাল ঘোষ, শ্রীমতি অর্চনা রাণী পাল-উৎসব সম্পাদিকা, শ্রীমতি জ্যোসনা রাণী পাল-সহ-উৎসব সম্পাদিকা, শ্রীমতি মঞ্জু রাণী দাস-সহ-উৎসব সম্পাদিকা। উল্লেখিত লোকদের নিয়া কমিটি গঠন করার পর সবাই আনন্দিত মনে বললো যে সৎ চিন্তা, আদর্শ, সৎ বুদ্ধি ও ইচ্ছা থাকলে সবই সম্ভব।

মন্দির পূজা-অর্চনার সময় সকলেই উপস্থিত ছিলেন। দি নিউজ এর সহকারী সম্পাদক খুবই খুশী হয়েছেন যে ধামরাই উপজেলাধীন নান্নার গ্রামের এলাকাবাসী সম্পূর্ণ অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী। এই এলাকার হিন্দু-মুসলমান একে-অপরের প্রতি ভ্রাতৃত্ব সুলভ আচরন করে আসছেন। এই এলাকার হিন্দু-মুসলমান খুবই শান্তিপ্রিয় এবং কাহারো প্রতি কোন অনাচার-অত্যাচার বা ঝগড়া-বিবাদ নেই এবং কখনোই অত্র নান্নার এলাকার হিন্দু-মুসলমানদের সহিত ঝগড়া-ফ্যাসাদ হয় নাই এবং হতেও কেহ দেখে নাই, আশা করি ভবিষ্যতেও হবে না। কিন্তু  ধামরাই উপজেলাধীন নান্নার গ্রামটি খুবই অবহেলিত এই গ্রামটির রাস্তাঘাট, ইউনিয়ন পরিষদ ও স্কুল-কলেজ উন্নত নয়।

যা জানা দেখা গেল বা জানা গেল এই এলাকার মানুষ খুবই শান্তিপ্রিয়। কিন্তু এলাকার জনগণ চায় এলাকার রাস্তা-ঘাট, স্কুল-কলেজ এর উন্নতি। এখানকার নতুন প্রজন্মের ছেলে-মেয়েরা শিক্ষিত ও আদর্শ হয়ে গড়ে উঠুক এবং এলাকায় যেন সবসময়ই শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় থাকে। এটাই এলাকার মানুষের চিন্তা-ধারণা।

পরিশেষে এই নান্নার এলাকার জনগণ বলেছেন যে ঢাকাস্থ ধামরাই উপজেলাধীন এই নান্নার গ্রামে কোন মৌলবাদী ও সম্প্রদায়িক অপশক্তির স্থান হবে না। এই গ্রামের সবাই অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী ও শান্তিপ্রিয়। এই গ্রামে হিন্দু-মুসলমান ভাই-ভাই সম্পর্ক স্থাপন করেছে। এই গ্রামে কোন অপশক্তির স্থান নেই। ভবিষ্যতেও হইতে দেবে না।


এ ক্যটাগরির আরো খবর..