× Banner
সর্বশেষ
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি সম্পন্ন, ভোটার তালিকার অপেক্ষায় ইসি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সম্পূর্ণ প্রস্তুত নির্বাচন কমিশন – সিইসি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন চ্যালেঞ্জ করে রিট খারিজ বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা সহজ করল চীনা দূতাবাস মোদির ফেসবুক ভিডিও ব্লক করে মেটা বললো, ‘কারিগরি ত্রুটি’ আনুষ্ঠানিক ভাবে বঙ্গভবনে দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করলেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ; স্পিকারের সঙ্গে আলোচনা করতে সংসদে প্রধান নির্বাচন কমিশনার দেশজুড়ে অপরাধ দমনে অভিযান জোরদার দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে পতন ৯ অঞ্চলে ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টির আশঙ্কা, নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি

নির্মাণাধীন সেতু ফেলে পালিয়েছেন ঠিকাদার, ভোগান্তিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জের কয়েক হাজার মানুষ

Kishori
হালনাগাদ: বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী, ২০২৬
নির্মাণাধীন সেতু

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার শাহজাহানপুর ইউনিয়নে কাচরার খালের ওপর নির্মিত একটি সেতু দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে অসম্পূর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজ বন্ধ রেখে চলে যাওয়ায় শাহজাহানপুর, আলাতুলী ও চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষ চরম ভোগান্তির মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিনের যাতায়াত সংকট নিরসনে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ৬০ মিটার দৈর্ঘ্যের এই সেতু নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করে। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয় ৬ কোটি ৯০ লাখ ৯২ হাজার টাকা। সেতুর মূল অবকাঠামোর কাজ শেষ হলেও সংযোগ সড়ক, মাটি ভরাট ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজ অসম্পূর্ণ রেখেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ বন্ধ করে দেয়।
নরেন্দ্রপুর গ্রামের বাসিন্দা সাদরুল ইসলাম বলেন, “সেতুর পিলার আর ঢালাই চোখে পড়লেও ওঠানামার কোনো রাস্তা তৈরি হয়নি। একটু বৃষ্টি হলেই নিচের পথ পানিতে তলিয়ে যায়। তখন চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।”
তিনি জানান, আগে যেখানে ৩০ মিনিটে যাতায়াত করা যেত, এখন সেখানে এক ঘণ্টা বা তারও বেশি সময় লাগছে। কয়েকশ মিটারের পথ পার হতে প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার ঘুরপথে চলাচল করতে হচ্ছে, এতে সময় ও খরচ—দুটোই বেড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ব্যাহত হচ্ছে জরুরি চিকিৎসা সেবা। অসুস্থ রোগী কিংবা প্রসূতি মাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক সময় সেতুর কারণে অ্যাম্বুলেন্স চলাচল করতে না পেরে বিপাকে পড়তে হচ্ছে।
এ ছাড়া স্কুলগামী শিশুদের নিয়মিত যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে, কৃষিপণ্য পরিবহন ও স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা তৈরি হলে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক চলাচল কার্যত অচল হয়ে পড়ে।
এলাকার আরেক বাসিন্দা হাসিবুর রহমান বলেন, “এক বছরেরও বেশি সময় ধরে কাজ বন্ধ থাকলেও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের কোনো খোঁজ নেই। একাধিকবার এলজিইডি ও স্থানীয় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানানো হয়েছে, কিন্তু বাস্তবে কোনো অগ্রগতি নেই। বর্ষা এলেই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।”
এ বিষয়ে ঠিকাদার মো. সেলিম প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে মুঠোফোনে তিনি দাবি করেন, জমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ পরিশোধ না হওয়ায় স্থানীয়দের বাধার মুখে কাজ বন্ধ রাখতে হয়েছে।
জেলা এলজিইডির দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী মো. আজহারুল ইসলাম বলেন, “সেতুর অবশিষ্ট কাজ দ্রুত শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সংযোগ সড়কসহ বাকি কাজ শেষ করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।”
প্রকল্পটির কাজ শেষ করার প্রাথমিক সময়সীমা ছিল গত বছরের ৬ মার্চ। পরে মেয়াদ বাড়িয়ে আগামী জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হলেও দীর্ঘদিন ধরে কাজ বন্ধ থাকায় সেতুটি কবে নাগাদ সম্পূর্ণ সংস্কার করে জনসাধারণের চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে—তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ কাটেনি।


এ ক্যটাগরির আরো খবর..