× Banner
সর্বশেষ
বেনাপোল দৌলতপুর সিমান্ত থেকে ৩১০ বোতল ভারতীয় উইনিক্স সিরাপ উদ্ধার গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ সরকার -তথ্যমন্ত্রী ঠাকুরগাঁওয়ে ডিবির অভিযানে ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার কাঠের তৈরি কুটির শিল্পে কেমিক্যালযুক্ত ড্রাম বিস্ফোরণ,দগ্ধ শিশু শ্রমিকের মৃত্যু নড়াইলের মুলিয়ায় গোপী বিশ্বাস’র এক পা-তেই জীবন সংসার প্রতিবন্ধী জীবনটাই যেন অভিশাপ ঝিনাইদহের ডাকবাংলায় স্কুল শিক্ষকের বিরুদ্ধে মসজিদের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ঝিনাইদহে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত যশোর-বেনাপোল মহা সড়কে বিজিবি অভিযানে ১ কোটি ১০ লক্ষ টাকা মূল্যের স্বর্ণবারসহ আটক-১ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দুই বছর: ভোটাধিকার, বিচার ও গণতন্ত্র নিয়ে নতুন প্রত্যাশা রাজধানীতে ডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেফতার আরও ৪১৮

দারিদ্রতাকে জয় করলেন সুরঞ্জনা

admin
হালনাগাদ: মঙ্গলবার, ৯ মে, ২০১৭

শরীয়তপুর প্রতিনিধি ॥  দারিদ্রতার নাগপাশ কাটিয়ে জীবন সংগ্রামী অদম্য কিশোরী সুরঞ্জনা। সে শত প্রতিকুলতার পাহাড় ডিঙ্গিয়ে চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষায় ৩.৫৫ পেয়ে সাফল্য অর্জন করেছে। শরীয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জ উপজেলার সাজনপুর ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের এ শিক্ষার্থী জন্মলগ্ন থেকে দারিদ্রতার দুষ্টচক্রে বন্দী। কঠিন বাস্তবতার মধ্যেই নানা প্রতিকুলতাকে অতিক্রম করে অদম্য প্রচেষ্টা আর ইচ্ছা শক্তিকে সম্বল করে এগিয়ে চলছে সুরঞ্জনা।

ভেদরগঞ্জ উপজেলার মহিষার ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামের প্রয়াত পরীক্ষিত চৌধুরীর দ্বিতীয় কন্যা সে। তিন বোন ও মাকে শোক সমুদ্রে ভাসিয়ে দীর্ঘ রোগ ভোগের পর চলে গেছেন না ফেরার দেশে। আর সহায় সম্বল যা ছিল তাও তার চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে হারিয়ে গেছে। সুরঞ্জনার জীবনের গল্প শুনে কন্ঠ শিল্পি তপন চৌধুরীর সেই বিখ্যাত গানের কলি মনে পরে গেল “আমার গল্প শুনে কারো চোখে করুনার জ্বল যদি আসে, ভিশন দুঃখ পাবো।” আমাদের সমাজে দুঃখ পাওয়ার সমবেদনা জানানো মানুষ এখনও আছে। তবে বিত্তবানরা যদি এগিয়ে আসে সুরঞ্জনার পাশে দাঁড়ায় তাহলে অসহায় এই মেয়েটি দেশ ও জাতির সম্পদ হবে। তাদের প্রসারিত সহযোগিতার হাত তাকে এগিয়ে নিতে পারে উচ্চ শিক্ষার আসনে।

পরীক্ষা পরবর্তী সুরঞ্জনার অভিব্যক্তি জানতে গেলে বলেন, ছোট বেলা থেকেই বাবাকে হারিয়েছি। দারিদ্রতার কারনে দিনের বেলা মাকে তেমন পাইনি। পরের কাজ করে এখনো মায়ের দিন কাটে। মনে মনে শপথ করেছি লেখাপড়া করে একদিন মানুষ হবো। কিন্তু এসএসসি’র পরীক্ষার ফরম পুরণ করতে গিয়ে দেখলাম টাকা ছাড়া লেখাপড়া করা সম্ভব নয়। তাইতো মা বিভিন্ন জনের কাছে হাত পেতে ফরম পুরণের বোর্ড ফির টাকা জোগার করতেই হন্যে হতে হয়েছে। মায়ের সে দিনের কান্না আমার চোখে আজও ভাসে। তবে পড়ার অন্য কোন খরচ আমাকে দিতে হয়নি। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, মজিবর স্যার, মকবুল স্যারের অবদান আমি কোন দিন ভুলবো না। আমি ভবিষ্যতে আমার লেখাপড়া চালিয়ে যেতে পারি তার জন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করছি। কারন আমার মা আমাকে আর পড়াতে পারবে না। সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা না পেলে আমার উচ্চ শিক্ষার স্বপ্ন শেষ হয়ে যাবে।

সুরঞ্জনার মা অনিচ্ছা রানী বলেন, যাদের নুন আনতে পান্তা ফুরায় তাদের জজ ব্যারিষ্টার হওয়ার স্বপ্ন দেখে লাভ নেই। আমার পক্ষে মেয়েকে কলেজে ভর্তি করা সম্ভব না। তাই চিন্তায় আছি ওকে নিয়ে আগামী দিনে কি করব।

সাজনপুর ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাজী তোফাজ্জল হোসেন বলেন, সুরঞ্জনা অত্যন্ত মেধাবী ছাত্রী। ওর পরিচর্যা করা গেলে সে ভালো ফলাফল করতে সক্ষম হবে। নির্বাচনী পরীক্ষার পরে আমাদের তত্ত্বাবধানে দুই মাসে সুরঞ্জনার যে উন্নতি হয়েছে তাতে আমার বিশ্বাস ও ভবিষ্যতে অনেক ভালো ফলাফল করবে। ওর দারিদ্রতার কারণে যেন শিক্ষা জীবন ব্যহত না হয় তার জন্য আমি সকলের কাছে ওকে সহযোগিতা করার জন্য আহবান জানাই।

ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সোহেল আহমেদ বলেন, সুরঞ্জনার বিষয়টি বিভিন্ন মিডিয়ার মাধ্যমে আমরা জেনেছি। আমাদের জেলা প্রশাসক স্যার ওর বিষয়টি নিয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। আমরা ২/১ দিনের মধ্যে ওর বাড়ি গিয়ে ওকে কি ধরনের সহযোগিতা দিলে সুরঞ্জনার ভবিষ্যত শিক্ষা জীবন অব্যাহত থাকবে সে ব্যাপারে চিন্তা করবো।


এ ক্যটাগরির আরো খবর..