দক্ষিণ চট্টগ্রামের তিন উপজেলায় ৪৫ ইউনিয়ন পানিবন্দি।

রাজিব শর্মা, চট্টগ্রামঃ

টানা দু’দিনের ভারী বর্ষন এবং

পাহাড়ি ঢলে পটিয়া ও

কর্ণফুলীতে অর্ধ লক্ষাধিক

পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন।

মঙ্গলবার সকালেও ভারী বর্ষণ

ও জোয়ারে তলিয়ে যায়

এখানকার বেশিরভাগ সড়ক।

ডুবে গেছে পাঁচ শতাধিক পুকুর।

বৃষ্টির পানির পাশাপাশি

পাহাড়ি ঢলের পানি পটিয়া

পৌর এলাকা ও উপজেলার

বিভিন্ন ইউনিয়নে ঢুকে

নিম্মাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।পটিয়ার  ১৭

ইউনিয়নের মধ্যে সবচেয়ে বেশি

ক্ষতি হয়েছে উপজেলার

ভাটিখাইন, ছনহরা, শোভনদন্ডী,

কচুয়াই, হাইদগাঁও, কেলিশহর,

জঙ্গলখাইন, আশিয়া,

কাশিয়াইশ, জিরি ও পৌর

সদরের বিভিন্ন ওয়ার্ড। পানির

কারণে গ্রামীণ সড়কের

অবকাঠামো নষ্ট হয়ে পড়েছে।

যার কারণে বেশ কয়েকটি

ইউনিয়নে সাধারণ মানুষের

চলাচলে দুর্ভোগ শিকার হতে

হচ্ছে।

একইভাবে পার্শ্ববর্তী কর্ণফুলী

উপজেলার জুলধা, চরলক্ষ্যা,

শিকলবাহা, বড়উঠান ও

চরপাথরঘাটা ইউনিয়নে বৃষ্টির

পানি ও কর্ণফুলী নদীর পানিতে

এলাকায় ঢুকে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি

হয়েছে। তবে এলাকাবাসীর

অভিযোগ, খাল ও পানি

নিস্কাশনের পথ দখল করে

যত্রতত্র পাকা গৃহ নির্মাণের

কারণে বৃষ্টির পানি দ্রুত

নিস্কাশন হতে পারেনি। যার

কারণে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি

হয়েছে।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে,

নিম্মচাপের প্রভাবে প্রথম দিন

উপজেলার ভাটিখাইন স্ট্রিল

ব্রিজ এলাকায় বেড়িবাঁধ

ভেঙে বৃষ্টির পানি ও পাহাড়ি

ঢলের পানি ঢুকে ভাটিখাইন,

ছনহরা, কচুয়াই এলাকা প্লাবিত

হয়। পটিয়া ইন্দ্রপোল-গিরিশ

চৌধুরী বাজার ৫ কিলোমিটার

বাইপাস সড়কের ঠিকাদারের

অবহেলায় শ্রীমাই খালের

ভাটিখাইন এলাকায় বেড়িবাঁধ

ভেঙে যায়। বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে

গিয়ে বর্তমানে ১০ হাজারের

অধিক মানুষ চরম ভোগান্তিতে

রয়েছেন। প্রতি বছর

দুযোর্গকালে উপজেলা

প্রশাসনের উদ্যোগে

তাৎক্ষনিক ত্রান সামগ্রী

বিতরণ করা হলেও চলতি মওসুমে

ক্ষতিগ্রস্থ কোন ধরনের ত্রান

সামগ্রী পাননি। তবে

ভাটিখাইন এলাকায় স্থানীয়

আওয়ামী লীগ নেতাদের

উদ্যোগ গত দুই দিন ধরে খিচুরি

ও ইফতার সামগ্রী বিতরণ

হয়েছে। দুই দিনের প্রবল বৃষ্টি

ও পাহাড়ি ঢলে উপজেলা ও

পৌর এলাকার বিভিন্ন রাস্তা-

ঘাট, ব্রীজ-কালভার্টসহ ব্যাপক

ক্ষতি সাধিক হয়েছে। বেশির

ভাগ এলাকায় নেই বিদ্যুৎ।

পটিয়া উপজেলার কচুয়াই

অলিরহাট এ,কে, মৎস্য

হ্যাচারীর মালিক অমর কৃষ্ণ

সর্দারের পুত্র রাজু সর্দার

বলেন, দুই দিনের বৃষ্টি ও

পাহাড়ি ঢলে তাদের ১২টি

পুকরের মাছ পানিতে ভেসে

গেছে। এতে অনন্ত ২০ লাখ

টাকার ক্ষতি হয়েছে। উপজেলা

মৎস্য কর্মকর্তাকে

মৌখিকভাবে জানিয়েছেন।

এভাবে উপজেলার কুসুমপুরা

ইউনিয়নের বারী এগ্রো

ফার্মের ৫টি পুকুরের মাছ

ভেসে গেছে। ফার্মের

ব্যবস্থাপনা পরিচালক বজলুল

বারী চৌধুরী বলেন, পুকুরে ডুবে

গিয়ে তার ব্যাপক ক্ষতি

সাধিত হয়েছে।

এদিকে পটিয়া পৌরসভার ৫নং

ওয়ার্ডে হাজীর পাড়া, ৮নং

ওয়ার্ডের মাদ্রাসা রোড, ৭নং

ওয়ার্ডের ডাকবাংলোর মোড়

রেলস্টেশন সড়ক, আল জামিয়া

মাদ্রাসা, বাহুলী পিটিআই, ৪নং

ওয়ার্ডের শেয়ানপাড়া,

মাঝেরপাড়া, শীলপাড়া,

গাজীর বাড়ি, সাব রেজিস্ট্রার

বাড়ি, ৯নং ওয়ার্ড চৌধুরী

বাড়ী, আমির ভান্ডার, ২নং

ওয়ার্ডে সুচক্রদন্ডী, রামকৃষ্ণ

মিশন রোড, ৩নং ওয়ার্ডে আবদুর

রহমান সরকারি বালিকা উচ্চ

বিদ্যালয় সড়ক, ৬নং ওয়ার্ডে

দক্ষিণ ঘাটাসহ পৌর সদরের

প্রায় এলাকা পানিতে ডুবে

রয়েছে।

৫নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা

ব্যবসায়ী মোঃ কামরুল

জানিয়েছেন, তাদের এলাকার

পানি নিস্কাশনের যে খাল

রয়েছে বেশির ভাগ খাল দখল

করে গৃহ নির্মাণের কারণে মূলত

জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এজন্য

তিনি (কামরুল) পৌর

কর্তৃপক্ষকে দায়ী করেন।

পটিয়া পৌরসভার মেয়র

অধ্যাপক হারুনুর রশিদ সকাল

থেকে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা

পরিদর্শন করেন এবং

জলাবদ্ধতা নিরসনে তাৎক্ষনিক

পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা

করেন।

এ ব্যাপারে পটিয়া উপজেলা

নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল্লাহ

আলম মামুন বলেন, ক্ষতিগ্রস্থ

এলাকায় ত্রান সামগ্রী বিতরণ

করতে উপজেলা প্রশাসনের

উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

শীঘ্রই ক্ষতিগ্রস্থ ও পানিবন্দি

মানুষের তালিকা করে ত্রান

সামগ্রী পৌছনো হবে।

অন্যদিকে কর্ণফুলী উজেলার

জুলধা, চরপাথরঘাটা,

শিকলবাহা, চরলক্ষ্যা, বড়উঠান

বেশ কিছু এলাকায় কর্ণফুলী

নদীর জোয়ারের পানি ঢুকে

সাধারণ মানুষের চলাচলে

দুর্ভোগের সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ

করে জুলধা ইউনিয়নের

ডাঙ্গারচর গ্রামে হাটু পানিতে

বন্দী হয়ে পড়েছে। পানিবন্দী

এলাকা পরিদর্শণ করেছেন

কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাহী

কর্মকর্তা আহ্সান উদ্দিন মুরাদ।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
admin
লেখক / প্রতিবেদক

admin

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।