চট্টগ্রামে ১৫৯ ধারায় মামলার জরিমানার নামে সদরঘাট ট্রাফিক পুলিশদের গলাকাটা চাঁদাবাজি

ক্রাইম প্রতিবেদক, চট্টগ্রামঃ চট্টগ্রামে মামলার বিপরীতে আদায় করা জরিমানার টাকা নিজের পকেটে ভরছেন ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা। পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে রাস্তায় গাড়ি থামিয়ে চাঁদাবাজি ও টোকেন বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে নগরীর ট্রাফিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। জরিমানার অর্থ লুটপাট বন্ধে সিএমপির ট্রাফিক ব্যবস্থাকে অনলাইনের আওতায় আনার প্রস্তাব থাকলেও তা বাস্তাবায়নে গড়িমসি করা হচ্ছে।

যাত্রীকল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী দি নিউজকে কে বলেন, ‘সিএমপিতে চালকদের কাছ থেকে মামলা বাবদ পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হলে সেখানে সরকারের কোষাগারে ৫০০ টাকার বেশি জমা হয় না। জরিমানার ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ অর্থ লুটপাট হচ্ছে। পুলিশ জরিমানার টাকা নগদে আদায় করার কারণেই এমনটা হচ্ছে।


এদিকে ট্রাফিক পুলিশের টোকেন বাণিজ্যের ফলে অনুমোদন ছাড়াই নগরীতে সৃষ্টি হচ্ছে নতুন নতুন গাড়ির রুট। বিআরটিএ’র অনুমোদনহীন টুকটুকি, টমটম, ইজিবাইক, ব্যাটারি রিকশাসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন পুলিশকে চাঁদা দিয়ে নগর দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। এতে নগরীতে যানজট বেড়ে চলেছে। নগরীর প্রবেশদ্বার কাপ্তাই রাস্তার মাথা, কর্ণফুলী নতুন ব্রিজ মোড় এবং অক্সিজেন মুরাদপুর এলাকায় এ টোকেন বাণিজ্য বেশি হচ্ছে। ইদানীং গ্রামের সিএনজি অটোরিকশাও টোকেন নিয়ে নগরীর বাস টার্মিনাল, বহদ্দারহাট, নতুন ব্রিজ, মুরাদপুর এবং অক্সিজেন এলাকায় প্রবেশ করছে।

নগরীর হালিশহর এলাকার বাসিন্দা টেম্পো চালক মো. ফয়সাল হোসেন দি নিউজকে জানান, তিনি চট্টগ্রাম হালিশহর টু মার্কেট সড়কে চলাচলকারী টেম্পো (নম্বর চট্ট-মেট্রো-ফ-১১-০৪৭২) চালান। রিয়াজুদ্দিন বাজারের সামনে থেকে তার গাড়িটি আটক করে ট্রাফিক সার্জেন্ট ফখরুদ্দিন আজাদ। এরপর গাড়িটি ‘টো’ করা হয়েছে জানিয়ে চালক ফয়সাল হোসেনকে ধরিয়ে দেয়া হয় স্লিপ। পরে গাড়িটি নিয়ে যাওয়া হয় মনসুরাবাদ ডাম্পিং মাঠে। ওই দিনই স্লিপ নিয়ে চালক ট্রাফিক উত্তর বিভাগের প্রসিকিউশন অফিসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করলে, বলা হয় গাড়ি ছাড়িয়ে নিতে রেকার ভাড়াসহ সাড়ে ১৩ হাজার টাকা লাগবে। দু’তিন দিন পর দরকষাকষি করে সাড়ে ৯ হাজার টাকা জরিমানা দিয়ে গাড়িটি ছাড়িয়ে নেন। এর মাত্র তিন সপ্তাহের মধ্যে ২৫ জুন নিউমার্কেটের সামনে থেকে পুনরায় একই গাড়িটি আটক করেন সার্জেন্ট মো. আরাফাত হোসেন। প্রথমে সার্জেন্ট আরাফাত চালকের কাছে দুই হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা না দেয়ায় পুনরায় ‘টো’ করা হয় টেম্পো গাড়িটি। গাড়িটি নিয়ে যাওয়া হয় সদরঘাট ডাম্পিং মাঠে। এবার গাড়িটি ছাড়িয়ে নিতে আট হাজার ৮০০ টাকা লাগবে বলে ট্রাফিক অফিসের সংশ্লিষ্টরা চালককে জানিয়েছেন।

চালক ফয়সাল হোসেন দি নিউজকে কে জানান, প্রথমবার টাকা দিয়ে ছাড়ালেও ট্রাফিক অফিস টাকা জমা নেয়ার কোনো রশিদ দেয়নি। তা ছাড়া রেকার ভাড়াসহ টাকা আদায় করা হলেও গাড়িটি রেকারে করে নিয়ে যাওয়া হয়নি।

এ ব্যাপারে সিএমপিতে কর্মরত এক ট্রাফিক সার্জেন্ট নাম প্রকাশ না করে বলেন, ‘সিএমপির ট্রাফিক বিভাগে কর্মরত ট্রাফিক সার্জেন্টদের মামলা দিতে অফিস থেকে চাপ দেয়া হচ্ছে। ট্রাফিকের উত্তর ও বন্দর জোনে প্রায় ১১০ জন সার্জেন্ট কর্মরত। প্রত্যেক সার্জেন্টকে প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট হারে যানবাহনের বিরুদ্ধে মামলা দিতে বাধ্য করা হচ্ছে।

ঢাকায় আগে থেকে ট্রাফিক পুলিশের কার্যক্রম অনলাইন সিস্টেমের মধ্যে রয়েছে। জরিমানার টাকা আদায় করা হয় ব্যাংকের মাধ্যমে। মামলাও হয় অনলাইনে। এতে গ্রাহকরা সুফল পাচ্ছে। একইভাবে হয়রানি রোধে সিএমপির ট্রাফিক ব্যবস্থাকেও অনলাইন সিস্টেমের আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েও চালু করা যায়নি। সিএমপির এক ট্রাফিক কর্মকর্তা জানান, ‘সিএমপির ট্রাফিক ব্যবস্থায় অনলাইন কার্যক্রমের ঘোর বিরোধিতা করেন কিছু অসাধু কর্মকর্তা। তাদের অনিচ্ছার কারণে এ প্রক্রিয়া ঝুলে আছে।’ সংশিষ্টরা জানান, ট্রাফিক ব্যবস্থায় অনলাইন কার্যক্রম চালু হলে প্রত্যেক সার্জেন্টের কাছে একটি করে ‘পান্স’ মেশিন থাকবে। ওই মেশিনের মাধ্যমে মামলা এন্ট্রি করা হবে। মামলার জরিমানার স্লিপও ওই মেশিনের মাধ্যমে বের হবে। ওই স্লিপের জরিমানার টাকা ব্যাংকে পরিশোধ করবেন গ্রাহকরা। পরে পরিশোধ করার স্লিপ ট্রাফিক অফিসে জমা দিলে পাওয়া যাবে জব্দ করা গাড়ির কাগজপত্র। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক অলি আহমেদ দি নিউজ কে জানান, ট্রাফিক পুলিশের যানবাহনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার বিপরীতে আদায় করা জরিমানার অর্থের রশিদ সবাইকে দেয়া হচ্ছে না। রশিদের মাধ্যমে যেগুলো জমা হচ্ছে সেগুলো কোষাগারে যাচ্ছে, আর রশিদ ছাড়া যেগুলো নিচ্ছে সেগুলোর ব্যাপারে আমি বলতে পারব না।

এ প্রসঙ্গে সিএমপির ট্রাফিক উত্তর বিভাগের (টিআই-প্রশাসন) কানু চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, ‘জরিমানার টাকা গ্রাহকদের কাছ থেকে যা আদায় করা হচ্ছে তাই জমা দেয়া হচ্ছে। ট্রাফিক ব্যবস্থাকে অনলাইনের আওতায় আনার কোনো উদ্যোগ আমার চোখে পড়েনি। এ ছাড়া ঢাকায় ট্রাফিকের জরিমানার টাকা কিভাবে আদায় করা হয় তাও আমার জানা নেই।’

অন্যধিকে একটি গণমাধ্যমের ক্রাইম প্রতিবেদক জানান, ০৬ ই নভেম্বর সকাল সাড়ে ১১টার দিকে নগরীর নন্দনকানন বৌদ্ধ মন্দির এলাকা থেকে অনুসন্ধানি রিপোর্ট করার উদ্দেশ্য বের হলে ট্রাফিক সার্জেন্ট আরিফুল, কোড নং ২৩৭ তার মোটর সাইকেলের যাবতীয় ডকুমেন্টস দেখার পর মোটর সাইকেল ইন্সুরেন্সের তারিখ ১ মাস অতিক্রম হওয়াতেই মোটরযান আইন সংসোধনী ১৯৮৩ মোতাবেক ১৫৯ ধারায় মামলা দিয়ে দেন। এবং সার্জেন্ট আরিফুল উক্ত প্রতিবেদককে বলেন যে ১৬ ই নভেম্বর সদরঘাট ট্রাফিক অফিসে যেতে। এর আগে নই। উক্তদিন বন্ধ থাকা স্বর্থ জেনেও ট্রাফিক অফিস (সদরঘাট) সকাল ৯ টা ১৭ ই গেলে অফিস বন্ধ থাকেন এবং পরদিন ১৭ তারিখ টি আই প্রশাসন বরাবর মামলা সংসোধনীর হনৌ আইনকে সম্মান করে লিখিত আবেদন করলে ২০০০ টাকা দাবি করেন সদরঘাট উপ-পুলিশ কমিশনার হারুন-উর-রশীদ হাযারী (ট্রাফিক-উত্তর) কিন্তু মা প্রকাশনীর ট্রাফিক আইন এম আমিন উল্লাহ মেজুর লিখিত বইয়ে উল্লেখ আছে ১৪ নং পৃষ্টার ১২ নং রুলে বীমা ব্যতীত গাড়ী চালানো জরিমানা ৭৫০ টাকা যার ধারা নং ১৫৫। কিন্তু ১৯৮৩ সনের সংসোধনী ১৫৯ ধারার কোন নিয়ম কানুন উল্লেখিত নেই বইটিতে। কিন্তু পুলিশরা গাড়ি ধরে জরিমানার নামে মামলা দিয়ে গাড়িচালকদের থেকে বিপুল পরিমান অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন।

উক্ত প্রতিবেদক দি নিউজকে আরো বলেন, তার গাড়ির ইন্সুরেন্সের তারিখ ভূলবশত মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে তা তো সংসোধনীর সুযোগ ট্রাফিক সার্জেন্টকে দিতে হবে। প্রত্যেক আইনে অপরাধের সংসোধনী আছে। এবং জনগনের নিরাপত্তার জন্য পুলিশ প্রশাসন। চাঁদাবাজীর জন্য নই। কিন্তু দিনদুপুরে জরিমানার নামে মামলা ১৫৫ ধারা আইনের মামলাটি ১৫৯ ধারায় দিয়ে গলাকাটা বানিজ্য করছেন সদরঘাট ট্রাফিক পুলিশ প্রশাসন। সংশোধনীর জন্য টি আই প্রশাসন বরাবর আবেদন করলেও তিনি তা গ্রহণ ও গ্রাহ্য করেননি। তাহলে বলা যায় টি আই প্রশাসন সংসোধন করার জন্য চেয়ারে বসেনি, গলাকাটা চাঁদার জন্য বসছে। আর হ্যা, পুলিশ সার্জেন্ট আরিফুল(২৩৭) ১৬ই নভেম্বর বন্ধ জানেন তবু ও কেন সে সদরঘাট থানায় যেতে বললেন। এটাও তো একজন পুলিশের মামলা দেওয়ার সময় নির্দিষ্ট তারিখটি দেখে শুনে বুঝে দেয়া উচিত।

এরপর উপ-পুলিশ কমিশনার(ট্রাফিক-উত্তর) হারুন-উর-রশিদ হাযারীর (সিএমপি) সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ২০০০ টাকা দাবি করেন। কিন্তু আইনে ১৫৫ ধারায় ৭৫০ টাকার পরিবর্তে ২০০০ টাকা কেন নেওয়া হচ্ছে যানতে চাইলে তিনি দি নিউজ এর সাথে কোন ধরনের সাথে কথা বলতে চাইনি।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
admin
লেখক / প্রতিবেদক

admin

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।