× Banner
সর্বশেষ
জাতীয় স্মৃতিসৌধে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা বান্দরবানে সাঙ্গু নদীতে নৌকাডুবির দুই দিন পর নিখোঁজ পর্যটকের লাশ উদ্ধার সাগরে লঘুচাপ, সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত আদালতে রাষ্ট্রপ্রতির বিরুদ্ধে মামলা করা যায় না – স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৪৬৩, মামলা ৪০ ১৫ বছরের কমবয়সী ও দূরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত ব্যক্তিরা হজে যেতে পারবে না ‘সেনাসদর নির্বাচনি পর্ষদ-২০২৬’ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী মোদির সেই ‘ফ্রেন্ডস’ বলা ভিডিওর বিশ্বরেকর্ড আজ বঙ্গভবন ছাড়ছেন সাহাবুদ্দিন, উঠবেন গুলশানে নিজ বাসায় সার্ককে আরও গতিশীল করতে চায় বাংলাদেশ-মালদ্বীপ

চট্টগ্রাম মসজিদ নিয়ে নাটকিয়তার নেপথ্যে ওসি মাহফুজ

admin
হালনাগাদ: মঙ্গলবার, ৯ মে, ২০১৭

রাজিব শর্মা, চট্টগ্রাম :: মসজিদ পরিচালনা নিয়ে যতসব নানা নাটকিয়তা শুরু হয়েছে হালিশহরে। নেপথ্যে কাজ করছেন ওসি মাহফুজুর রহমান। বিএনপি-জামায়াতের পক্ষ নিয়ে কাজ করছেন এমন অভিযোগ করেছেন থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার আলহাজ্ব ফয়েজ আহমদ।

তিনি বলেছেন, ওসি সরকারী প্রশাসনের লোক হয়ে কাজ করছেন বিরোধী দলের হয়ে। যার প্রমান বড়পুকুর পাড় জামে মসজিদের ঘটনা। ওইদিন (৫মে) মসজিদ এলাকায় কোন ঘটনা ঘটেনি। হয়েছে দু’পক্ষের মধ্যে হৈ হুল্লোল। এর বেশি কিছু হয়নি। এঘটনাকে পুঁজি করে তিনি নিয়েছেন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা। অভিযোগ আছে, তিনি হালিশহর থানায় যোগ দেয়ার পর থেকেই নানা ঘটনা ঘটছে। অবনতি হচ্ছে আইন শৃংখলা পরিস্থিতির।

দীর্ঘদিন ধরে  বড়পুকুর পাড় জামে মসজিদটি জবর দখল করে আছেন স্থানীয় এয়াকুবের পরিবার। মসজিদের কথিত মোতোয়াল্লী মোজাম্মেল হক হচ্ছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সাবেক একান্ত সহকারী সচিব।  দখল পাকাপোক্ত করার জন্য তিনি বসে নিয়েছেন ওসি মাহফুজুর রহমানকে। কথিত আছে তিনি আগে থেকেই বিএনপি-জামায়াত ঘরনার লোক। দাঙ্গা বাঁধাতে তারা ওসির সাথে কয়েক দফা আগে পরে গোপন বৈঠকও করেন। বুরি ভোজও খেয়েছেন। সেখানে মোটা অংকের দফা রফাও হয়েছে বলে অভিযোগ।

স্থানীয় নির্ভরযোগ্য সুত্র জানায়, মসজিদ নিয়ে বড় ধরনের ধর্মীয় দাঙ্গা বাঁধাতে না পারলেও এর পরদিন ৬মে ওসি গোপন বৈঠকে মিলিত হন মরহুম এয়াকুব আলীর পরিবারের সদস্যদের সাথে রামপুকুর ফকির গলিতে। সেখানে মোজাম্মেল গংরা ওসিকে ভালভাবে বুরিভোজও খাওয়ান। মেহমানদারী করতে দেখা গেছে এয়াকুব আলীর নাতি নিয়াজ মুহম্মদ আজাদকে। ওই বুরিভোজে স্থানীয় কাউন্সিলরও উপস্থিত ছিলেন।

সুত্র জানায়, ১৯৪৭সালে রামপুর এলাকার দানবীর মরহুম ছলিমুল্লা চৌধুরী তার নিজস্ব সম্পত্তির উপর বড়পুকুর জামে মসজিদটি প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি ইন্তেকাল করার পর ওয়ারিশরাই মসজিদটি পরিচালনা করে  আসছিল। এভাবে তারা ১৯৭৫সাল পর্যন্ত মসজিদটি পরিচালনা করেন। বঙ্গবন্ধু মারা যাওয়ার পর মসজিদটি আস্তে আস্তে দখল করে নেন এয়াকুব আলী কন্ট্রাক্টর নামে এক
ব্যক্তি। পরবর্তীতে তিনি তার ওয়াকফ স্টেটে অন্তর্ভুক্ত করে নেন জাল জালিয়াতের মাধ্যমে মসজিদটি। সাথে মসজিদের বিশাল সহায় সম্পত্তিও দখল করা হয়। তবে মসজিদের হাল ছাড়েননি আলহাজ্ব ফয়েজ আহমদ। তিনি দীর্ঘ ১৭বছর এলাকার কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করে গেলেও ক্ষমতার অপব্যবহার করে মসজিদটি দখলে নেননি। তিনি মসজিদটি ফিরে পেতে
শেষ পর্যন্ত আইনের আশ্রয় নেন।

হাইকোটে রিট আবেদন দায়েরের খবর জানার পর মোজাম্মেল হকগংরা ক্ষেপে যান। খুঁজতে থাকে সংঘাত বাঁধাতে। গত শুক্রবার মোজাম্মেল হকগংরা এক তরফাভাবে তারাবির হাফেজ নিয়োগের সিদ্বান্ত নেন। এর বিরোধীতা করেন বেশিরভাগ মুসল্লি। এনিয়ে ওইদিন মসজিদে উভয় পক্ষের মধ্যে বচসার ঘটনা ঘটে। তবে বড় ধরনের কোন ঘটনা না ঘটলেও মোজাম্মেল হকগংরা প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে থানায় মামলা টুকে দেয়। এতে আসামী করা হয় সাবেক কমিশনার আলহাজ্ব ফয়েজ আহমদ ও তার ছোট ভাই জাতীয় দৈনিক আজকের প্রভাত পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক নেছার আহমদসহ ১২জনকে। এঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। দুই পক্ষ এখন মুখোমুখি অবস্থানে বলে জানান স্থানীয়রা। পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ না হলে বড় ধরনের সংঘাতের আংশকা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য যে, মোজাম্মেল হকগংরা বিএনপি-জামায়াতের সেল্টার এবং ওসির সহায়তায় এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে যাচ্ছে।


এ ক্যটাগরির আরো খবর..